সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতল তামিমের দল

সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতল তামিমের দল

সূচি অনুসারে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) কোন ম্যাচই ফ্লাড লাইটের আলোয় গড়ানোর কথা ছিল না। তবে প্রথম রাউন্ড শেষে ভারী বর্ষণে দ্বিতীয় রাউন্ড স্থগিত হওয়ায় মিরপুরে একদিনে তিন ম্যাচ আয়োজনে সেটা পুষিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা। আজ (২ জুন) যে কারণে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব ও প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যকার দিনের তৃতীয় ম্যাচটি মাঠে গড়ায় ফ্লাড লাইটে। আর তাতে ফ্লাড লাইটের আলো পেছনে ফেলে আলো ছড়ালেন দুই দলের স্পিনাররা।

লো স্কোরিং সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতেছে এনামুল হক বিজয়ের নেতৃত্বাধীন প্রাইম ব্যাংক। বিজয়-তামিমদের কাজটা কঠিন করে দিয়েছে শাইনপুকুরের স্পিনার তানভীর ইসলাম ও হাসান মুরাদ, সাথে নিজেদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝিতে দুই রান আউট। টুর্নামেন্টে এটি প্রাইম ব্যাংকের টানা দ্বিতীয় জয়।

টস হেরে আগে ব্যাট করে শাইনপুকুর ৯ উইকেটে তোলে ১১৯ রান। এই লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে প্রায় হারতে বসেছিল প্রাইম ব্যাংক। দুই দলের হারানো ১৭ উইকেটের ১০টিই শিকার স্পিনারদের।

ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই ওপেনার এনামুল হক বিজয়কে হারায় প্রাইম ব্যাংক। প্রথম ম্যাচের মত এদিনও ৫ রান করে সুমন খানের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। দলীয় ৯ রানে অধিনায়ক বিজয়কে হারানোর পর রনি তালুকদারকে নিয়ে তামিম ইকবাল সহজ জয়ের পথেই হাঁটছিলেন।

তবে ৮ম ওভারের চতুর্থ বলে থার্ড ম্যান অঞ্চল থেকে দুই রান নিতে গিয়ে রান আউটে কাটা পড়েন তামিম। ২৭ বলে ৩২ রান করে সাজঘরের পথ ধরলে ভাঙে রনির সাথে ৫২ রানে জুটি।

এরপরেই শুরু হয় প্রাইম ব্যাংকের ব্যাটিং বিপর্যয়। ৯ম ওভারে রনির সাথে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে কাটা পড়ে মোহাম্মদ মিঠুন (২)। এরপর ১ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারায় এনামুল হক বিজয়ের দল। স্পিনার তানভীর ইসলাম তুলে নেন অলক কপালি (১) ও নাহিদুল ইসলামকে (০)।

মাঝে আরেক বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ ফিরিয়েছেন ১৫ বলে ২৬ রান করা রনিকে। খানিক আশার ঝিলিক দেখিয়ে ১০ বলে সমান একটি করে চার, ছক্কায় ১২ রান করে শরিফুল ইসলাম ফিরেছেন তানভীরের তৃতীয় শিকার হয়ে। ১৯ বল ও ১৫ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারানো প্রাইম ব্যাংক ৭ উইকেটে ৮৯ রানে পরিণত হয়।

তবে শেষ দিকে রকিবুল হাসান ও নাইম হাসানের ব্যাটে শেষ হাসি প্রাইম ব্যাংকেরই। দুজনের অবিচ্ছেদ্য ৩১ রানের জুটিতে ৩ বল ও ৩ উইকেটের জয় নিশ্চিত হয়। যদিও ক্যাচ মিসের খেসারত দিতে হয় শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবকে।

শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন ১৩ রান, সুমন খানের করা ১৯ তম ওভারের প্রথম বলে লং অনে নাইমের ক্যাচ ফেলেন সাজ্জাদুল হক রিপন। ঐ ওভার থেকে ১১ রান নিয়েই জয়ের পথটা এগিয়ে রাখে নাইম-রকিবুল। শেষ পর্যন্ত নাইম ১৬ বলে ১৮ ও রকিবুল ৩৪ বলে ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। তানভীর ইসলাম ৪ ওভারে মাত্র ১২ রান খরচায় তুলে নেন সর্বোচ্চ তিন উইকেট।

টস হেরে ব্যাট করা শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাবের শুরুটা বেশ ধীরেই করে। দলীয় ১৯ রানে সাব্বির হোসেনকে (১৫) হারানোর পর রানে তোলার গতি যেন আরও কমে যায়। আগের ম্যাচের মত এদিনও বেশ মন্থর শুরু ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের। তিন নম্বরে নামা রবিউল ইসলাম রবি কিছুটা হাত খুলে খেলার চেষ্টা করলেও ২০ বলে ১৮ রান করে ফিরেছেন। ২ উইকেট হারিয়ে প্রথম ১০ ওভারে দলটির সংগ্রহ ৫৬ রান।

শুরুর মন্থর গতির চাপ কমাতে গিয়ে উল্টো আরও বিপর্যয় টেনে আনে শাইনপুকুর। অফ স্পিনার নাইম হাসানকে সুইপ খেলতে গিয়ে এনামুল হক বিজয়ের গ্লাভস বন্দী হয়ে তামিম ফিরেছেন ২৮ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলে। পরে নাইম দ্রুত ফেরান মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী (২) ও সাজ্জাদুক হক রিপনকে (৪)। খালি হাতে ফিরেছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।

৭৬ রানে ৬ উইকেট হারানো শাইনপুকুর কিছুটা সম্মানজনক পুঁজি পায় তৌহিদ হৃদয়ের ২৫ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ২৯ রানের ইনিংসে। তাকে উইকেটের পেছনে বিজয়ের গ্লাভস বন্দী করান মুস্তাফিজুর রহমান। শেষ পর্যন্ত ৯ উইকেটে ১১৯ রানে থামে তৌহিদ হৃদয়ের নেতৃত্বাধীন দলটি।

১৩ বলে ১৬ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন রবিউল হক। সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নাইম হাসানের, দুইটি শিকার মনির হোসেনের। একটি করে নেন নাহিদুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম ও মুস্তাফিজ।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

র‍্যাংকিংয়ে এগিয়েছেন তাসকিন, রিয়াদ, মোসাদ্দেক

Read Next

কনওয়ের ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরিতে লর্ডসের প্রথম দিন নিউজিল্যান্ডের

Total
1
Share