রুপগঞ্জকে নাস্তানাবুদ করে শীর্ষে প্রাইম ব্যাংক

রুপগঞ্জকে নাস্তানাবুদ করে শীর্ষে প্রাইম ব্যাংক

বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগ ২০১৯-২০ এ প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে থামানোই যাচ্ছেনা, ৭ ম্যাচে ৬ জয় নিয়ে দলটি এককভাবে উঠে এলো পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। শুক্রবার মিরপুরে তামিম ইকবালের ব্যর্থ হওয়ার দিনেও এনামুল হক বিজয়, রনি তালুকদারের জোড়া ফিফটিতে বড় সংগ্রহ প্রাইম ব্যাংকের। জবাবে অসহায় আত্মসমর্পণ বিশেষণও কম হয়ে যায় লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জের ব্যাটিংকে ভাষায় প্রকাশ করতে গিয়ে।

বিজয়ের ৬৯* ও রনির ৫৩ রানে ভর করে ৫ উইকেটে ১৬৯ প্রাইম ব্যাংকের স্কোরবোর্ডে। লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ ১০১ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে ৬৮ রানে গুটিয়ে। যেখানে বল হাতে জাদুকরী স্পেল স্পিনার নাহিদুল ইসলামের। তাকে যোগ সমর্থন দেন পেসার রুবেল হোসেন, শরিফুল ইসলাম ও আরেক স্পিনার নাইম হাসান।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ প্রদর্শন করে বিরক্তিময় যাচ্ছেতাই ব্যাটিং। নাহিদুলের ঘূর্ণিতে বিপাকে পড়ে ৩৪ রানেই হারায় ৫ উইকেট। অথচ তার করা ইনিংসের প্রথম ওভারেই চার, ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করেন মেহেদী হাসান মারুফ (৫ বলে ১২)। তবে শেষ বলে লাইন মিস করে হয়েছেন বোল্ড।

পরের ওভার রুবেলকে স্কুপ খেলতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দেন সাব্বির রহমান (০)। যদিও বল ব্যাটে না লেগে তার কনুয়ে লেগেছে বলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। নিজের দ্বিতীয় ওভারে নাহিদুল ফেরান পিনাক ঘোষকে। আগের ম্যাচে ফিফটি হাঁকানো এই বাঁহাতি আউট হন ১ রান করে। নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে নাহিদুল তুলে নেন অধিনায়ক নাইম ইসলামকে (০)। ওভার উইকেট মেডেন।

৩ ওভারের প্রথম স্পেলে নাহিদুল ৩-১-১৫-৩! নিজের প্রথম ওভার মেডেন নেওয়া বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই পান সাফল্য। তার বলে অমিত মজুমদারকে ক্যাচ দিয়ে ১৬ রান করে সাঝঘরের পথ ধরেন জাকের আলি অনিক। রুপগঞ্জ পরিণত ৩৪/৫।

সেখান থেকে আর নূন্যতম লড়াইও করতে পারেনি নাইম ইসলামের দল। নিয়মিত বিরতিতে হারিয়েছে উইকেট। নাহিদুল, রুবেল, শরিফুলের সাথে জোড়া শিকার নাইম হাসানেরও।

লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জকে ৬৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পথে শেষ ব্যাটসম্যান নাবিল সামাদকে (১) ফেরান মোহাম্মদ মিঠুন। মারুফ, জাকেরের পর দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন কেবল শহীদ (১৩)। ১৭তম ওভারে নিজের চতুর্থ ওভার করতে এসেও মেডেন নেন নাহিদুল। ম্যাচে তার বোলিং ফিগার ৪-২-১৫-৩।

সর্বশেষ ৩ ইনিংসে ৩০ পেরোতে পারেননি তামিম ইকবাল। আজ ফিরেছেন ১২ রান করে, তবে তার বিদায়েও বিপদে পড়েনি প্রাইম ব্যাংক। অধিনায়ক এনামুল হক বিজয় টুর্নামেন্ট শুরু করেছেন বেশ বাজেভাবে। প্রথম তিন ম্যাচে ১৩ রান করা বিজয় অবশ্য আভাস দিয়েছেন ফর্মে ফেরার।

ছোট ছোট কার্যকরী কয়েকটি ইনিংসের পর আজ পেলেন ফিফটির দেখা। তার আগেই অবশ্য টুর্নামেন্টে প্রথম ফিফটির হাঁকান রনি তালুকদার। দলীয় ৩৫ রানে তামিম ফিরেছেন নাবিল সামাদকে সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হয়ে। এরপর রনি-বিজয়ের ৬৭ রানের জুটি।

২৮ বলে ফিফটি ছুঁয়েছেন রনি, ইনিংসের ১২ তম ওভারে পেসার কাজী অনিককে ৪ চার ১ ছক্কা হাঁকিয়ে নেন ২৩ রান। তবে ফিফটির পর থেমেছেন দ্রুতই, মুক্তার আলিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন লং অনে। ৩১ বলে ৫ চার ৩ ছক্কায় নামের পাশে ৫৩ রান।

আগের ম্যাচে ফিফটি হাঁকানো মোহাম্মদ মিঠুন এদিনও ভালো কিছুর আভাস দিয়ে ফিরেছেন ১৩ বলে ১৮ রান করে। প্রাইম ব্যাংক ইনিংসের বাকিটাই অবশ্য অধিনায়ক বিজয়ের গড়া। ৪৩ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি, শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৪৯ বলে ৬৯ রানে। শেষ ওভারে মোহাম্মদ শহীদকে হাঁকান ১ চার ও ২ ছক্কা। প্রাইম ব্যাংক পায় ৫ উইকেটে ১৬৯ রানের সংগ্রহ। লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট মুক্তার আলির।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ১৬৯/৫ (২০), তামিম ১২, রনি ৫৩, বিজয় ৬৯*, মিঠুন ১৮, কাপালি ৪, নাহিদুল ২, অমিত ০*; শহীদ ৪-০-৩৭-১, নাবিল ৪-০-২৫-১, মুক্তার ৪-০-২৮-৩

লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ ৬৮/১০ (১৮), আজমির ১২, পিনাক ১, সাব্বির ০, জাকের ১৬, নাইম ৪, সানজামুল ৭, গাজী ৭, মুক্তার ৫, অনিক ০, শহীদ ১৩*, নাবিল ১; নাহিদুল ৪-২-১৫-৩, রুবেল ৪-১-১৭-২, শরিফুল ৩-১-৮-১, নাইম ৪-০-১৩-২, মিঠুন ১-০-৫-১

ফলাফলঃ প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ১০১ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ নাহিদুল ইসলাম (প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বার্মিংহামে স্বস্তিতে নেই স্বাগতিকরা

Read Next

শাইনপুকুরকে জয়ের স্বাদ দিলেন তানজিদ হাসান তামিম

Total
1
Share