টাইগারদের বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দিল শ্রীলঙ্কা

টাইগারদের বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দিল শ্রীলঙ্কা

প্রথম দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ খোয়ানো শ্রীলঙ্কা অন্তত শেষ ম্যাচ জিতে বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল। এমন মিশনে আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া ব্যাটসম্যানদের বাড়তি দায়িত্ব নেয়ার বার্তা দেন কোচ মিকি আর্থার। টাইগার ফিল্ডারদের ক্যাচ মিসের মহড়ার সুযোগ নিয়ে সেই দায়িত্ব নিজে সামলান অধিনায়ক কুশল পেরেরা। তার ১২০ রানের ইনিংসে আজ (২৮ মে) মিরপুরে সফরকারীরা পেল ২৮৬ রানের বড় সংগ্রহ। শেষদিকে ফিফটি হাঁকান ধনঞ্জয়া ডি সিলভাও (৫৫*)।

শুরু আর শেষের অমিল না হলে লঙ্কানদের সংগ্রহ হতে পারতো আরও বড়। তবে সে পথে দারুণ বল করে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার কাজটা করেন তাসকিন আহমেদ। প্রথম ম্যাচে উইকেট শূন্য থেকে দ্বিতীয় ম্যাচের মূল একাদশ থেকে বাদ পড়েন। কিন্তু ব্যাটিং করতে গিয়ে মাথায় আঘাত পাওয়া মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের কনকাশন বিকল্প হিসেবে খেলতে নেমে উইকেট শূন্য থাকলেও দারুণ বোলিং করেন তাসকিন।

সাইফউদ্দিনকে বিশ্রাম দিতে আজ মূল একাদশেই রাখা হয় তাসকিনকে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করা ডানহাতি এই পেসার এ দফায় সুযোগ কাজে ভালোভাবে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্রেক থ্রু এনে দিয়ে ম্যাচে উইকেট শিকার করেছেন চারটি।

টস জিতে আগে ব্যাট করা লঙ্কানরা একাদশে পরিবর্তন আনে চারটি যার মধ্যে তিনজনেরই হয়েছে অভিষেক। আগেরদিন কোচ মিকি আর্থার জানিয়েছেন স্পিন খেলার দক্ষতা থাকলেও মাঠে কেন সফল হচ্ছেনা ব্যাটসম্যানরা তা অজানা। শেষ পর্যন্ত আজ তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ স্পিনারদের বিপক্ষে বেশ সফলই হয়ে লঙ্কান ব্যাটসম্যানরা। স্পিনারদের করা ২৩ ওভারে কোন উইকেটই হারায়নি কুশল পেরেরারা।

শরিফুল ইসলামের করা প্রথম ওভারেই দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ইনিংস শুরু কুশল পেরেরার। শুরুর এই রেশ টিকে থাকে ১২ তম ওভার পর্যন্ত। ওভারপ্রতি প্রায় ৮ রানে কুশল পেরেরা ও দানুশকা গুনাথিলাকার ওপেনিং জুটিতে আসে ৮২ রান।

৯ম ওভারে প্রথম আক্রমণে আসেন তাসকিন আহমেদ। প্রথম ওভারেই খরচ করেন ১২ রান। নিজের দ্বিতীয় ওভারেই অবশ্য দারুণভাবে কামব্যাক করেন। জমে যাওয়া লঙ্কান ওপেনিং জুটি ভেঙে তুলে নেন দুই উইকেট।

তাসকিনের করা ওভারের দ্বিতীয় বৈধ বলে মিড উইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারতে চেয়েছেন ওপেনার ধানুশকা গুনাথিলাকা। তবে ব্যাটে বলে সংযোগ না হওয়ায় হয়েছেন বোল্ড, ফিরেছেন ৩৩ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৩৯ রান করে। ভাঙে ৮২ রানের ওপেনিং জুটি।

