মুস্তাফিজের ৫ উইকেট শিকারের দিনেও জিততে পারেনি প্রাইম ব্যাংক

মুস্তাফিজের ৫ উইকেট শিকারের দিনেও জিততে পারেনি প্রাইম ব্যাংক

বড় সংগ্রহের পথে এগোতে থাকা মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের লাগাম টেনে ধরে মুস্তাফিজুর রহমান। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়বার ৫ উইকেট শিকারে ১৫০ রানেই আটকে দেয় সাকিব আল হাসানদের। তবে মিরপুরের উইকেট বিবেচনায় এই রান জয়ের জন্য ভালো পুঁজি হলেও তামিম ইকবালের প্রাইম ব্যাংকের জন্য ধরা ছোঁয়ার মধ্যেই ছিল। কিন্তু মোহামেডান বোলারদের তোপে আত্মসমর্পণ করতে হয় তামিমদের।

শনিবার মোহামেডানকে ১৫০ রানের সংগ্রহ এনে দেয়ার পথে ফিফটি হাঁকান ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। প্রাইম ব্যাংককে ১২৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে টানা তৃতীয় জয় পেল মোহামেডান। ২৭ রানের এই জয়ে তারা উঠে এলো টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে। সমান ম্যাচে সমান জয়ে রান রেটে এগিয়ে থেকে টেবিলের শীর্ষে আবাহনী।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ওপেনার এনামুল হক বিজয়কে শুরুতেই হারায় প্রাইম ব্যাংক। প্রথম দুই ম্যাচে ১০ রান করা বিজয় আজ তাসকিনে আহমেদের বলে ফিরেছেন ৩ রান করে। মাঝে অধিনায়ক তামিম ইকবাল ৩৫ রানের জুটি গড়েন রনি তালুকদারের সাথে। এরপরই নামে বিপর্যয়। ২০ বলে ২০ রান করে তামিম ফিরেছেন শুভাগত হোমের বলে।

ইনিংসের ৯ম ওভারে ৬ রানের ব্যবধানে ১৯ বলে ১৯ রান করে সাকিবের বলে বোল্ড হন রনি। একই ওভারে সাকিব খালি হাতে ফেরান নতুন ব্যাটসম্যান অলক কাপালিকেও। ৫ রান করে নাহিদুল ইসলাম বোল্ড আবু জায়েদ রাহির বলে, আবু হায়দার রনির বলে একই পরিণতি রকিবুল হাসানের (৫)। ৭৪ রানে ৬ উইকেট নেই প্রাইম ব্যাংকের।

সেখান থেকে আর জয়ের পথ খুঁজে পায়নি প্রাইম ব্যাংক। ১২৩ রানে অল আউট হওয়ার পথে নাইম হাসানের ব্যাট থেকে অপরাজিত ১৯ ও মনির হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান। শেষদিকে প্রাইম ব্যাংকের ব্যাটসম্যানদের সাজঘরের পথ দেখান তাসকিন, আবু জায়েদ। মোহামেডানের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ টি করে উইকেটও এই দুজনের। সাকিব ৪ ওভারে ১৬ রান খরচায় নেন ২ উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামে মোহামেডান। ৪.৫ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে মাহমুদুল হাসান লিমন ও পারভেজ হোসেন ইমন তুলে ফেলেন ৪০ রান। শরিফুলের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই মাহমুদুলের বিপক্ষে জোরালো আবেদন। তবে ইনসুইংয়ে পরাস্ত হওয়া কট বিহাইন্ডের আবেদন নাকচ করে দেয় আম্পায়ার। দ্বিতীয় বলে এলবিডব্লিউর আবেদন, এবারও খুশি করতে পারেনি আম্পায়ারকে।

মাঝে এক ওয়াইডের পর তৃতীয় বলে ইমনের বিপক্ষেও কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদন। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বল ইমনের ব্যাট ছুঁয়ে উইকেট রক্ষক বিজয়ের হাতে গিয়েছে বলে বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন শরিফুল। আম্পায়ারের নাকচ করে দেয়া আবেদনের পর বেশ কিছুক্ষণ প্রাইম ব্যাংকের সব ফিল্ডারই উইকেটের আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকে।

জুটিতে অস্বস্তি বলতে অতটুকুই, ১৮ বলে ২৩ রান করে লিমন আউট হওয়ার আগে ছিলেন সাবলীল। লিমন ফিরলেও যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ইমন তুলে নেন ফিফটি। শামসুর রহমানের সাথে জুটিতে যোগ করেন ৫৮ রান।

৩৮ বলে ৩ চার ৪ ছক্কায় ৫০ রান করে অলক কপালির শিকার ইমন। তবে চার নম্বরে নামা সাকিবের সাথে ৩৮ রানের জুটি শুভর। ব্যক্তিগত ১৭ রানে জীবন পেয়েও ১৫ বলে ২০ রানের বেশি করতে পারেননি সাকিব।

সাকিবের বিদায়ের পর পরই অবশ্য মোহামেডান ইনিংসের ছন্দ পতন। বড় সংগ্রহের আভাস দিয়েও মুস্তাফিজুর রহমানের তোপে ১৫০ রানেই থামতে হয় মোহামেডানকে। ১৮ তম ওভারে সাকিব সহ তিন উইকেট শিকার মুস্তাফিজুর রহমানের। সেট ব্যাটসম্যান শুভর (৩৩) সাথে ফেরান শুভাগত হোমকেও (৪)। পরের ওভারে শরিফুলের শিকার আগের ম্যাচে ফিফটি হাঁকানো ইরফান শুক্কুর (০)।

শেষ ওভারে আবু হায়দার রনি (১) ও তাসকিন আহমেদকে (০) ফিরিয়ে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেট শিকার মুস্তাফিজের। শেষ ৫ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে মোহামেডান তুলতে পারে কেবল ৩৫ রান। এই ম্যাচের মত ৪ ওভারে ২২ রান খরচায় ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫ উইকেট নেন বাঁহাতি এই পেসার।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ১৫০/৮ (২০), মাহমুদুল ২৩, ইমন ৫০, শুভ ৩৩, সাকিব ২০, শুভাগত ৪, শুক্কুর ০, নাদিফ ৫*, রনি ১, তাসকিন ০, মিশু ২*; নাহিদুল ৪-০-১৬-১, শরিফুল ৪-০-৪৪-১, মুস্তাফিজ ৪-০-২২-৫, কাপালি ২-০-১১-১

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ১২৩/১০ (১৯.৩), তামিম ২০, বিজয় ৩, রনি ১৯, মিঠুন ২৫, কাপালি ০, নাহিদুল ৫, রাকিবুল ৬, নাইম ১৯*, শরিফুল ০, মনির ১৭, মুস্তাফিজ ০; তাসকিন ৩.৩-১-১৫-৩, রাহি ৪-১-৩৩-৩, সাকিব ৪-০-১৬-২, শুভাগত ৩-১-১৪-১, রনি ৪-০-২৯-১

ফলাফলঃ মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ২৭ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ মুস্তাফিজুর রহমান (প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

প্রটোকল ভাঙার অভিযোগ তদন্ত করছে বিসিবি

Read Next

কেন্দ্রীয় চুক্তির মত সফর চুক্তিও প্রত্যাখ্যান করল লঙ্কান ক্রিকেটাররা

Total
10
Share