অচেনা ইমরান উজ্জামান ঝড়ে প্রাইম দোলেশ্বরের প্রথম জয়

অচেনা ইমরান উজ্জামান ঝড়ে প্রাইম দোলেশ্বরের প্রথম জয়

ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে নেমে প্রথমবার ব্যাট করার সুযোগ পেলেন ইমরান উজ্জামান। আর তাতেই মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলাঘর সমাজ কল্যাণের বিপক্ষে ছোটখাটো একটা ঝড় বইয়ে দিলেন। আগে ব্যাট করতে নেমে তার ১৭ বলে ৪০ রানের ইনিংসে জয়ের জন্য যথেষ্ট পুঁজি পেয়ে যায় প্রাইম দোলেশ্বর। বোলারদের কল্যাণে তার দল পায় ১৯ রানের জয়।

ভারী বর্ষণের ফলে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) দ্বিতীয় রাউন্ড স্থগিত হয় গতকাল (২ জুন)। দ্বিতীয় রাউন্ড দ্রুত শেষ করতে বিকেএসপির দুই মাঠ বাদ দিয়ে দিনে তিন ম্যাচ করে মিরপুরে আনা হয় ম্যাচগুলো। দুইদিনে শেষ হবে ৬ ম্যাচ।

প্রথম রাউন্ডে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে পরিত্যাক্ত হয় প্রাইম দোলেশ্বরের ম্যাচ। যে কারণে ব্যাট করার সুযোগই পাননি দোলেশ্বরের ওপেনার ইমরান উজ্জামান।

আজ (২ জুন) মিরপুরে প্রথম ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করে তার ঝড়ে ৬ উইকেটে ১৪৯ রানের পুঁজি পায় দোলেশ্বর। জবাবে শুরু থেকেই বিপাকে পড়া খেলাঘর থেমেছে ১৩০ রানে। বৃথা যায় রিশাদ হোসেনের ৩৭ রানের ক্যামিও।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে টপ অর্ডারে ধস নামে খেলাঘর সমাজ কল্যাণের। ১৫ রানেই দলটি হারিয়েছে অধিনায়ক জহরুল ইসলাম অমি সহ দুই ওপেনারকে। ওপেনার সাদিকুর রহমান (৬) স্পিনার এনামুল হক জুনিয়রের বলে ফরহাদ রেজাকে ক্যাচ দেন। আরেক ওপেনার ইমতিয়াজ হোসেন (৩) ফিরেছেন শরিফুল্লাহর বলে বোল্ড হয়ে। ক্রিজে এসে ১ বল খেলেই রান আউটে কাটা পড়েন জহরুল (১)।

সেখান থেকে ফরহাদ হোসেন ও সালমান হোসেন ইমনের ৪০ রানের জুটিতে বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা খেলাঘরের। তবে জমে যাওয়া জুটি ভেঙে নিজের প্রথম শিকার পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বির। ২৭ বলে ১৪ রানের ধীরগতির ইনিংস খেলা ইমন ফিরেছেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে। ততক্ষণে বেড়ে যায় বলে সাথে প্রয়োজনীয় রানের সমীকরণ।

প্রথম ১০ ওভারে ৫৪ রান তোলা খেলাঘরের জন্য পরের ১০ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৯৬ রান। তবে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে সে লক্ষ্যে পৌঁছানোতে দূরের কথা হারের ব্যবধান কমানোই কঠিন হয়ে পড়ে। ফরহাদ ফিরেছেন ৩৩ বলে ৩৩ রান করে। মেহেদী হাসান মিরাজ থেমেছেন ১২ রানে। শেষদিকে রিশাদ হোসেনের ১৯ বলে ২ চার ৩ ছক্কায় ৩৭ রানে কেবল বড় হারই এড়াতে পেরেছে ফরহাদ রেজার দল। অল আউট হওয়ার আগে তাদের সংগ্রহ ১৩০ রান। প্রাইম দোলেশ্বরের হয়ে সর্বোচ্চ দুইটি করে উইকেট কামরুল ইসলাম রাব্বি, রেজাউর রহমান ও এনামুল হক জুনিয়রের।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার ইমরানুজ্জামানের ঝড়ের পরও বড় সংগ্রহ পায়নি প্রাইম দোলেশ্বর। তার ঝড়ের রেশ ধরে রাখতে পারেনি বাকিরা। আরেক ওপেনার ফজলে রাব্বিকে নিয়ে ৪.৫ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৪৫ রান। যার ৪০ এসেছে তার ব্যাট থেকেই। ১৭ বলে ৩ চার ৪ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান ইমরানুজ্জামান, আউট হয়েছেন খালেদ আহমেদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে।

ইমরান উজ্জামানের ঝড়ের বিপরীতে ধীরে খেলেন ফজলে রাব্বি। মেহেদী হাসান মিরাজের বলে রিশাদ হোসেনকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২২ বলে ১৪ রান করে। ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে ৯.৪ ওভারে ২ উইকেটে ৬৫। এরপর সাইফ হাসানকে নিয়ে মার্শাল আইয়ুবের ৩৮ রানের জুটি।

মোহাম্মদ ইফরানের গুড লেংথে পড়া স্লোয়ার বুঝতে না পেরে সাইফ ক্যাচ দেন ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ইমতিয়াজ হোসেনকে। ৩৩ বলে খেলেছেন টি-টোয়েন্টির সাথে বেমানান ২৮ রানের ইনিংস। অনেকটা একই ঘরানার ২১ বলে ২০ রানের ইনিংস খেলে মাসুম খানের বলে বোল্ড হয়েছেন মার্শালও।

শেষদিকে শামীম হোসেন পাটোয়ারী ও মোহাম্মদ শরিফুল্লাহর ছোট তবে কার্যকরী দুই ইনিংসে খেলাঘরের জন্য ১৫০ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিতে পারে প্রাইম দোলেশ্বর। শেষ ৫ ওভারে তারা যোগ করে ৪৩ রান। শামীম আউট হন ১২ বলে ১৬ রান করে, শরিফুল্লাহ অপরাজিত ছিলেন ৯ বলে ১৫ রানে। ৬ উইকেটে ১৪৯ রানে থামে ফরহাদ রেজার দল। খেলাঘরের হয়ে সর্বোচ্চ দুইটি করে উইকেট নেন খালেদ আহমেদ ও মাসুম খান।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

গাপটিলের দক্ষতা শিখতে চাইছেন বাবর

Read Next

ইতিহাস রচনার অপেক্ষায় বোল্টরা

Total
40
Share