রোমাঞ্চকর ম্যাচে শেষ হাসি হাসল আবাহনী

রোমাঞ্চকর ম্যাচে শেষ হাসি হাসল আবাহনী
Vinkmag ad

আগেই সুপার লিগ নিশ্চিত হওয়া আবাহনীর জন্য ম্যাচটা যতটা না গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার চাইতে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জের জন্য। রেলিগেশন এড়াতে এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিলনা নাইম ইসলামের দলের। তবে ব্যাটে বলে শক্তিশালী আবাহনীকে ভালো জবাব দিয়েও হারই সঙ্গী দলটির। পয়েন্ট টেবিলের ১০ম অবস্থানে থেকে লড়তে হবে রেলিগেশন পর্বে।

টস জিতে আগে ব্যাট করা লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ জাকের আলির ফিফটির সাথে সাব্বির রহমান, আল আমিন জুনিয়রদের ছোট তবে কার্যকরী ইনিংসে বৃষ্টিতে ১৮ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৫ উইকেটে ১৬২ রানের সংগ্রহ পায়। বৃষ্টি আইনে আবাহনীর জন্য লক্ষ্য ১৬৪। জয়ের পথে বেশ কয়েকবার শঙ্কা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত নাইম শেখের ব্যাটে ২ বল আগেই লক্ষ্যে পৌঁছায় আবাহনী।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৪.২ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে আবাহনীর স্কোরবোর্ডে উঠে ৩৫ রান। ১৬ বলে ২২ রানে মুনিম শাহরিয়ারকে ফেরান নাবিল সামাদ। অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম এদিনও খুব বেশি দূর যেতে পারেননি। ১৮ বলে ২০ রানে তাকে এল্বিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন সানজামুল ইসলাম। মাঝে ১৯ বলে ২৯ রান করা নাজমুল হোসেন শান্তকে ফিরতি ক্যাচে বিদায় করেন মোহাম্মদ শহীদ।

১২.১ ওভারেই ৪ উইকেট হারিয়ে ১০০ রান আবাহনীর স্কোরবোর্ডে। এদিন যারাই ব্যাট হাতে নেমেছেন বলের সাথে রানের ব্যবধান কমিয়েছেন। মাত্র ১২ বলে ২১ রান আসে আফিফ হোসেনের ব্যাট থেকে। মুক্তার আলির বলে লং অফে সাব্বির রহমানকে ক্যাচ দেওয়ার আগে হাঁকিয়েছেন ৪ টি চার।

মোহাম্মদ শহীদের দ্বিতীয় শিকার হয়ে মোসাদ্দেক হোসেন ফেরেন ১১ বলে ১৫ রান করে। ১১৩ রানে আবাহনী যখন ৫ উইকেট হারায় তখনো জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৯ বলে ৫১।

এমন সমীকরণ সহজেই মেলান টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডারে অবনমন হওয়া নাইম শেখ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৩৮। ১৬তম ওভারে আসে ১৬ রান, ১৭তম ওভারে ১২। অবশ্য ১৭তম ওভারের শেষ বলে রান আউটে কাটা পড়তে পারতেন নাইম শেখ, আম্পায়ার আবেদন নাকচ না করলে ফিরতেন ২৯ রানে।

শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১০ রান, মোহাম্মদ শহীদের প্রথম ২ বলে আসে ৩ রান, তৃতীয় বলে কাউ কর্নার দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে জয়ের পথটা এগিয়ে নেন নাইম শেষ। চতুর্থ বলে জয় সূচক রান নিয়ে মাতে উচ্ছ্বাসে। ২ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে জয়ের পথে নাইম অপরাজিত ছিলেন ১৯ বলে ৩৯ রানে। ১১ বলে অপরাজিত ছিলেন সাইফউদ্দিন।

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ৮ রান করে বিদায় নেন ওপেনার মেহেদী মারুফ। তবে তার বিদায়ের পর সাব্বির রহমান ও জাকের আলি অনিকের জুটিতে পথেই ছিল রুপগঞ্জ। দুজনের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে উঠে ৫৮ রান। এরপরই নামে বৃষ্টি, বৃষ্টি শেষে কমে ম্যাচের দৈর্ঘ্য। ১৮ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে জাকের-সাব্বির জুটি গড়েন ৭৯ রানের।

আগেরদিনই শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের ইলিয়াস সানির সাথে বিবাদে জড়িয়ে অভিযুক্ত হওয়া সাব্বির খেলেন ২৭ বলে ৩৫ রানের ইনিংস। মেহেদী মারুফের পর সাব্বিরকেও ফেরান বাঁহাতি পেসার মেহেদী হাসান রানা।

সাব্বির বিদায় নিলেও টুর্নামেন্টে প্রথম ফিফটির দেখা পেয়ে যান জাকের আলি অনিক। ৪২ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৫২ রান করে যখন আউট হন তখন দলীয় সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৩৪। মাঝে আল আমিন জুনিয়রের ব্যাট থেকে আসে ১৪ বলে ২৬ রান।

শেষদিকে আর কোন উইকেট না হারিয়ে অধিনায়ক নাইম ইসলাম (১৬*) ও মুক্তার আলির (৫ বলে ১৪*) ২৮ রানের জুটি। তাতে রুপগঞ্জ পায় ৫ উইকেটে ১৬২ রানের পুঁজি। মেহেদী হাসান রানা সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন ৩৭ রান খরচায়। ৩৬ রান খরচায় মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের শিকার ২ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ ১৬২/৫ (১৮), মারুফ ৮, জাকের ৫২, সাব্বির ৩৫, গাজী ১, আল আমিন ২৬, নাইম ১৬*, মুক্তার ১৪*; সাইফউদ্দিন ৪-০-৩৬-২, রানা ৪-০-৩৭-৩

আবাহনী লিমিটেড ১৬৪/৫ (১৭.৪), শান্ত ২৯, মুনিম ২২, মুশফিক ২০, আফিফ ২১, মোসাদ্দেক ১৫, নাইম ৩৯*, সাইফউদ্দিন ১৪*; নাবিল ৪-০-৩৪-১, শহিদ ৩.৪-০-৪০-২, মুক্তার ৪-০-৩০-১, সানজামুল ২-০-১৯-১

ফলাফলঃ আবাহনী লিমিটেড ৫ উইকেটে জয়ী (ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে)

ম্যাচসেরাঃ মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (আবাহনী লিমিটেড)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ইনজুরি ও অসুস্থতায় ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেন জার্ভিস

Read Next

ফাইনালের আগের দিন ভারতের একাদশ ঘোষণা

Total
1
Share