নিরুত্তাপ আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে উত্তাপ ছড়ালেন সাকিব

নিরুত্তাপ আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচে উত্তাপ ছড়ালেন সাকিব

মাঠের খেলায় উত্তাপ ছিলনা, ফেভারিট হয়ে নামা আবাহনী লিমিটেডকে সহজেই হারিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। অথচ সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কিংবা বিগত কয়েক মৌসুমের পরিসংখ্যান কথা বলছিল আবাহনীর হয়ে। লিগে আজকে দুদলের মুখোমুখি লড়াইয়ের আগেও পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ছিল আবাহনী, মোহামেডানের অবস্থান ছিল ৬ নম্বরে। ম্যাচে সাকিব আল হাসানের বিতর্কিত কান্ডই যেন বাড়তি উত্তেজনা ছড়িয়েছে।

দুই দফা মেজাজ হারিয়ে আম্পায়ার ও প্রতিপক্ষ কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের সাথে বাগ বিতন্ডায় জড়ান সাকিব। আম্পায়ারের সাথে অসাধাচরণের সাথে লাথি মেরে একবার স্টাম্প ভাঙেন, আরেকবার উপড়ে ফেলেন।

তবে সব ছাপিয়ে ম্যাচের ফলই মূখ্য। সেখানে বৃষ্টি আইনে আবাহনী হেরেছে ৩১ রানে। দলের প্রয়োজনের সময় সাকিবের ৩৭, মাহমুদুল হাসান লিমনের অপরাজিত ৩০ রানে ভর করে মোহামেডান পায় ৬ উইকেটে ১৪৫ রান। ডার্ক ওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে আবাহনীর জন্য লক্ষ্য ঠিক হয় ৯ ওভারে ৭৬। ৬ উইকেটে ৪৪ রানেই থেমে পরাজয় বরণ করে নিতে হয় মুশফিকুর রহিমের দলকে।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুভাগত হোমের স্পিন ভেলকিতে শুরুতেই বিপাকে আবাহনী। ৯ রানে হারায় ৩ উইকেট। প্রথম ওভারের প্রথম বলেই শুভাগত ফেরান নাইম শেখকে (০), তৃতীয় বলে খালি হাতে ফেরেন একেএস স্বাধীনও (২ বলে ০)। ইনিংসের তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে ফেরান আফিফ হোসেনকেও (৭ বলে ২)।

সেখান থেকে মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে পথ খোজার চেষ্টা করে আবাহনী। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৫.৫ ওভারে তোলে ৩ উইকেটে ৩১ রান। তবে তার আগেই সাকিব আল হাসান উত্তেজনা ছড়ান মিরপুরে।

মেজাজ হারিয়ে পরপর দুইবার আম্পায়ারের উপর ঝাড়লেন রাগ। প্রথম দফায় স্টাম্পে লাথি মারলেও পরের বার রাগে উপড়ে ফেলেন তিন স্টাম্পই। বিবাদে ঝড়িয়েছেন প্রতিপক্ষ কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের সাথেও।

ইনিংসের পঞ্চম ওভারে সাকিব বল হাতে নিয়েই ফেরাতে পারতেন মুশফিককে। তার করা প্রথম পাঁচ বলে ১ চার ১ ছক্কা হাঁকান মুশফিক। শেষ বলে অনেকটা সোজা বল মিস করে মুশফিক, এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ারা ইমরান পারভেজ। এমন সিদ্ধান্তে খুশি হতে না পেরে সাকিব রাগ ঝেড়েছেন স্টাম্পে লাথি মেরে। আম্পায়ারের সাথে বেশ কিছুক্ষণ বাগ বিতন্ডা হয় মোহামেডান অধিনায়কের।

দ্বিতীয় দফায় নিয়ন্ত্রন অতিরিক্ত মাত্রায় হারান ৬ষ্ঠ ওভারের শেষ বলে বৃষ্টি নামলে খেলা বন্ধ করার ঘোষণা আসলে। ৫.৫ ওভারে আবাহনীর স্কোরবোর্ডে তখন ৩ উইকেটে ৩১ রান। আর খেলা না হলেও ম্যাচ মোহামেডানেরই জেতার কথা। কারণ বৃষ্টি আইনে ৫ ওভারে আবাহনীকে তুলতে হত ৪৭ রান।

