মিরপুরে শেখ জামালকে উড়িয়ে দিল আবাহনী

মিরপুরে শেখ জামালকে উড়িয়ে দিল আবাহনী

লিগে টি-টোয়েন্টি ঘরানার ইনিংস সেভাবে দেখা যাচ্ছিলো না বলে অনেকের কণ্ঠেই আক্ষেপের সুর। তবে আবাহনী লিমিটেডের শেষ দুই ম্যাচে আক্ষেপ ঘোচালেন মুনিম শাহরিয়ার নামের তরুণ তুর্কি। টানা দুই ম্যাচে হাঁকালেন ঝড়ো ফিফটি, মোহামেডানের বিপক্ষে হারের পর আবাহনীও তাতে পেল টানা দুই জয়। বৃষ্টি আইনে সোমবার শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবকে ৪৯ রানে হারায় তারা।

মুনিমের ৭৪ রানের সাথে নাজমুল হোসেন শান্তর অপরাজিত ৬৫ রানের ইনিংসে ১৮.২ ওভারেই ৪ উইকেটে ১৮১ রানের পুঁজি আবাহনীর স্কোরবোর্ডে। বৃষ্টি আইনে শেখ জামালের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৩ ওভারে ১৪৮। আবাহনীর বোলারদের তোপে ৯৮ রানেই থামতে হয় নুরুল হাসান সোহানের দলকে।

এ জয়ে আবারও পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় অবস্থানে আবাহনী। প্রাইম ব্যাংকের সমান ১৪ পয়েন্ট হলেও রান রেটে পিছিয়ে আছে দলটি।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারায় শেখ জামা ধানমন্ডি ক্লাব। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের করা ইনিংসের প্রথম ওভারেই ফেরেন ওপেনার সৈকত আলি (১)। তিন নম্বরে নেমে ১ চার ১ ছক্কায় ঝড়ের আভাস দিয়েও ৪ বলে ১১ রাম করে তানজিম হাসান সাকিবের বলে নাইম শেখকে ক্যাচ দেন জিয়াউর রহমান।

১৪ রানে ২ উইকেট হারানোর পর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ও ইমরুল কায়েস ২৮ রানের জুটি গড়েন। এটিই তাদের সর্বোচ্চ রানের জুটি। বাঁহাতি পেসার মেহেদী হাসান রানা ইনিংসের পঞ্চম ওভারে ইমরুল (৮), সোহান (১১ বলে ২২) ও তানভির হায়দার (১) কে বিদায় করলে ৪৩ রানেই ৫ উইকেত হারায় শেখ জামাল।

সেখান থেকে আর জয়ের স্বপ্ন দেখা সম্ভব হয়নি দলটির। শেষদিকে মোহাম্মদ এনামুল হক ২৩ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থেকে কেবল হারের ব্যবধান কমিয়েছেন। ৮ উইকেটে ৯৮ রানে শেষ হয় শেখ জামালের ইনিংস। লিগে এটি তাদের চতুর্থ পরাজয়।

রানার ৩ উইকেটের সাথে দুইটি শিকার আরাফাত সানির, একটি করে নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তানজিম হাসান সাকিব ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আবাহনী ইনিংসের দুই রূপকার মুনিম শাহরিয়ার ও নাজমুল হোসেন শান্ত।

লিগে নিজের খেলা প্রথম ৩ ইনিংসে ৬৯ রান করা মুনিম শাহরিয়ার তুলে নিলেন টানা দুই ফিফটি। আগের ম্যাচে ৯২ রানে অপরাজিত থাকা এই ডানহাতি এদিনও পেয়েছেন সেঞ্চুরির সুযোগ। তবে মিস করেছেন আরেক দফা, এবার থেমেছেন ৭৪ রানে।

আবাহনী রান তুলেছে ঝড়ো গতিতে। যেখানে ব্যাট হাতে নেতৃত্বটা মুনিম শাহরিয়ারই দিয়েছেন। নাইম শেখের (১০) সাথে উদ্বোধনী জুটি ২৭ রানে থামলেও নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে ৮৮ রানের জুটি গড়েন। যেখানে দুজনেই ছিলেন আক্রমণাত্মক।

ইনিংসের প্রথম দুই ওভারে মুনিমের ছিলনা কোনো বাউন্ডারি। তৃতীয় ওভারে এবাদত হোসেনকে ২ চার ১ ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু। এরপর ৯ম ওভার পর্যন্ত প্রতি ওভারেই হাঁকিয়েছেন বাউন্ডারি। ৬ষ্ঠ ওভারে নাসির হোসেনকে হাঁকান ২ চার ১ ছক্কা। ৭ম ওভারে আব্দুল হালিমকে চার মেরে ২৪ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি। ১০ ওভারে আবাহনীর স্কোরবোর্ডে ১০০ রান।

জিয়াউর রহমানের করা ১২তম ওভারের শেষ বলে সৈকত আলিকে ক্যাচ দেওয়ার আগে তার নামের পাশে ৪০ বলে ৯ চার ৩ ছক্কায় ৭৪ রান। তার বিদায়ে শান্তর সাথে জুটি ভাঙে, এক বল বিরতি দিয়ে এবাদত হোসেনের করা ১৩তম ওভারে মুশফিকুর রহিম ফেরেন খালি হাতে। অফ স্টাম্পের বাইরে এবাদতের লাফিয়ে ওঠা বলে পুল খেলতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন মুশফিক।

মুনিম-মুশফিকের বিদায়ের পরও শান্ত ছিলেন নিজের ছন্দে। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে ৬৬ রানের জুটি গড়েন ৩৬ বলে। শান্ত ৩৪ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি, দুজনের জুটি ভাঙে ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মোসাদ্দেক বিদায় নিলে। ১৫ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ২৬ রান। ১৮তম ওভারে দুজনে মিলে সমান ২ টি করে চার, ছক্কায় নেন ২৩ রান।

তখনো শান্ত অপরাজিত ৪২ বলে ৬ চার ও ২ ছক্কায় ৬৫ রানে। মোসাদ্দেকের আউটের পরই নামে বৃষ্টি, ১৮.২ ওভারে ৪ উইকেটে আবাহনীর সংগ্রহ ততক্ষণে ১৮১। বৃষ্টি শেষে আর ব্যাট করার সুযোগ পায়নি মুশফিকরা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

আবাহনী লিমিটেড ১৮১/৪ (১৮.২), নাইম ১০, মুনিম ৭৪, শান্ত ৬৫*, মুশফিক ০, মোসাদ্দেক ২৬; এবাদত ৩-০-২০-১, শাকিল ৩.২-০-২৭-১, নাসির ২-০-২৪-১, জিয়া ৪-০-৩৬-১

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ৯৮/৮ (১৩), সৈকত ১, ইমরুল ৮, জিয়া ১১, নুরুল ২২, তানবীর ১, নাসির ৬, সানি ৫, এনাম ২৯*, হালিম ৩, এবাদত ৯*; সাইফউদ্দিন ৩-০-১৯-১, সাকিব ২-০-২৬-১, রানা ৩-০-১৬-৩, সানি ৩-০-১৬-২, বিপ্লব ২-০-২১-১

ফলাফলঃ আবাহনী লিমিটেড ৪৯ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ মুনিম শাহরিয়ার (আবাহনী লিমিটেড)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বিকেএসপিতে মেহেদী ঝড়, ফল আসেনি মোহামেডান-ব্রাদার্স ম্যাচে

Read Next

নিজের অর্জনকে দেশের অর্জন বলছেন মুশফিক

Total
34
Share