মুশফিকের ব্যাটে জয় দিয়ে ডিপিএল শুরু আবাহনীর

মুশফিকের ব্যাটে জয় দিয়ে ডিপিএল শুরু আবাহনীর

বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) জয় দিয়ে শুরু করলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। গত বছর করোনা প্রভাবে মাত্র এক রাউন্ড মাঠে গড়ানোর পর স্থগিত হয় ডিপিএল। ১৪ মাস পর ফের শুরু হওয়া দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের জমজমাট এই আসরটি এবার টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মাঠে গড়াচ্ছে।

বৃষ্টি আইনে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ৭ উইকেতের জয় পেল মুশফিকুর রহিমের আবাহনী লিমিটেড। দলের জয়ে মুশফিক নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে, তার অপরাজিত ৩৮ রানে ৪ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য টপকায় আবাহনী।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ৯ টার ম্যাচে মুখোমুখি হয় আবাহনী ও পারটেক্স । টস জিতে আগে ব্যাট করা পারোটেক্স নির্ধারিত ২০ ওভারে অধিনায়ক তাসামুল হকের ৬৫ রানে ৫ উইকেটে ১২০ রানের পুঁজি পায়।

পারটেক্স ইনিংস শেষে নামা বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে প্রায় এক ঘন্টা। তাতেই কমে যায় ম্যাচের দৈর্ঘ্য। আবাহনীর জন্য লক্ষ্য বৃষ্টি আইনে ঠিক হয় ১০ ওভারে ৭০। সে লক্ষ্য তাড়ায় নেমে আবাহনীর উদ্বোধনী জুটি টিকেছে মাত্র ১.৪ ওভার। পেসার ইমরান আলির বাউন্সারে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত (২)।

তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক মুশফিককেও শুরুতে অস্বস্তিতে ফেলে পারটেক্স বোলাররা। প্রথম ৫ ওভারে আবাহনীর সংগ্রহ ১ উইকেটে ৩০। ৬ষ্ঠ ওভারে স্পিনার নিহাদ উজ জামান ফেরান নাইম শেখকে। লং অনে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন ১৭ বলে ১ চার ১ ছক্কায় ১৯ রান করে। মাঝে ২ রান করে আফিফ হোসেন ২ রান করে ফিরলে মুশফিকের অভিজ্ঞতায় চড়ে হোঁচট খেতে হয়নি আবাহনীকে।

মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে ২৫ রানের জুটিতে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। দলের জয়সূচক রান নেয়া মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ২৬ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ৩৮ রানে। ৪ বলে ৬ রান নিয়ে মোসাদ্দেক অপরাজিত ছিলেন ৬ রানে।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করা পারটেক্স তাসামুল হকের ফিফটির পরেও খুব একটা বড় সংগ্রহ পায়নি। মূলত টপ, মিডল অর্ডারের ধসেই বিপাকে পড়ে দলটি। দ্বিতীয় ওভারে মেহেদী হাসান রানাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড উইকেটে মোসাদ্দেক কে ক্যাচ দেন ওপেনার সায়েম আল রিজভি (১)। দারুণ শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি আরেক ওপেনার আব্বাস মুসা আলভি। ২ ছক্কায় ১০ বলে ১৭ রান করে ফিরেছেন রানার দ্বিতীয় শিকার হয়ে।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পরও তাসামুল হকের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে রানের চাকা সচল থাকে পারটেক্সের। তবে ইনিংসের পঞ্চম ওভারে নিজের প্রথম বলেই উইকেট তুলে নিয়ে পারটেক্সকে বিপাকে ফেলেন তাইজুল ইসলাম। মিড অফে আফিফ হোসেনকে সহজ ক্যাচ দিয়ে খালি হাতে ফেরেন শফিউল হায়াত হৃদয়।

পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে পারটেক্সের স্কোরবোর্ডে ৪৩ রান। তাইজুলের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ধীমান ঘোষও (৪) দ্রুত ফিরে গেলে ৫১ রানে ৪ উইকেট হারায় পারটেক্স।

সেখান থেকে দলকে মইন খানের সাথে ৪৮ রানের জুটিতে ১২০ রানের পুঁজি এনে দেন অধিনায়ক তাসামুল হক। তার ৬৫ রানে ইনিংসে চড়েই সম্মানজনক সংগ্রহ পায় পারটেক্স। ৪৭ বলে ফিফটিতে পৌঁছে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৫৪ বলে ৯ চারে ৬৫ রানে। মইন খানের ব্যাট থেকে আসে ২৫ বলে ২২ রান।

আবাহনীর হয়ে সর্বোচ্চ দুইটি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও তাইজুল ইসলাম। ৪ ওভারে সাইফউদ্দিনের খরচ ২১, তাইজুলের মাত্র ১২। একটি উইকেট শিকার পেসার শহিদুল ইসলামের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাব ১২০/৫ (২০), সায়েম ১, আব্বাস ১৭, তাসামুল ৬৫*, শফিউল ০, ধীমান ৪, মইন ২২, মিলন ৭*; রানা ৩-০-৩১-২, তাইজুল ৪-০-১২-২, শহিদুল ৪-০-২৪-১

আবাহনী লিমিটেড ৭২/৩ (৯.২), নাইম ১৯, শান্ত ২, মুশফিক ৩৮*, আফিফ ২, মোসাদ্দেক ৬*; ইমরান ২-০-১১-১, শাহবাজ ২-০-১১-১, নিহাদ উজ জামান ২-০-১৮-১

ফলাফলঃ আবাহনী লিমিটেড ৭ উইকেটে জয়ী (ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

যেকারণে আবাহনীর একাদশে নেই লিটন দাস

Read Next

বিকেএসপিতে বৃষ্টিতে পন্ড দুই ম্যাচ

Total
6
Share