তানভির-মুরাদের স্পিন ঘূর্ণিতে কুপোকাত শেখ জামাল

তানভির-মুরাদের স্পিন ঘূর্ণিতে কুপোকাত শেখ জামাল

কাগজে-কলমে তারুণ্য নির্ভর অনভিজ্ঞ দল শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে আগের ম্যাচে মাত্র ১১৯ রানের পুঁজি নিয়ে প্রায় জিতেই গিয়েছিল। যেখানে প্রাইম ব্যাংক ব্যাটসম্যানদের স্পিন বিষে নীল করে কঠিন পরীক্ষা নেন তানভির ইসলাম ও হাসান মুরাদরা। অল্পের জন্য তামিম ইকবালের প্রাইম ব্যাংক বেঁচে গেলেও শুক্রবার  মিরপুরে এই দুজনের স্পিনে কোণঠাসা শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।

১৩৮ রানের পুঁজি নিয়েও শেখ জামালের মত অভিজ্ঞদের বিপক্ষে ১১ রানের জয় তুলে নিল শাইনপুকুর। যেখানে বল হাতে কাজটা আরও একবার দারুণভাবে সামলালেন বাঁহাতি স্পিনার তানভির ও মুরাদ। বিশেষ করে ৪ ওভারে ২ মেডেনে ৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেয়া তানভির ছিলেন অসাধারণ।

টস জিতে আগে ব্যাট করা শাইনপুকুর ছোট ছোট কয়েকটি ইনিংসে ভর করে ১৩৮ রানের পুঁজি পায়। জবাবে অল আউট হওয়ার আগে শেখ জামালের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ১২৭ রান। তিন ম্যাচে এটি শাইনপুকুরের প্রথম জয়, সমান সংখ্যক ম্যাচে শেখ জামালের দ্বিতীয় পরাজয়।

প্রথম দুই ম্যাচে মোহাম্মদ আশরাফুল ও সৈকত আলির উদ্বোধনী জুটিতে দারুণ শুরু পাওয়া শেখ জামাল আজ উল্টো চিত্র দেখলো। আশরাফুল, সৈকতকে দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই ফেরান তানভির-মুরাদ।

অথচ মুরাদের করা ইনিংসের প্রথম ওভারের শেষ বলে আশরাফুল (৪) আউট হওয়ার আগে শেখ জামালের স্কোরবোর্ডে ১৩ রান! ইনিংসের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে তানভির ফিরিয়েছেন সৈকতকে (৯), নিয়েছেন উইকেট মেডেন।

১৩ রানে ২ উইকেট হারানোর পর নাসির হোসেন ও ইলিয়াস সানির ব্যাটে বিপদ কাটিয়ে জয়ের পথে ছুটছিল শেখ জামাল। দুজনে তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করে ৫৮ রান। কিন্তু সাবলীল খেলতে থাকা নাসিরকে আরেক স্পিনার ইফতেখার সাজ্জাদ ফেরালে ভাঙে জুটি। ২১ বলে ২৮ রান করে নাসিরের বিদায়ের পর আবারও তানভিরের হানা।

নিজের দ্বিতীয় ওভারে মেডেন সহ নিলেন ২ উইকেট। ফিরতি ক্যাচ দিয়ে শূন্য হাতে ফিরতে হয় অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানকে। ৪ বল ক্রিজে টিকে কোনো রান না করে তানবীর হায়দার ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে। ২ ওভার শেষে তানভিরের বোলিং ফিগার ২-২-০-২!

২৫ বলে সমান দুইটি করে চার, ছক্কায় ৩০ রান করে রান আউটে কাটা পড়ে ইলিয়াস সানি। তাতেই ৮৩ রানে ৬ উইকেট নেই শেখ জামালের। সেখান থেকে জয়ের পথ অচেনা হয়ে যায় সোহানের দলের। রান আউটে কাটা পড়ে জিয়াউর রহমানও (৯)। ১৫ রান করা সোহরাওয়ার্দী শুভকে বোল্ড করেন মুরাদ।

শেষ দুই ওভারের প্রয়োজন ছিল ৩১, মুরাদের করা ১৯তম ওভারে জীবন পাওয়া এনামুল হকের ২ ছক্কায় আসে ১৫ রান। তবে শেষ ওভারের প্রথম বলে এনামুল রান আউটে কাটা পড়লে শেষ হয়ে যায় শেখ জামালের জয়ের স্বপ্ন। ১২৭ রানে অল আউট হয়ে হেরেছে ১১ রানে। ৪ ওভারে ৮ রান খরচায় তানভিরের শিকার ৩ উইকেট, মুরাদ ২ উইকেট নিয়েছেন ৩৪ রান খরচায়।

টস জিতে আগে ব্যাট করা শাইনপুকুরের কোনো ব্যাটসম্যানই খেলতে পারেনি বড় ইনিংস। ছোট ছোট ইনিংস গুলোও এসেছে টি-টোয়েন্টির সাথে বেমানান বেশ ধীর গতিতে। উদ্বোধনী জুটিতে ৫৪ রান যোগ করলেও তানজিদ হাসান তামিম ও সাব্বির হোসেন রান তুলেছেন মন্থর গতিতে।

২৩ বলে সাব্বিরের ২০ রান। এমনিতে আগ্রাসী ব্যাট করার সুনাম থাকলেও লিগে আগের দুই ম্যাচের মত এদিনও ৩১ বলে ৩৪ রানের ধীর গতির ইনিংস খেলেন তামিম। উইকেট রক্ষক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (১) আবারও ব্যর্থ হলে ৬৪ রানে ৩ উইকেট হারায় শাইনপুকুর।

অধিনায়ক তৌহিদ হৃদয় ৪৮ রানের জুটি গড়েন রবিউল ইসলাম রবিকে নিয়ে। তারাও জুটিতে ছিলেন বেশ মন্থর। এবাদত হোসেনের বলে বোল্ড হওয়ার আগে হৃদয়ের ব্যাট থেকে ২৮ রান আসে ৩০ বলে। শেষ পর্যন্ত ৫ উইকেটে ১৩৭ রানের পুঁজি পাওয়ার পথে রবি অপরাজিত ছিলেন ২৬ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ৩৪ রানে। শেখ জামালের হয়ে সর্বোচ্চ দুইটি করে উইকেট এবাদত হোসেন ও জিয়াউর রহমানের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব ১৩৭/৫ (২০), সাব্বির ২০, তানজিদ ৩৪, হৃদয় ২৮, অঙ্কন ১, রবি ৩৪*, সুমন ৯, রবিউল ৫*; এনামুল ৩-০-১৭-১, এবাদত ৪-০-২৭-২, জিয়া ৪-০-১৬-২

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ১২৭/১০ (১৯.৫), সৈকত ৯, আশরাফুল ৪, নাসির ২৮, সানি ৩০, নুরুল ১, তানবীর ০, শুভ ১৫, জিয়া ৯, এনামুল ১৯, এবাদত ৬, শাকিল ০*; মুরাদ ৪-০-৩৪-২, তানভির ৪-২-৮-৩, সুমন ২.৫-০-২৩-১, সাজ্জাদ ৪-০-২৭-১

ফলাফলঃ শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব ১০ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ তানভির ইসলাম (শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

পাকিস্তানের টেস্ট স্কোয়াডে ফিরলেন নাসিম-আব্বাস

Read Next

আবারও ডিপিএলের খেলা ফিরছে বিকেএসপিতে

Total
1
Share