বাঁচা মরার ম্যাচে শেষ হাসি লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জের

বাঁচা মরার ম্যাচে শেষ হাসি লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জের
Vinkmag ad

মাঝারি মানের দল গড়েও বর্তমান রানার আপ লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জকে এবার খেলতে হয়েছে রেলিগেশন পর্ব। প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকতে ওল্ড ডিওএইচএসের বিপক্ষে লড়াইটা ছিল বাঁচা মরার। যে কারণে ভালোমানের আম্পায়ার, টিভি সম্প্রচার সহ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচ আয়োজনের দাবি ছিল ক্লাবটির। তাদের চাওয়াকে আমলে নিয়ে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) আজ (২২ জুন) মিরপুরেই সেরা আম্পায়ারদের দিয়ে ম্যাচ পরিচালনা করিয়েছে।

পয়েন্ট টেবিলে দুই দলের অবস্থান এমন ছিল যে দল জিতবে সে দলই প্রিমিয়ার লিগে টিকে থাকবে। অস্তিত্বের লড়াইয়ে শেষ হাসিটা লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জেরই। রেলিগেশন পর্বের আরেক দল পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাব আগেই ছিটকে গেছে দৌড় থেকে। ফলে আগামীকাল রুপগঞ্জ-পারটেক্স ম্যাচ কেবলই আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার।

আজ টস হেরে ব্যাট করতে নেমে আনিসুল ইসলাম ইমনের ফিফটিতে ১৮ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ওল্ড ডিওএইএসের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১১৭। বৃষ্টি আইনে লেজেন্ডস অ রুপগঞ্জের জন্য যা ১২২ রানের লক্ষ্যে পরিণত হয়। আজমির আহমেদ, সাব্বির রহমান, মেহেদী মারুফদের সাথে অধিনায়ক নাইম ইসলামের দারুণ ফিনিশিং ভূমিকায় ৫ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখেই জয় পায় রুপগঞ্জ।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে রুপগঞ্জ ২৯ রানেই হারায় দুই ওপেনার জাকের আলি অনিক (৮) ও আজমির আহমেদকে (১৫ বলে ২০)। তবে সাব্বির রহমান ও মেহেদী মারুফ তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৬১ রান। দুজনের ব্যাটে সহজ জয়ের পথেই হাঁটছিল দল, কিন্তু দুজনেই ফিরেছেনও পরপর দুই বলে।

পেসার আব্দুর রশিদের করা ১৪তম ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে মারুফ-সাব্বির ফেরেন সমান ৩০ রান (সাব্বির ৩১ বলে, মারিফ ২২ বলে) করে। দলের জয়ের জন্য তখনো প্রয়োজন ২৭ বলে ৩২। ওল্ড ডিওএইচএস বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে যা টপকাতে শেষ ওভার পর্যন্ত খেলতে হয় অধিনায়ক নাইম ইসলাম ও আল আমিন জুনিয়রকে।

১৬তম ওভারেই অবশ্য ১ চার ১ ছক্কায় ১৩ রান নিয়ে নাইম কাজ এগিয়ে নেন। দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়ে প্রথম বিভাগে অবনমন থেকে বাঁচিয়ে নাইম অপরাজিত ছিলেন ১৪ বলে ২৭ রানে। অপরাজিত আরেক ব্যাটসম্যান আল আমিনের রান ৭।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ওল্ড ডিওএইচএস হারায় ওপেনার রাকিন আহমেদকে (২)। তবে সেখান থেকে ৫৮ রানের জুটি গড়েন লিগে ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করা মাহমুদুল হাসান জয় ও আনিসুল ইসলাম ইমন। দফায় দফায় বৃষ্টি বাঁধা এড়িয়ে ইমন সাবলীল্ভাবে ব্যাট করে তুলে নেন ফিফটি। তবে টি-টোয়েন্টির সাথে বেমানান ৩২ বলে ২০ রানের ইনিংস খেলেন জয়।

পেসার হোসেন আলির বলে ফিরেছেন ইমন-জয় দুজনেই। শুরুতে জয়কে ফিরিয়ে ভাঙেন জুটি। লিগে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে ১২ বলের ব্যবধানে ফেরেন ইমন। নাবিল সামাদকে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৩৯ বলে ৬ চার ১ ছক্কায় খেলেন ৫১ রানের ইনিংস।

এরপর ১৮ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ওল্ড ডিওএইচএস ইনিংসে উল্লেখযোগ্য রান কেবল আলিস আল ইসলামের ব্যাটে। ১৬ বলে ২০ রানে ছিলেন অপরাজিত। ১২ বলে ১২ রান করে হোসেন আলির তৃতীয় শিকার হন রাইয়ান রহমান। শেষ পর্যন্ত দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১১৭। বৃষ্টি আইনে লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জের জন্য লক্ষ্য ঠিক হয় ১৮ ওভারে ১২২।

লিগে নিজের তৃতীয় ম্যাচ খেলতে নামা রুপগঞ্জ পেসার হোসেন আলি ২৩ রান খরচায় নেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট। ১২ রানে ২ উইকেট অধিনায়ক নাইম ইসলামের।

ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ১৪ বলে ২৭ রানের অপরাজিত ইনিংস, বল হাতে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার জিতেছেন লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ অধিনায়ক নাইম ইসলাম।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাব ১১৭/৬ (১৮), ইমন ৫১, রাকিন ২, জয় ২০, রায়ান ১২, মোহাইমিনুল ১, প্রীতম ০, আলিস ২০*, রাকিবুল ০*; নাবিল ৪-০-১৫-১, হোসেন ৩-০-২৩-৩, নাইম ২-০-১২-২

লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ ১২৪/৪ (১৭.১), আজমির ২০, জাকের ৮, সাব্বির ৩০, মারুফ ৩০, আল আমিন ৭*, নাইম ২৭*; রশিদ ৪-০-২২-৩, পায়েল ৩.১-০-১৯-১

ফলাফলঃ লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যচসেরাঃ নাইম ইসলাম (লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

এবার চোটে পড়ে সুপার লিগ থেকে ছিটকে গেলেন মুশফিক

Read Next

পদোন্নতি পেয়ে প্রধান কোচ হলেন ড্যানিয়েল ভেট্টোরি

Total
1
Share