রিয়াদের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের প্রথম জয়

রিয়াদের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের প্রথম জয়

লম্বা সময় পর বল হাতে দেখা যাচ্ছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) বৃষ্টি বিঘ্নিত প্রথম রাউন্ডে অবশ্য ১ ওভারের বেশি করতে পারেননি। তবে রোদ ঝলমলে দিনে আজ মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সে দলকে এনে দিলেন সহজ জয়। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জয় পাওয়া ম্যাচে বল হাতে ২ উইকেটের সাথে খেলেছেন অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংস।

মোহাম্মদ আশরাফুল ও সৈকত আলির দারুণ শুরুর পরও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় ৭ উইকেটে ১৫১ রানে থামতে হয় শেখ জামালকে। জবাবে বাজে শুরুর পরও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুমিনুল হকের ব্যাটে ৭ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে জয় পেল গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। রিয়াদের অপরাজিত ৬২ রানের সাথে মুমিনুল হক খেলেছেন ৫৪ রানের ইনিংস।

টুর্নামেন্টে এটিই গাজীর প্রথম জয়, আগের ম্যাচে তারা হেরেছিল তামিম ইকবালের প্রাইম ব্যাংকের কাছে।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দুই ওপেনার শাহাদাত হোসেন দিপু ও সৌম্য সরকার ভালো শুরু পেয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারেনি। দুজনেই ফিরেছেন সমান ১১ বলে ১৩ রান করে। দুজনেই শিকার স্পিনার এনামুল হকের।

৪০ রানে ২ উইকেট হারানো গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ধীরে লয়ে টেনে নেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুমিনুল হক। বৃষ্টিবিঘ্নিত আগের ম্যাচে ৪ বলে ১৩ রান করা মুমিনুল আজও ছিলেন সাবলীল। আগের ম্যাচে ব্যর্থ রিয়াদ এদিন ছন্দে ছিলেন শুরু থেকেই।

দুজনের ৯৭ রানের জুটিতে সহজ জয় পায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। দুজনেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা। লেগ স্পিনার তানবীর হায়দারকে লং অফ দিয়ে ছক্কা মেরে ৪২ বলে ফিফটিতে পৌঁছান রিয়াদ। একই ওভারে ডিপ এক্সট্রা কাভার দিয়ে চার মেরে ৩৪ বলে ফিফটিতে পৌঁছান মুমিনুল হক। তবে ফিফটির পর বেশিক্ষণ টিকেননি। সালাউদ্দিন শাকিলের করা ১৮ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে আউট হন মুমিনুল।

আব্দুল হালিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন ৩৬ বলে ৮ চারে ৫৪ রান করে। দলকে জয় থেকে মাত্র ১৪ রান দূরে রেখে মুমিনুল সাঝঘরে ফিরলে বাকি কাজ স্বাচ্ছন্দ্যেই শেষ করেন রিয়াদ। জাকির হোসেনকে (১০*) নিয়ে দলকে ৭ বল আগেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৫১ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় ৬২ রানে।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে আগের ম্যাচের মত এদিনও শুরু থেকে তেড়েফুঁড়ে খেলেন শেখ জামাল ধানমন্ডির দুই ওপেনার মোহাম্মদ আশরাফুল ও সৈকত আলি। তাদের গড়ে দেয়া ভীতে ১৫১ রানের পুঁজি পায় শেখ জামাল। ৬ষ্ঠ ওভারে ১ রান আসার পরেও পাওয়ার প্লেতে দুজনের জুটিতে যোগ হয় ৫০ রান।

মুকিদুল ইসলামের করা প্রথম ওভারে নিজের মোকাবেলা করা প্রথম বলেই মিড উইকেট অঞ্চলে ছক্কা হাঁকান আশরাফুল। নাহিদ হাসানের করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারে হাঁকান আরও দুইটি। প্রথম বলে ফাইন লেগ দিয়ে উড়িয়ে মারার পর তৃতীয় বলে পুল করে সীমানার বাইরে পাঠান ডিপ স্কয়ার লেগে। অন্য প্রান্তে সৈকত আলিও রান তুলেছেন একই ঘরানায়।

দুজনে ৮.১ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে ৬৯ রান তোলে। দুজনেই মিস করেছে ফিফটির সুযোগ। ব্যক্তিগত ২ রানে জীবন পেয়ে ৩০ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৩৩ রান করা সৈকত আলিকে বোল্ড করে জুটি ভাঙে সৌম্য সরকার। আশরাফুল আরও কিছুক্ষণ টিকলেও ফিরেছেন ৩৫ বলে ৪ ছক্কায় ৪১ রান করে।

এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জোড়া আঘাতের সাথে নাসুম আহমেদের প্রথম উইকেট শিকারে ২ উইকেটে ৯৯ থেকে ৫ উইকেটে ১১৪ রানে পরিণত হয় শেখ জামাল।

আশরাফুল-সৈকতের গড়ে দেয়া ভীত কাজে লাগাতে ব্যর্থ মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা। শেষদিকে জিয়াউর রহমানের ১৬ বলে ২১ রানে দেড়শো পার করে শেখ জামাল। সোহরাওয়ার্দী শুভর ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ১১ রান। ৭ উইকেটে ১৫১ রানে থামে নুরুল হাসান সোহানের দল।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সৌরভ গাঙ্গুলিদের ডেড লাইন বেঁধে দিল আইসিসি

Read Next

র‍্যাংকিংয়ে ক্যারিয়ার সেরা অবস্থানে চামিরা, পেরেরার বড় লাফ

Total
9
Share