রুবেল মিয়ার ব্যাটে জয়ে ফিরল প্রাইম ব্যাংক

রুবেল মিয়ার ব্যাটে জয়ে ফিরল প্রাইম ব্যাংক
Vinkmag ad

ছুটি নিয়ে সুপার লিগ না খেলে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সাথে সময় কাটাচ্ছেন মোহামেডান অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। যদিও রাউন্ড রবিন পর্বে নিষেধাজ্ঞার কারণে তাকে ছাড়াই খেলতে হয়েছে তিন ম্যাচ, তাকে ছাড়া জয়ও পেয়েছে মোহামেডান। তবে সাকিব বিহীন দলটি যেন সুপার লিগে আরও এলোমেলো, বোলিং আক্রমণে অভাব অনুভব হচ্ছে হাতে চোট পাওয়া পেসার তাসকিন আহমেদেরও।

সুপার লিগে টানা দুই হার সঙ্গী হল শুভাগত হোমের নেতৃত্বাধীন দলটির। আবাহনীর বিপক্ষে ৬০ রানে হারের পর আজ (২১ জুন) মিরপুরে প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে মোহামেডান হেরেছে ৫ উইকেটে। টানা দুই ম্যাচে বল হাতে ৫০ এর বেশি রান খরচ করলেন বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার রনি।

আগে ব্যাট করে পারভেজ হোসেন ইমনের এনে দেওয়া উড়ন্ত সূচনার পরও খুব বড় সংগ্রহ পায়নি মোহামেডান। শেষদিকে কিছু ছোট তবে কার্যকরী ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৫৪ রানের পুঁজি সাদা-কালো শিবিরের। জবাবে রুবেল মিয়ার ঝড়ো ব্যাটিংয়ের পরও মাঝে কিছুটা ভুগতে থাকা প্রাইম ব্যাংকের জয়ের পথ সহজ করে দেন মোহামেডান পেসার আবু হায়দার।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রাইম ব্যাংক ওপেনার রনি তালুকদার ফিরেছেন ৯ রান করে। তবে তার বিদায়ের পর আরেক ওপেনার রুবেল মিয়া ও অধিনায়ক এনামুল হক বিজয় ৬৪ রানের জুটিতে দলের জয়ের পথটা সহজ করেন। জুটিতে বিজয়ের অবদান কেবল ১৪ রান। বিজয়কে এক পাশে রেখে রুবেল তুলে নেন স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে নিজের দ্বিতীয় ফিফটি।

আবু হায়দার রনির করা ৯ম ওভারে ৩ চার ১ ছক্কায় প্রাইম ব্যাংক স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ২১ রান, যার ২০ এসেছে রুবেলের ব্যাট থেকে। পরের ওভারে শুভাগত হোমকে ডাউন দ্য ট্র্যাকে এসে ছক্কা মারেন এনামুল হক বিজয়। কিন্তু পরের বলে একই ভঙ্গিতে উড়িয়ে মারতে গিয়ে হন স্টাম্পড। ১০ ওভারে প্রাইম ব্যাংকের স্কোরবোর্ডে ২ উইকেটে ৯০ রান।

সহজ জয়কেও কিছুটা কঠিন হয়ে যায় ৪০ বলে ৯ চার ২ ছক্কায় ৬৫ রান করে রুবেল বিদায় নিলে। রান আউটে কাটা পড়ে বেশিক্ষণ টিকেননি মোহাম্মদ মিঠুনও (১৭)। শেষ ৫ ওভারে হাতে ৬ উইকেট নিয়ে সমীকরণ দাঁড়ায় ৩৭ রান।

তবে এমন সহজ সমীকরণ শেষ ২ ওভারে পরিণত হয় ২০ রানে। ততক্ষণে সাজঘরের পথ ধরেছেন নাহিদুল ইসলামও (৫)। কিন্তু ক্রিজে সেট হয়ে যাওয়া রকিবুল হাসান ফিনিশিংটা করেছেন দারুণভাবে। আবু হায়দার রনির করা ১৯তম ওভারে নাইম হাসানকে নিয়ে ৪ টি চারের মারে নিয়ে নেন ১৯রান।

জয়সূচক রান আসে ২০তম ওভারের প্রথম বলেই। ৫ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে জয় পাওয়া ম্যাচে ২৪ বলে ৩০ রানে রকিবুল ও ৬ বলে ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন নাইম।