একই ওভারের শেষ বলে নতুন ব্যাটসম্যান পাথুম নিসাঙ্কাকে মুশফিকের ক্যাচে পরিণত করেন তাসকিন। অফ স্টাম্পের বাইরের গুড লেংথ বলে এজ হয়ে ক্যাচ দেন মুশফিককে। আগের দুই ম্যাচে ৮ ও ২০ রান করা নিশাঙ্কা এদিন ফিরেছেন খালি হাতে।

বিনা উইকেটে ৮২ থেকে ২ উইকেটে ৮২ রানে পরিণত হওয়া শ্রীলঙ্কাকে খুব একটা অস্বস্তিতে পড়তে দেননি অধিনায়ক কুশল পেরেরা। ৪৪ বলে ক্যারিয়ারের ১৫তম ওয়ানডে ফিফটি তুলে কুশল মেন্ডিসকে নিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৬৯ রান। জমে যাওয়া এই জুটিও ভাঙেন তাসকিন, তার তৃতীয় শিকার হয়ে মেন্ডিস ফিরেছেন ২২ রান করে। ব্যাক অফ লেংথের ডেলিভারিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড অফে ধরা পড়েন তামিমের হাতে।

মেন্ডিস ফিরে গেলেও ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরির দেখা পেয়ে যান অধিনায়ক পেরেরা। তবে তার আগে জীবন পেয়েছেন তিনটি। ২৩ তম ওভারে সাকিবের করা দ্বিতীয় ওভারে রিভার্স সুপ খেলতে গিয়ে ব্যক্তিগত ৬৬ রানে শর্ট থার্ড ম্যান অঞ্চলে মুস্তাফিজের হাত ফসকে বেঁচে যান। সাকিবের পরের ওভারে মিড অনে আরও সহজ ক্যাচ ছাড়েন আফিফ, তখন পেরেরার রান ৭৯।

সেঞ্চুরি থেকে মাত্র এক রান দূরে থেকেও আবার জীবন পান লঙ্কান দলপতি। মুস্তাফিজের করা ৩২ তম ওভারের পঞ্চম বলে স্লোয়ার বুঝতে না পেরে মিড অফে ক্যাচ তুলে দিলেও সেটি লুফে নিতে ব্যর্থ হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। পরের বলেই ফ্লিক করে পৌঁছান সেঞ্চুরিতে।

শেষ পর্যন্ত ৯৯ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছানো পেরেরা ১২২ বলে ১২০ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন। ততক্ষণে ধনঞ্জয়া ডি সিলভার সাথে জুটিতে যোগ হয় ৬৫ রান।

সিরিজে প্রথমবার খেলতে নেমে ৭ রানেই থামতে হয় নিরোশান ডিকওয়েলাকে। রান আউটে কাটা পড়েন শরিফুল ইসলামের সরাসরি থ্রোতে। তবে ফিফটির দেখা পান ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ, ২১ বলে ১৮ রান করে তাসকিনের চতুর্থ শিকার হয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজকে ক্যাচ দিয়ে।

৪০ ওভারে ২১৭ রান তোলা লঙ্কানরা শেষ ১০ ওভারে তোলে ৬৯ রান। ৬৮ বলে ফিফটি তোলা ধনঞ্জয়া শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৭০ বলে ৫৫ রানে, অভিষিক্ত রমেশ মেন্ডিস অপরাজিত ৮ রানে। আজ ৪ উইকেট নেয়ার পথে ওয়ানডেতে ৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তাসকিন। বর্তমানে তার উইকেট সংখ্যা ৫২।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম ইনিংস শেষে):

শ্রীলঙ্কা ২৮৬/৬ (৫০), গুনাথিলাকা ৩৯, পেরেরা ১২০, নিসাঙ্কা ০, মেন্ডিস ২২, ধনঞ্জয়া ৫৫*, ডিকওয়েলা ৭, হাসারাঙ্গা ১৮, মেন্ডিস (রমেশ) ৮*; শরিফুল ৮-০-৫৬-১, তাসকিন ৯-০-৪৬-৪।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে থাকছে রিজার্ভ ডে

Read Next

জানুয়ারিতে বিপিএল আয়োজনে যা সহায়তা করবে বিসিবিকে

Total
18
Share