সতীর্থদের ব্যর্থতায় চাপা পড়ল জয়ের দাপুটে ইনিংস

সতীর্থদের ব্যর্থতায় চাপা পড়ল জয়ের দাপুটে ইনিংস

ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাবের ব্যাটসম্যানদের বোঝা যেন কঠিন হয়ে পড়েছে। চলমান বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ ২০১৯-২০ এ (ডিপিএল) দলটির ৬ ম্যাচে ব্যাটিং দৃশ্যপট ছিল ৬ রকম। কখনো দ্রুত রান তোলাতে দেখিয়েছে মুন্সিয়ানা আবার কখনো সহজ সমীকরণ মেলাতে গিয়েও হেরেছে দৃষ্টিকটুভাবে। গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে হারা ম্যাচে বৃহস্পতিবারও দেখা গেল এমন কিছু।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে এক মাহমুদুল হাসান জয় ছাড়া ছাড়া দাঁড়াতেই পারেনি কেউ। তার ইনিংসকেও আবার ভাগ করতে হয় দুইভাগে, ফিফটি তোলার আগে ছিলেন বিপর্যয় কাটানো লড়াকু সৈনিক। ফিফটির পর দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দিতেন খেলেছেন ঝড়ো গতিতে।

তার ৫৫ বলে ৮৫ রানের ইনিংসে ভর করে ওল্ড ডিওএইচএস পায় ৭ উইকেটে ১৩৬ রানের সংগ্রহ। জবাবে সহজ জয়ের পথে হেঁটেও শেষ পর্যন্ত এই লক্ষ্য তাড়ায় ৬ উইকেট ও ৬ বল হাতে রেখে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। গাজী গ্রুপের হয়ে বড় কোনো ইনিংস না আসলেও সৌম্য সরকার, মুমিনুল হক, শেখ মেহেদী হাসানরা গড়ে দেন জয়ের ভীত।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই মন্থর ওল্ড ডিওএইচএস, সাথে নিয়মিত বিরতিতে হারিয়েছে উইকেট। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক হওয়া পেসার মহিউদ্দিন তারেকের বলে ইয়াসির আলি রাব্বিকে ক্যাচ দেন আনিসুল ইসলাম ইমন (১)। আরেক ওপেনার রাকিন আহমেদ ৪.৫ ওভার পর্যন্ত টিকে ১৬ বলে ৮ রান করে বোল্ড হন বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদের বলে।

১৫ রানে ২ উইকেট হারানো ওল্ড ডিওএইচএসকে ৩১ রানের জুটিতে কিছুটা স্বস্তিতে রাখার চেষ্টা করেন মাহমুদুল হাসান জয় ও অধিনায়ক মোহাইমিনুল খান। নাসুমের দ্বিতীয় শিকার হয়ে মোহাইমিনুলকে ফিরতে হয়েছে ১৬ বলে ৮ রান করে। একই ওভারে দৃষ্টিকটুভাবে রান আউটে কাটা পড়ে নতুন ব্যাটসম্যান রাইয়ান রহমান (০)।

১১ ওভার শেষে তাদের স্কোরবোর্ডে ৪ উইকেটে মাত্র ৪৬ রান। এই বিপর্যয়ে প্রতিরোধ গড়তে গড়েছেন জয়। স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে একাই লড়েছেন যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের এই সদস্য। ৪০ বলে ফিফটি তোলার পর খেলেছেন ঝড়ো গতিতে। ১৮ ওভারে ৯৬ রান থেকে শেষ ২ ওভারে ৪০ রান তুলে দলকে এনে দেন ১৩৬ রানের লড়াকু পুঁজি।

৮৫ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর ২৪ বলের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে আলিস আল ইসলামকে নিয়ে জয় যোগ করেন ৫১ রান। মহিউদ্দিন তারেকের করা ১৯তম ওভারে ২ চার ২ ছক্কায় আসে ২১ রান। শেষ ওভারে ১ চার ২ ছক্কায় আসে ১৯ রান, যার সবকটি রানই এসেছে জয়ের ব্যাট থেকে। শেষ পর্যন্ত জয় ৫৫ বলে ৩ চার ৭ ছক্কায় অপরাজিত ছিলেন ৮৭ রানে। তাকে সঙ্গ দেওয়া আলিস ৯ বলে অপরাজিত ছিলেন ১৫ রানে।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে উল্টো চিত্র গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের ইনিংসে। ১ উইকেট হারিয়ে ১০ ওভারেই তুলে ফেলে ৮৩ রান। ২.২ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে শেখ মেহেদী হাসান ও সৌম্য সরকার তোলেন ২৬ রান। যেখানে ১০ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ২২ রান আসে আলিস আল ইসলামের বলে আউট হওয়া শেখ মেহদীর ব্যাট থেকে।

মেহেদী ফিরলেও আগের দুই ম্যাচে ফিফটি হাঁকানো সৌম্য সরকার ছিলেন সাবলীল। যদিও শুরুটা ধরে রাখতে না পেরে টি-টোয়েন্টির সাথে বেমানান ইনিংসই খেলেছেন। মুমিনুল হককে নিয়ে ৬৫ রানের জুটিতে জয়ের পথটা নেন এগিয়ে। ৩৪ বলে ২৭ রান করে বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল হাসানের বলে ফিরেছেন মুমিনুল।

১০ রানের ব্যবধানে রাকিবুলের দ্বিতীয় শিকার হয়ে সৌম্যও ধরেন সাজঘরের পথ। ডাউন দ্য উইকেটে এসে উড়িয়ে মারতে গিয়ে স্টাম্পড হওয়ার আগে করেছেন ৩৫ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ৩৭ রান করে। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ইয়াসির আলি রাব্বির ব্যাটে সহজ জয়ের পথে হেঁটেও শেষদিকে হারায় উইকেট।

দলকে জয় থেকে মাত্র ৭ রানে দূরে রেখে ফিরেছেন ১৮ বলে ১৯ রান করা অধিনায়ক রিয়াদ। ৬ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে জয়ের পথে ইয়াসির আলি রাব্বি অপরাজিত ছিলেন ১৮ বলে ২৪ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাব ১৩৬/৭ (২০), ইমন ১, রাকিন ৮, জয় ৮৫*, মোহাইমিনুল ৮, রায়ান ০, রাকিবুল; ১, প্রীতম ১১, রাকিবুল ০, আলিস ১৫*; নাসুম ৪-০-১০-২, তারেক ৪-০-৩২-১, মুগ্ধ ৪-০-২৭-১, মুমিনুল ২-০-১৮-১, মাহমুদউল্লাহ ২-০-১২-১

গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ১৩৮/৪ (১৯.১), মেহেদী ২২, সৌম্য ৩৭, মুমিনুল ২৭, মাহমুদউল্লাহ ১৯, রাব্বি ২৪*, জাকির ০*; হামিদুল ২-০-২০-১, আলিস ৪-০-১৮-১, রাকিবুল ৪-০-২১-২

ফলাফলঃ গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ মাহমুদুল হাসান জয় (ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাব)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

শাকিলের প্রথম ‘৫’, শেখ জামালের সহজ জয়

Read Next

দোলেশ্বরকে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ দিয়ে শীর্ষে প্রাইম ব্যাংক

Total
17
Share