সোহান-জিয়া ঝড়ে মোহামেডানকে হারিয়ে দিল শেখ জামাল

সোহান-জিয়া ঝড়ে মোহামেডানকে হারিয়ে দিল শেখ জামাল

প্রথম ১৫ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৮৫ রান তোলা শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব পরের ৫ ওভারে কোন উইকেট না হারিয়ে তুলেছে ৭৬ রান। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ও জিয়াউর রহমানের এই ঝড়েই মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব পেয়েছে টুর্নামেন্টের প্রথম হারের স্বাদ।

নুরুল হাসান সোহানের ঝড়ো ৬৬* ও জিয়াউর রহমানের ৩৫* রানে শেখ জামাল ধানমন্ডি পায় ৫ উইকেটে ১৬১ রানের পুঁজি। জয়ের লক্ষ্যে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে সাকিব আল হাসানের মোহামেডান। তবে শেষদিকে নাদিফ চৌধুরীর ফিফটিতে এড়াতে পেরেছে বড় হার। ৮ উইকেটে ১৪৫ রানে থেমে হেরেছে ১৬ রানে। শেখ জামাল পেয়েছে নিজেদের দ্বিতীয় জয়।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে মোহামেডান। স্পিনার মোহাম্মদ এনামুল হকের ৩ ওভারের প্রথম স্পেলেই লণ্ডভণ্ড টপ অর্ডার। ইনিংসের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই ফেরান ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনকে। আগের ম্যাচে ফিফটি হাঁকালেও এ ম্যাচে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন খালি হাতে।

নিজেদের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে ফেরান এনামুল। ব্যাট হাতে আরেক দফা ব্যর্থ হয়ে ফিরেছেন ৯ বলে ২ রান করে। মাঝে পেসার এবাদত হোসেন এলবিডবিউর ফাঁদে ফেলেন আরেক ওপেনার মাহমুদুল হাসান লিমনকে (১২)।

উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান ইরফান শুক্কুর এনামুল তৃতীয় শিকার হয়ে ফিরেছেন খালি হাতে। ৩ ওভারের প্রথম স্পেলে ১৩ রান খরচায় এনামুলের শিকার তিন উইকেট। মোহামেডান পরিণত হয় ৪ উইকেটে ১৫ রানে।

সেখান থেকে ৪৮ রানের জুটি শামসুর রহমান শুভ ও শুভাগত হোম। ২৩ বলে সমান ২ টি করে চার, ছক্কায় ২৯ রান করে জিয়াউর রহমানের বলে সালাউদ্দিন শাকিলকে ক্যাচ দেন শুভ। এরপর নাদিফ চৌধুরীর সাথে শুভাগতর ৩৭ রানের জুটি। জুটিতে শুভাগতর অবদান ৮ বলে ১৩, আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলেছেন নাদিফ।

তবে বলের আঘাতে কিছুক্ষণের জন্য মাঠের বাইরে থাকা জিয়াউর রহমান বল হাতে নিয়েই ভাঙেন জুটি। তাকে ফিরতি ক্যাচ দেন শুভাগত হোম। মাঝে আবু হায়দার রনি ফিরেছেন ৮ বলে ১৪ রান করে।

অন্য প্রান্তে আসা যাওয়ার মিছিল চললেও ঝড় থামেনি নাদিফের। যদিও শেষদিকে খানিক মন্থর হয়ে পড়েন। কিন্তু এই ঝড়ও জয়ের জন্য যথেষ্ট হয়নি, কেবল কমেছে হারের ব্যবধানই।

শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলের চার মেরে ৪১ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি, পরের বলে চার মারলেও ক্যাচে দিয়েছেন চতুর্থ বলে। ৪২ বলে ৩ চার ৪ ছক্কায় থামেন ৫৭ রানে। মোহামেডান থামে ৮ উইকেটে ১৪৫ রান করে।

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের দুই ওপেনার মোহাম্মদ আশরাফুল ও সৈকত আলি শুরু থেকে মন্থর ছিলেন। দুজনের রান করার কাজটা কঠিন করে ফায়দা তুলেন সাকিব। নিজের প্রথম দুই ওভারে মাত্র ৭ রান খরচ করেন।

পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ২৯ রান তোলা আশরাফুল-সৈকত জুটি রান তোলার গতি বাড়াতে গিয়েই বিপাকে পড়েন। ইনিংসের ৭ম ও সাকিবের তৃতীয় ওভারে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন পারভেজ হোসেন ইমনের হাতে। ২৪ বলের বেমানান ইনিংসে রান করেছেন মাত্র ১৫। এক বলের ব্যবধানে সাকিব খালি হাতে ফেরান ফারদিন হাসান অনিকেও।

আবু হায়দার রনির করা ৯ম ওভারের প্রথম চার বলেই ১৩ রান আসে, নাসির হোসেন (৫ বলে ৯) হাঁকান টানা দুই চার। তবে পঞ্চম বলেই খোঁচা মেরে থার্ড ম্যান অঞ্চলে পাঠাতে গিয়ে ক্যাচ দেন তাসকিন আহমেদকে।

এক পাশ আঁকড়ে ধরে থাকার চেষ্টা করেও আসিফ হাসানের স্পিনে ধরা পড়েন সৈকত আলি। ১১.১ ওভার পর্যন্ত ক্রিজে টিকে ২৯ বলে করতে পেরেছেন ২০ রান। দলীয় ৮১ রানে ইলিয়াস সানিও ৫ রান করে রনির শিকার হন।

৮১ রানে ৫ উইকেট হারানো শেখ জামালের হয়ে ঝড় তোলেন জিয়াউর রহমান ও অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। ৩৫ বলের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে যোগ করে ৮০ রান।

আবু জায়েদ রাহির করা ১৬তম ওভারে আসে ১৩ রান। রনির করা ১৭তম ওভারে ২ ছক্কা ১ চারে আসে ২১ রান।

তাসকিনের করা ১৮তম ওভারে আসে ১২ রান, ঐ ওভারের শেষ বলে  জায়গা বের করে তিন ফিল্ডারের উপর দিয়ে সোহানের হাঁকানো বাউন্ডারিটি ছিল দৃষ্টিনন্দন। ১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে আবু জায়েদ রাহিকে ছক্কা মেরে ২৯ বলে ফিফটিতে পৌঁছান সোহান। ওভারের শেষ বলে মিড উইকেট দিয়ে মারেন আরও একটি বড় ছক্কা। শেষ ওভারেও জিয়া-সোহান নেন ১৪ রান।

প্রথম ১০ ওভারে ৫১ রান করা শেখ জামাল শেষ ১০ ওভারে তোলে ১১০, শেষ ৫ ওভারে ৭৬। শেষ পর্যন্ত সোহান ৩৪ বলে ৪ চার ৫ ছক্কায় ৬৬ ও জিয়া ১৭ বলে ১ চার ৩ ছক্কায় ৩৫ রানে অপরাজিত ছিলেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ১৬১/৫ (২০), সৈকত ২০, আশরাফুল ১৫, অনি ০, নাসির ৯, নুরুল ৬৬*, সানি ৫, জিয়া ৩৫*; সাকিব ৪-০-১২-২, আসিফ ৪-০-১৮-১, রনি ৪-০-৫৩-২

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ১৪৫/৮ (২০), মাহমুদুল ১২, ইমন ০, সাকিব ২, শুভ ২৯, শুক্কুর ০, নাদিফ ৫৭, শুভাগত ১৩, রনি ১৪, তাসকিন ৮*, রাহি ৪*; এনামুল ৩-০-১৩-৩, এবাদত ৪-১-২৭-১, জিয়া ৪-০-২০-২, শাকিল ৪-০-৩৪-১, সানি ৩-০-৩৯-১

ফলাফলঃ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ১৬ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ নুরুল হাসান সোহান (শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সোহেল তানভীরকে টপকে টি-টোয়েন্টির সেরা ৫ এ বোলার সাকিব

Read Next

বিকেএসপিতে পারটেক্সকে উড়িয়ে দিল প্রাইম ব্যাংক

Total
15
Share