‘খালি ভাইয়েরা না, আমাদেরও ম্যাচ জেতাতে হবে’

আনন্দিত তামিমরা জানেন নিজেদের কাজ এখনো বাকি

দলের তরুণ ক্রিকেটারদের দায়িত্ব নেয়া কিংবা পরিস্থিতি মোকাবেলায় অবদান রাখা নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে লম্বা সময় ধরে। সিনিয়র ক্রিকেটারদের আড়ালে বাংলাদেশকে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স নিয়মিত উপহার দিতে পারছেন না লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মোসাদ্দেক হোসেনরা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজেও ব্যর্থ হওয়ার পর সাবেক অধিয়ানায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন জানালেন তরুণদের দায়িত্বের অভাব দেখছেন।

জাতীয় দলের সাথে টিম লিডার হিসেবে থাকা সুজন মনে করেন মানসিকতায় বদল আনতে হবে ক্রিকেটারদের। তার মতে দলে নিজের গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত হয়ে ট্রেনিং মানসিকতায় বদল আনা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে সিনিয়রদের পাশাপাশি কিভাবে নিজেই ম্যাচ জেতানো যায় সে ব্যাপারে বদ্ধ পরিকর হওয়ার পরামর্শ সাবেক অধিনায়কের।

২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তরুণরা নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ হাতছাড়া করেছেন আরেক দফা। অর্ধ যুগের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন লিটন তো টানা ব্যর্থ হয়ে শেষ ম্যাচে একাদশ থেকেই ছিটকে গেছেন। তার পরিবর্তে খেলানো নাইম শেখও হয়েছেন ব্যর্থ। লোয়ার মিডলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকেই টেনে নিতে হয়েছে প্রতি ম্যাচ। আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেকরা সুযোগ হাতছাড়া করেছেনে হেলায়।

তরুণদের এমন ব্যর্থতাকে টিম ম্যানেজমেন্ট কিভাবে দেখছে জানতে চাইলে আজ (২৯ মে) মিরপুরে সাংবাদিকদের খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘এটা নিয়ে আমরা কনসার্ন, পুরো দলই কনসার্ন। ওরাও কনসার্ন, এমন না যে ওরা জানেনা, ওরাও জানে ওদের কাছে প্রত্যাশাটা কেমন। এতদিন ধরে তারা বাংলাদেশ দলকে সেবা দিচ্ছে এখন তো আমরা তাদের কাছ থেকে ধারাবাহিকতা চাই।’

তবে ক্রিকেটারদের যে দায়িত্ব নেয়ার ব্যাপারে মানসিকতায় ঘাটতি আছে সেটা তুলে ধরেছেন বিসিবির এই পরিচালক, ‘কিছু ক্ষেত্রে আমি বলবো দায়িত্বের অভাব আছে ওদেরও। আমি বলবো ওদেরকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে। কালকে মোসাদ্দেকের (৫১ রান করে আউট হয়েছে পরিস্থিতি সামাল না দিয়েই) ইনিংসটার কথাই যদি বলি, ফিফটি করে যেভাবে আউট হল সেরকম আউট তো আমরা চাইনা। তার যে সামর্থ্য, ১০০ মারার একটা সুযোগ ছিল, ম্যাচকে ক্লোজ করার একটা সুযোগ ছিল, সে সুযোগটা আমার মনে হয় মোসাদ্দেক নিতে পারেনি।’

‘দ্বিতীয় ম্যাচে লিটন ব্রিলিয়ান্ট ২৫ করেছে, এরপর যেভাবে আউট হল আমরা চাইনা লিটন এভাবে আউট হোক। আমরা চাই সে ইনিংসটাকে বড় করুক, যেমন মুশফিক করছে, তামিম করছে কিংবা রিয়াদ করেছে। আমরা চাই এই প্লেয়াররাও তাদের মত…প্রতিদিন আপনি রান করবেন না এটা সম্ভব না। কিন্তু আপনি যেদিন রান পাচ্ছেন সেদিন নিশ্চিত করতে হবে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যাচ্ছেন কিংবা ম্যাচটা কাছাকাছি নিয়ে যাচ্ছেন। এটা আমাদের তরুণদের জন্য দায়িত্বের জায়গা, তাদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে আমি কিভাবে দলকে জেতাবো।’

সিনিয়র ক্রিকেটারদের সাথে তরুণদেরও দলের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে বলে পরামর্শ দেন খালেদ মাহমুদ সুজন, ‘এটা কেবল সাকিব ভাই, রিয়াদ ভাই, মুশফিক ভাই, তামিম ভাইয়ের ব্যাপার না। খালি ভাইয়েরা না, আমাদেরও করতে হবে, আমাদেরও ম্যাচ জেতাতে হবে। অবশ্যই তারা করবে। যে চারজন আমাদের বেশ অভিজ্ঞ সিনিয়র তারাতো আমাদের প্রাণ তারা পারফর্ম করবে এটাতো আমরা সবাই চাই।’

‘কিন্তু তাদের সাথে সাথে লিটন, সৌম্য, মিঠুন, মোসাদ্দেক, নাইম শেখ যারাই ঘুরে ফিরে আসছে তাদের সবারই দায়িত্ব নিতে হবে। দলে আমার প্রয়োজন কি, আমার অবদান কি, কখনো ৩০ রান দলে অবদান হতে পারে কখনো ১০০। সুতরাং আপনার গুরুত্বটা আপনার ট্রেনিং মেন্টালিটিতে চেঞ্জ করতে হবে। আমি বলবোনা যে তাদের অ্যাপ্রোচ ভুল কিন্তু আমি বলবো সময় বাড়িয়ে দিতে হবে ট্রেনিংয়ের।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

অশ্রবণযোগ্য ভাষা ব্যবহার করে শাস্তি পেলেন তামিম

Read Next

দলের স্বার্থে শেষের দিকে ব্যাট করতেও সমস্যা নেই সাকিবের

Total
9
Share