খেলাঘরে হোঁচট খেল আবাহনী

খেলাঘরে হোঁচট খেল আবাহনী

লিগের প্রথম তিন ম্যাচে জয় পাওয়া আবাহনী লিমিটেডকে থামালো খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (বিকেএসপির) তিন নম্বর মাঠে তারা আজ অদ্ভুত ব্যাটিং প্রদর্শনীতে হেরেছে ৮ রানে।

টস জিতে আগে ব্যাট করে ওপেনার ইতিয়াজ হোসেনের ৬৬ রানের ইনিংসের সাথে মেহেদী হাসান মিরাজ ও রাফসান আল মাহমুদের কার্যকরী ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেটে ১৬৪ রান তোলে খেলাঘর। জবাবে বাজে শুরুর পর নাইম শেখ ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে জয়ের পথে হেঁটেও আফিফ হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেনের ধীর গতির ব্যাটিংয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম পরাজয় দেখলো আবাহনী।

৮ রানে হেরে চলমান বঙ্গবন্ধু ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগ ২০১৯-২০ এ (ডিপিএল) হারিয়েছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ স্থান।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ভূতুড়ে শুরু পায় আবাহনী। স্পিনার মইনুল ইসলামের করা প্রথম ওভারে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে সাইফউদ্দিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে খালি হাতে ফেরেন মুনিম শাহরিয়ার। ঐ ওভারে কোন রান খরচ করেননি মইনুল।

পেসার মাসুম খানের করা দ্বিতীয় ওভার থেকে আসে ৩ রান। মইনুলের করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম ৪ বলেই আসে ৯ রান। শেষ বলে স্লগ খেলতে গিয়ে বোল্ড মুশফিকুর রহিমও (৮)। মেহেদী মিরাজের করা চতুর্থ ওভার থেকে আসে ১ রান।

প্রথম ৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে তুলতে পারে ১৩ রান। কিন্তু এরপরের দুই ওভারে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। নতুন ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত চড়াও হন ওপেনার নাইম শেখকে নিয়ে। মইনুলের করা ইনিংসের পঞ্চম ওভারে হাঁকান সমান একটি করে চার, ছক্কা। মাসুমের করা পরের ওভার শুরু করেন টানা দুই চারে, ওভারে চার হাঁকিয়েছেন নাইমও। পাওয়ার প্লের শেষ দুই ওভারে স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ২৯ রান।

এরপর অবশ্য পরিস্থিতি বুঝে খেলার চেষ্টা এই দুই বাঁহাতির। সময়ের সাথে সাথে শান্ত যেন আরও ঝড়ো গতিতে রান তুলতে চেয়েছেন। ১ রানের জন্য ফিফটি বঞ্চিত হয়েছেন। তার আগে নাইম শেখের সাথে ৫৯ বলের জুটিতে আসে ৮৭ রান। ৩৩ বলে ৭ চার ১ ছক্কায় ৪৯ রানে শান্ত থামেন স্পিনার রাফসান আল মাহমুদকে ডিপ মিড উইকেটে উড়িয়ে মারতে গিয়ে।

১৫তম ওভারে একই পরিণতি নাইম শেখেরও, ১ রানের জন্য তিনিও মিস করেন ফিফটি। পেসার খালেদ আহমেদের গুড লেংথের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৪২ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় সাজান ৪৯ রানের ইনিংসটি।

শেষ ৫ ওভারে আবাহনীর জয়ের জন্য প্রয়োজন ৬ উইকেট হাতে নিয়ে ৫১ রান। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও আফিফের ব্যাটে শেষ ২ ওভারে এই সমীকরণ দাঁড়ায় ২৫। হাতে উইকেট রেখে, নিজেরা ক্রিজে সেট হয়ে মেলাতে পারেননি সেই সমীকরণ।

শেষ দুই ওভারে তুলতে পারে কেবল ১৬ রান, ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে মোসাদ্দেকের ব্যাট থেকে আসে ১৯ বলে ২১ রান। ১৮ বলে আফিফ অপরাজিত ছিলেন ২২ রানে।

টপ অর্ডারে সাফল্যে আবাহনীর মত শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বড় সংগ্রহই পেয়েছিল খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি। যেখানে বড় ভূমিকা রাখেন ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন তান্না। ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে তুলে নেন দ্বিতীয় ফিফটি।

রাফসান আল মাহমুদের সাথে ৪ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে তোলেন ৪২ রান। ১২ বলে ১৮ রান করে রাফসান ফিরেছেন বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত সানির শিকার হয়ে। এরপর তিন নম্বরে নামা মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ৬২ রানের জুটি ইমতিয়াজের। ২৫ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় মিরাজ ফিরেছেন ৩৩ রান করে। তবে অপর প্রান্তে টিকে থাকা ইমতিয়াজ ৩৯ বলে পৌঁছান ফিফটিতে।

১৬ তম ওভারে চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরেন, মোসাদ্দেক হোসেনের বলে বোল্ড হওয়ার আগে নামের পাশে ৪৬ বলে ৬ চার ৩ ছক্কায় ৬৬ রান। শেষ পর্যন্ত খেলাঘর থামে ৬ উইকেটে ১৬৪ রানে। ইমতিয়াজের বিদায়ের পর ঝড়ো কোন ইনিংস না আসলেও শেষ ৪ ওভারে ৩০ রানে তোলে খেলাঘর। সর্বোচ্চ দুইটি করে উইকেট আরাফাত সানি ও মোসাদ্দেক হোসেনের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি ১৬৪/৬ (২০), ইমতিয়াজ ৬৬, রাফসান ১৮, মিরাজ ৩৩, জহুরুল ৫, মইনুল ৭, সাদ্দাম ১৩, মাসুম ৪*, খালেদ ৮*; সাইফউদ্দিন ৪-০-২৭-১, সানি ৪-০-২৫-২, সাকিব ৪-০-৩৩-১, মোসাদ্দেক ৩-০-২৪-২

আবাহনী লিমিটেড ১৫৬/৫ (২০), মুনিম ০, নাইম ৪৯, মুশফিক ৮, শান্ত ৪৯, মোসাদ্দেক ২১, আফিফ ২২*; রনি ৩-১-২৩-২, খালেদ ৪-০-৩২-২, রাফসান ১-০-৫-১

ফলাফলঃ খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি ৮ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ ইমতিয়াজ হোসেন (খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

নাটকীয় ম্যাচে শেষ হাসি হাসল ব্রাদার্স ইউনিয়ন

Read Next

ফরহাদ রেজার ক্যামিওতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে প্রাইম দোলেশ্বর

Total
21
Share