কিন্তু খেলা বন্ধ হওয়ার সিদ্ধান্তে সাকিবের দ্বিতীয় দফায় মেজাজ হারিয়ে স্টাম্প তুলে ফেলাটা বিস্ময় ঠেকেছে সবার কাছে। খেলা বন্ধ হওয়ার পর আবাহনী কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনের সাথেও বাগ বিতন্ডায় জড়াতে দেখা যায় সাকিবকে। অশালীন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করেন গ্যালারিতে থাকা আবাহনীর ১০-১৫ জন দর্শকের দিকেও।

বৃষ্টি শেষে আবাহনীর জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৯ ওভারে ৭৬। ফলে ১৯ বলে নিতে হত ৪৫ রান। কিন্তু আবাহনী আরও ৩ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারেনি ১৩ রানের বেশি। ১২ রানে অপরাজিত থাকা শান্ত আউট হন ১৫ রান করে। ১৩ রানে অপরাজিত থাকা মুশফিক ১৮ বলে ১৮ রান নিয়ে অপরাজিত থাকলেও মূল কাজটা করতে ব্যর্থ হন। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৩ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ফিরেছেন খালি হাতে।

৩১ রানে আবাহনীকে বৃষ্টি আইনে হারানোর পথে শুভাগতের ৩ উইকেটের সাথে তাসকিন আহমেদের ২ ও আবু জায়েদ রাহির শিকার ১ উইকেট।

মোহামেডানের উদ্বোধনী জুটিতে ৩৭ রান তোলার পথে সাবলীল ছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। তবে বাঁহাতি পেসার তানজিম হাসান সাকিবের বলে ফিরেছেন ২৬ বলে ২৬ রান করে। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে মোহামেডানের রান ১ উইকেটে ৩৯।

সেখান থেকে ওপেনার আব্দুল মজিদ ও তিন নম্বরে নামা ইরফান শুক্কুরের ২৪ রানের জুটি। তবে ১৩ বলের ব্যবধানে নিজের ২ ওভারের স্পেলে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে মোহামেডানের বিপর্যয় ঘটান পেসার একেএস স্বাধীন। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা স্বাধীন ইনিংসের ১০ম ওভারে প্রথম বল হাতে নেন।

দ্বিতীয় বলে মজিদকে (১৮ বলে ১৬) বোল্ড করার পর শেষ বলে শুক্কুরকে (১৪ বলে ১৪) আরাফাত সানির ক্যাচে পরিণত করেন। ঐ ওভারে রান খরচ করেছেন মাত্র ২। ১২তম ওভারে নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে প্রথম বলেই ফেরান শামসুর রহমান শুভকে (১)।

৬৪ রানে ৪ উইকেট হারালেও লিগে টানা ব্যর্থ হওয়া সাকিবের ব্যাটেই আশার আলো দেখছিল মোহামেডান। কিছুটা দেখেশুনে খেলার পাশাপাশি নিজের জোনে বল পেলে বাউন্ডারিও বের করছিলেন। ১৫তম ওভারে আরাফাত সানি ও ১৬তম ওভারে আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে হাঁকান ছক্কা। তবে ১৭তম ওভারে জীবন পেয়েও খেলতে পারেননি বড় ইনিংস।

মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের করা তৃতীয় বলে লং অফ মোসাদ্দেকের হাত ফসকে বেঁচে যান সাকিব। কিন্তু পরের বলেই ফিরেছেন আরাফাত সানিকে শর্ট থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়ে। ২৭ বলে ১ চার ২ ছক্কায় খেলেছেন লিগে নিজের সর্বোচ্চ ৩৭ রানের ইনিংস।

সাকিবের বিদায়ে ভাঙে মাহমুদুল হাসান লিমনের সাথে ৪৬ রানের জুটি। শেষদিকে লিমনের ২২ বলে অপরাজিত ৩০ ও আবু হায়দার রনির ৭ বলে অপরাজিত ১২ রানে ৬ উইকেটে ১৪৫ রানে থামে মোহামেডান। আবাহনীর হয়ে স্বাধীন ৩ ওভারে ২৪ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট। তানজিম হাসান সাকিব ৪ ওভারে ১৭ রান খরচায় ২ উইকেট নেন।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মেজাজ হারিয়ে আম্পায়ারের ওপর তেড়ে গেলেন সাকিব

Read Next

সাকিব বিতর্কের সুরাহা করতে ম্যাচ রেফারির রিপোর্টের অপেক্ষায় সিসিডিএম

Total
3
Share