জিম্বাবুয়ে সফরের আগে শঙ্কা নেই তামিম-লিটন-তাসকিনদের নিয়ে

যেকারণে তাসকিনকে দিয়ে ১০ ওভার বল করাননি তামিম
Vinkmag ad

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের আগে জাতীয় দলের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারই চোটে পড়েছেন। তবে সিরিজ শুরু হতে দুই সপ্তাহের বেশি সময় থাকায় তাদের কাউকে নিয়েই শঙ্কা দেখছে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবির) মেডিকেল বিভাগ।

হাঁটুর চোটে পড়ে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে চলমান বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) সুপার লিগ খেলা হচ্ছে না তামিম ইকবালের। চোট গুরুতর না হলেও জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ককে অবশ্য জিম্বাবুয়ে সফর সামনে বিশ্রামেই রাখছে মেডিকেল বিভাগ। ফিল্ডিং করতে গিয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পেসার তাসকিন আহমেদও হাতে চোট পান। ৫ সেলাই নিয়ে তাসকিনও ছিটকে গেছেন সুপার লিগ থেকে।

কোমরে ব্যথা পেয়ে মাঝে দুই ম্যাচ না খেললে বর্তমানে ফিট প্রাইম ব্যাংকের হয়ে খেলা বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। তবে কব্জির চোটে পড়া আবাহনীর লিটন দাস লিগে খেলতে পারেননি কোনো ম্যাচই। তবে তারা সবাই জিম্বাবুয়ে সফরের দল থেকে বাদ পড়ার মত অবস্থায় নেই বলছেন বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীস চৌধুরী।

আজ (১৯ জুন) মিরপুরে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘ এদের (চোটে পড়া তামিম, লিটন, মুস্তাফিজ, তাসকিন) প্রত্যেকটা রিকভারির জন্য আমাদের হাতে ২-৩ সপ্তাহ সময় আছে। আমি মনে করি ২-৩ সপ্তাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট সময়। এজন্য এই চারজনের কারও অংশগ্রহণের ব্যাপারে আশঙ্কা দেখছি না।’

নির্দিষ্ট করে তামিম প্রসঙ্গে দেবাশীস চৌধুরী বলেন, ‘তামিম গত কয়দিন ধরে ওর হাঁটুতে ব্যথার কথা বলছিল। সমস্যার ব্যাপারে আমাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছিল। তিন দিন আগে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় আমরা সবাই মিলে মনস্থির করেছি- ভবিষ্যতে পারফরম্যান্সের স্বার্থে এই চোট এখনই পরিচর্যা দরকার। সে মোতাবেক ও এখনই খেলা থেকে বেরিয়ে আসে। ও সার্বক্ষণিক ফিজিওদের তত্ত্বাবধানে আছে, বিশ্রামে আছে।’

‘আশা করছি পরিপূর্ণ বিশ্রাম নিশ্চিত করতে পারলে ৪-৫ দিনের মধ্যে ব্যথার তীব্রতা কমে আসবে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্ক্যান দরকার হলে আমরা করব। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে পরিপূর্ণ বিশ্রাম নিলে ভালোই সেরে উঠবে এবং জিম্বাবুয়ে সফরে সমস্যা হওয়ার শঙ্কা নেই এ মুহূর্তে।’

তাসকিন প্রসঙ্গে বিসিবির এই চিকিৎসক বলেন, ‘তাসকিনের হাতে বলের একটা আঘাতে নন-বোলিং হ্যান্ডের ফার্স্ট ওয়েভ স্পেস স্প্লিট হয়। অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় আঙুলের মাঝখানে ছিঁড়ে যায়। এটা ওর আগেই ছিল, নতুন করে আবার হয়েছে। কসমেটিক সার্জন দ্বারা যথাযথভাবে তার সার্জারি করা হয়েছে। যেহেতু নন-বোলিং আর্ম, ওর বোলিংয়ে সমস্যা হওয়ার কোনো কারণ দেখছি না। ২-১ দিন বিশ্রাম নেওয়ার পর ওর বোলিং আবার নতুন করে শুরু করতে পারবে। আশা করছি জিম্বাবুয়ে সিরিজে প্রভাব পড়বে না।’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে বাদ পড়ার পর থেকে এখনো কোনো ম্যাচ খেলেননি লিটন দাস। তবে জিম্বাবুয়ে সফরে তার বাদ পড়ার ব্যাপারে কোনো শঙ্কা দেখেন না বিসিবির প্রধান চিকিৎসক।

তিনি যোগ করেন, ‘লিটন গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে রিস্ট স্ট্রেইনের সমস্যায় ভুগছেন। গতকাল পর্যন্ত ক্লাবের ফিজিওর যে রিপোর্ট পেয়েছি সেখানে দেখা যাচ্ছে ওর দুই হাতের শক্তি এবং দুই হাতের অন্যান্য ফিজিওথেরাপি এসেসমেন্ট প্রায় স্বাভাবিক মাত্রায় চলে এসেছে। এখন দরকার ম্যাচ প্র্যাকটিস। যখনই লিটন প্র্যাকটিস করবে বা ম্যাচ খেলবে তখন বোঝা যাবে ইনজুরির বর্তমান অবস্থা। কিন্তু ফিজিওথেরাপির রিপোর্ট অনুসারে ইনজুরি রিকভারির পথে আছে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ডিপিএল সুপার লিগঃ ১ ম্যাচ পরিত্যক্ত, ২ ম্যাচ স্থগিত

Read Next

দারুণ শুরুর পরও স্বস্তিতে নেই ভারত

Total
15
Share