নিখুঁত ক্রিকেটের আক্ষেপ ঝরলো তামিমের কণ্ঠে

নিখুঁত ক্রিকেটের আক্ষেপ ঝরলো তামিমের কণ্ঠে

প্রথম দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিতের পরও অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেছিলেন নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতে পারেননি। বিশেষ করে ব্যাটিং ব্যর্থতার পরও ভাগ্যক্রমে সিরিজ জিতেছেন বলেছিলেন টাইগার অধিনায়ক। আজ সিরিজের শেষ ম্যাচে বাজেভাবে হারের পর আবারও সেই কথাই শোনালেন। নিজেদের নিখুঁত ক্রিকেট খেলার আক্ষেপ নিয়েই শেষ হল ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজটি।

প্রথম দুই ম্যাচে ব্যাট হাতে ভরাডুবি ছিল লঙ্কানদেরও। দলের কোচ শেষ ম্যাচের আগে দিয়েছেন বার্তা। শিষ্যদের কাছে মিকি আর্থার অন্তত একটি জয় চেয়েছিলেন। কুশল পেরেরার দল ব্যাটে-বলে টাইগারদের হতাশা উপহার দিয়ে সে জয়ই তুলে নিল। তামিম ইকবালের দল হেরেছে ৯৭ রানে।

প্রথম দুই ম্যাচে দলের টপ অর্ডার ব্যর্থ ছিল বাংলাদেশের। মিডল অর্ডার কিংবা লোয়ার মিডল অর্ডারে মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ ছাড়া দাঁড়াতে পারেনি কেউই। দল জিতলেও তাই উন্নতির জায়গায় নিয়ে কথা বলেছিলেন তামিম। শেষ ম্যাচে সব মিলিয়ে নিখুঁত একটি জয় চেয়েছিল টাইগার কাপ্তান, হল বরং উল্টো।

বাজে এক হারের পর পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে টাইগার কাপ্তান বলেন, ‘গত ম্যাচের পর এবং এ ম্যাচের শুরুতে আমি যেমনটা বলেছিলাম, আমরা সিরিজ জিতেছি কিন্তু একবারও নিখুঁত ম্যাচ খেলিনি। আমরা এই সিরিজে আমাদের সম্ভাবনার পুরোটা দিয়ে খেলতে পারিনি। সিরিজ জেতার পর আমি বলতে পারি যে আমাদের কাজ করার মতো কিছু জায়গা আছে।’

আগেই সিরিজ হারা শ্রীলঙ্কা এদিন ভয়ডরহীন ও স্বাধীন ক্রিকেট খেলেছে। ২৮৬ রানের সংগ্রহের পথে অধুনায়ক কুশল পেরেরার সেঞ্চুরির ছিল বড় ভূমিকা। বল হাতে পেসার দুশমান্থ চামিরার ৫ উইকেটের সাথে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও রমেশ মেন্ডিশ নিয়েছেন দুইটি করে উইকেট।

সেঞ্চুরির পথে কুশল পেরেরা পেয়েছেন তিনটি জীবন। তামিমের মতে অতিরিক্ত শর্ট বল দেয়া ও ক্যাচ মিস পিছিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে।

লঙ্কানরা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলেছে উল্লেখ করে তামিম বলেন, ‘ওরা আক্রমণাত্মক মানসিকতা নিয়ে এ ম্যাচে এসেছিল এবং আমরা তাদের সেটি করতে সাহায্য করেছি। আমরা বেশি শর্ট বল করেছি। আমরা আমাদের সুযোগগুলো নেইনি, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুটি ক্যাচ ফেলেছি এবং আমাদের হয়তো ৩০ রান কম তাড়া করতে হতো।’

দলে তরুণদের অবদান রাখতে না পারা প্রসঙ্গে টাইগার কাপ্তানের ভাষ্য, ‘সিনিয়রদের ওপর ভরসা করাটা দুশ্চিন্তার, কিন্তু আমি সবসময়ই তরুণদের উপর ভরসা রাখি। আমি তাদের দিকে আঙুল তুলি না কারণ আমি জানি তারা কতটা পরিশ্রম করে। তারা পারফর্ম করলে আমরা দল হিসেবে আরও ভাল হবে কিন্তু এটা সমালোচনা করা সব সময়ই সহজ। আমি এমন কেউ নই যে নিজেদের খেলোয়াড়দের সমালোচনা করবে।’

নিজের অধিনায়কত্বে তিন সিরিজের দুইটিতে জেতা তামিম চান আরও অনেক কিছু অর্জন করতে, ‘আমি ব্যক্তিগত ও দলের নেতা হিসেবে অনেক কিছু অর্জন করতে চাই।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে পাত্তা দিল না শ্রীলঙ্কা

Read Next

নিজের ব্যাটিং, দলের প্রচেষ্টায় খুশি মুশফিক

Total
1
Share