মুনিম শাহরিয়ারের ব্যাটে চড়ে প্রাইম ব্যাংককে হারাল আবাহনী

মুনিম শাহরিয়ারের ব্যাটে চড়ে পাইম ব্যাংককে হারাল আবাহনী

টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্স বিবেচনায় দুই সেরা দলই সোমবার মিরপুরে মুখোমুখি হয়। তবে বৃষ্টি আইনে মুশফিকুর রহিমের আবাহনীর কাছে হারতে হয়েছে তামিম ইকবালদের প্রাইম ব্যাংককে। ৩০ রানে আবাহনীর জয় পাওয়া ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয় মুনিম শাহরিয়ারের ৯২ রানের হার না মানা ইনিংস।

এনামুল হক বিজয়ের সহজ স্টাম্পিং মিসের পর নাইম হাসানের হাতে সহজ ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যাওয়া মুনিম ৯০ রানেও পান আরেক দফা জীবন। তবে তার এই ইনিংসের সাথে নাইম শেখ ও নাজমুল হোশেন শান্তর ছোট তবে কার্যকরী দুই ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৮৩ রানের পুঁজি পায় আবাহনী।

যা তাড়া করতে নেমে বৃষ্টি আইনে ১৭৪ রানের লক্ষ্য টপকাতে গিয়ে ৬ উইকেটে ১৪৩ রানে থেমেছে প্রাইম ব্যাংক। বৃথা যায় তামিমের ৫৫ রানের ইনিংস।

এই জয়ের পর দুই দলের পয়েন্টই এখন সমান ১২, তবে রান রেটে এগিয়ে থেকে শীর্ষে প্রাইম ব্যাংক।

লক্ষ্য তাড়ায় নামা প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের উদ্বোধনী জুটি আবাহনীর মত ভালো শুরু পায়নি। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে রনি তালুকদার ফিরেছেন ৪ রান করে। তবে অন্য প্রান্তে তামিম ইকবাল ছিলেন সাবলীল। অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়কে নিয়ে যোগ করেন ৫৩ রান। যেখানে বিজয়ের অবদান কেবল ১১ রান। আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের বলে লং অফে ক্যাচ দিয়ে বিজয় ফিরলে ভাঙে জুটি।

তবে ৫ রানের ব্যবধানে ফিরেছেন তামিমও। ৪২ রানে জীবন পেয়েও থেমেছেন ৫৫ রানে। আরাফাত সানির বলে আফিফ হোসেনকে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৪১ বলে ৮ চার ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজিয়েছেন তামিম।

দলীয় ৯৬ রানে অমিত মজুমদার মাত্র ৪ রান করে বিদায় নিলে প্রাইম ব্যাংক হারায় চতুর্থ উইকেট। ততক্ষণে বলের সাথে প্রয়োজনীয় রান পাল্লা দিয়ে বাড়ে। ১৬ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে রান ৪ উইকেটে ১১৭। এরপরই নামে বৃষ্টি, প্রায় আধঘন্টার মত খেলা বন্ধ থাকার পর নতুন লক্ষ্য ঠিক হয় প্রাইম ব্যাংকের জন্য।

১৯ ওভারে করতে হবে ১৭৪, অর্থাৎ বৃষ্টির পর ৩ ওভারে করতে হত ৫৭। আরও ২ উইকেট হারিয়ে তামিম ইকবালরা করতে পারে ২৬ রান। ৬ উইকেতে ১৪৩ রানে থামতে হয় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকে মাঠে নামা প্রাইম ব্যাংক। শেষদিকে নাহিদুল ইসলামের ১৬ রানের সাথে ১১ রানে অপরাজিত ছিলেন অলক কপালি। আবাহনীর হয়ে দুইটি করে উইকেট নেন তানজিম হাসান সাকিব ও আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।

এর আগে ৬.১ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে আবাহনীর দুই ওপেনার মুনিম শাহরিয়ার ও নাইম শেখ তুলে ফেলেন ৪৯ রান। ২৭ বলে ৫ চারে ২৯ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে বোল্ড হন নাইম। তবে নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে মুনিম যোগ করেন আরও ৪৬ রান। যেখানে শান্তর ব্যাট থেকে আসে ২১ বলে সমান দুইটি করে চার, ছক্কায় ৩০ রান।

শান্তর বিদায়ের পর জীবন পেয়ে ফিফটি তুলে নেন মুনিম। চলতি ডিপিএল দিয়েই স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হয় এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানের। এদিন নিজের প্রথম ফিফটি ছোঁয়ার পর অপরাজিত ছিলেন সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে গিয়ে। তবে মনির হোসেনের করা ৮ম ওভারে স্টাম্পিংয়ের আবেদন নাকচ করে দেন আম্পায়ার। যদিও পরে বিসিবির লাইভ থেকে দেখা যায় উইকেট রক্ষক বল গ্লাভস বন্দী করে স্টাম্পিংয়ে সময় নেন। তখন ব্যক্তিগত ২০ রানে ব্যাট করছিলেন মুনিম।

১৪তম ওভারে তার সহজ ক্যাচ ছাড়েন নাইম হাসান, যা ছক্কা হয়। আর তাতেই ৪৯ রানে পৌঁছান, পরের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ২৯ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি। এরপর অবশ্য রান তোলাতে বাড়িয়েছেন আরও গতি। মুশফিককে নিয়ে জুটিতে যোগ করেন ৫১ রান, যেখানে ৫ রানে জীবন পাওয়া মুশফিকের অবদান মাত্র ১৪।

১৬ বলে মাত্র ১ চারে ১৪ রান করে মুশফিক ফিরেছেন শরিফুলের দ্বিতীয় শিকার হয়ে। মুশফিক ফিরলে আফিফ হোসেনকে নিয়ে শেষ ১৭ বলে মুনিম স্কোরবোর্ডে তোলেন আরও ৩৭ রান।

শেষ ওভারে ব্যক্তিগত ৯০ রানে লং অনে তার আরও একটি সহজ ক্যাচ ছাড়েন রনি তালুকদার। শেষ পর্যন্ত ৫০ বলে ৯ চার ৫ ছক্কায় অপরাজিত ছিলেন ৯২ রানে। এটি চলতি ডিপিএলে এখনো পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। আবাহনী ৩ উইকেটে ১৮৩ রানে থামার পথে ৬ বলে ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন আফিফ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

আবাহনী লিমিটেড ১৮৩/৩ (২০), মুনিম ৯২*, নাইম ২৯, শান্ত ৩০, মুশফিক ১৪, আফিফ ১৩*; শরিফুল ৪-০-৩৮-২, কাপালি ৩-০-৩২-১

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ১৪৩/৬ (১৯), তামিম ৫৫, রনি ৪, বিজয় ১১, মিঠুন ৩৪, অমিত ৪, নাহিদুল ১৬, কাপালি ১১*, মনির ২*; সাইফউদ্দিন ৪-০-২১-১, সানি ৪-০-৩২-১, সাকিব ৪-০-৩৫-২, বিপ্লব ৩-০-২০-২

ফলাফলঃ আবাহনী লিমিটেড ৩০ রানে জয়ী (ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে)

ম্যাচসেরাঃ মুনিম শাহরিয়ার (আবাহনী লিমিটেড)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সাকিবের শাস্তি কমাতে আপিল করেছে মোহামেডান

Read Next

৫ম জয়ে ৫ নম্বরে উঠল শেখ জামাল

Total
1
Share