আগের ম্যাচের মত এদিনও রীতিমত রান খরচে উদারতা দেখিয়েছেন আবু হায়দার। আবাহনীর বিপক্ষে ৪ ওভারে ৫০ দেওয়ার পর আজ খরচ করলেন ৪ ওভারে ৫৪। মোহামেডানের হয়ে একটি করে উইকেট নেন আসিফ হাসান, আবু জায়েদ রাহি ও শুভাগত হোম।

সুপার লিগের প্রথম ম্যাচে একাদশে সুযোগ না পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরেই ঝড়ো ইনিংস খেললেন ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। তার ইনিংসে ভর করেই প্রথম ৫ ওভারে ৫৭ রান তুলে ফেলে মোহামেডান। ৫৮ রানের উদ্বোধনী জুটিতে আরেক ওপেনার আব্দুল মজিদের অবদান ১২ রান।

অন্য প্রান্তে তান্ডব চালান ইমন, বিশেষ করে পঞ্চম ওভারে অসহায় করে ফেলেন তার যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের সতীর্থ শরিফুল ইসলামকে। বাঁহাতি এই পেসারকে হাঁকান সমান দুইটি করে চার, ছক্কা। এর আগেও হাঁকিয়েছেন তিনটি ছক্কা। তবে ৬ষ্ঠ ওভারে আক্রমণে এসেই তাকে থামান মুস্তাফিজুর রহমান।

২০ বলে ২ চার, ৫ ছক্কায় ৪৫ রান করে ইমন ফেরার পরই অবশ্য বিপর্যয়ে পড়ে মোহামেডান। মিড অফে বেশ খানিকটা লাফিয়ে ইমনের ক্যাচ এক হাতে লুফে নেন শরিফুল। ৯ রানের ব্যবধানে আরও দুই উইকেট হারায় মোহামেডান। আগের ম্যাচে খালি হাতে ফেরা শামসুর রহমান করতে পেরেছেন মাত্র ৩, ওপেনার মজিদ থেমেছেন ১৪ রানে।

ইরফান শুক্কুরের সাথে ২৫ রানের জুটি গড়লেও ৩ রানের বেশি অবদান রাখতে পারেননি নাদিফ চৌধুরী। নাদিফের পর মাহমুদুল হাসান লিমনের সাথে ভুল বুঝাবুঝিতে দ্রুত ফিরতে হয় শুক্কুরকেও। ১৯ বলে ২৪ রান করা এই বাঁহাতিই ব্যাটসম্যানেরই অবশ্য দায়টা নিতে হবে, লিমনের কোনো কল না থাকা স্বত্বেও রান নিতে গিয়েছিলেন।

দারুণ শুরুর পরও ৯৫ রানে ৫ উইকেট নেই, সেখান থেকে ৪৯ রানের জুটিতে দলকে পথ দেখান অধিনায়ক শুভাগত হোম ও লিমন। লিগে বেশ কয়েকটি কার্যকরী ইনিংস খেলা শুভাগত এ দিন মুস্তাফিজের দ্বিতীয় শিকার হওয়ার আগে করেন ১৫ বলে ২৫ রান। লিমন শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ২৯ বলে ৩২ রানে। মোহামেডান পায় ৭ উইকেটে ১৫৪ রানের সংগ্রহ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ১৫৪/৭ (২০), মজিদ ১৪, ইমন ৪৫, শুভ ৩, শুক্কুর ২৪, নাদিফ ৩, মাহমুদুল ৩২*, শুভাগত ২৫, রনি ১, আসিফ ১*; মনির ৪-০-২৬-১, শরিফুল ৩-০-২৭-২, মুস্তাফিজ ৪-০-২২-২, নাইম ৩-০-২৪-১

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ১৫৫/৫ (১৯.১), রনি ৯, রুবেল ৬৫, বিজয় ১৪, মিঠুন ১৭, রাকিবুল ৩১*, নাহিদুল ৫, নাইম ১১*; আসিফ ৪-০-২৯-১, রাহি ৩.১-০-২৪-১, শুভাগত ৪-০-২৪-১

ফলাফলঃ প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ রুবেল মিয়া (প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ড্র’য়ের দিকে এগোচ্ছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল?

Read Next

মহারাজের হ্যাটট্রিক, উইন্ডিজকে হোয়াইটওয়াশ করল দক্ষিণ আফ্রিকা

Total
7
Share