যেভাবে ওয়ানডের দুই নম্বর বোলার হয়েছেন মিরাজ

জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ

আইসিসির সর্বশেষ হালনাগাদকৃত র‍্যাংকিং অনুসারে বর্তমানে ওয়ানডেতে দুই নম্বর বোলার বাংলাদেশী অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। জানুয়ারিতে প্রথমবার শীর্ষ পাঁচের পর এবার দুইয়ে উঠেও মিরাজ বলছেন কখনো ভাবেননি এমন কিছু হবে। সাদা পোশাকে বিস্ময় বালক হয়ে জাতীয় দলে আবির্ভাব হলেও মিরাজ নিজে বিশ্বাস করতেন সব ফরম্যাটে খেলার সামর্থ্যই তার আছে। সফল হওয়ার গল্পটাও শোনালেন এই অলরাউন্ডার।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ভালো করার ফল হিসেবে চতুর্থ অবস্থানে উঠে আসেন জানুয়ারিতে। নিউজিল্যান্ড সফরে ৩ ম্যাচে উইকেট শূন্য থাকার পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চলমান সিরিজের আগে ছিলেন পাঁচ নম্বরে। তবে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ৭ উইকেট তুলে নিয়ে আইসিসির সাপ্তাহিক হালনাগাদকৃত র‍্যাংকিং অনুসারে উঠে গেলেন দুইয়ে।

নিজের অনুভূতি জানিয়ে বিসিবির পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় মিরাজ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! র‍্যাংকিংয়ের দুই নম্বরে আসতে পেরে আমার কাছে খুব ভালো লাগছে। আমি কখনও ভাবিনি ওয়ানডে ক্রিকেটের র‍্যাংকিংয়ে দুই নম্বরে আসব। আমার কাছে খুব ভালো লাগছে।’

২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকেই বাজিমাত মিরাজের। তার স্পিন ঘূর্ণিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম বার টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। পরের বছরই অবশ্য অভিষেক হয় ওয়ানডে ফরম্যাটে। তবে শুরুর দিকে খুব একটা সুবিধা করতে পারছিলেন না এই তরুণ স্পিনার।

প্রথম ১০ ম্যাচে ৯ ও প্রথম ২০ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ছিল ১৯ টি। তবে সময়ের সাথে সাথে পরিণত হচ্ছিলেন, যদিও এখনো দেশের বাইরের উইকেটে বেশ সংগ্রাম করতে হয় মিরাজকে। কিন্তু সব ছাপিয়ে নিজের সামরথ্যের জায়গায় বেশ ধারাবাহিকতার নজির দেখাচ্ছেন। ৪৯ ম্যাচে নামের পাশে এখন উইকেট ৫৪ টি।

নিজের উন্নতির প্রক্রিয়া নিয়ে মিরাজ বলেন, ‘আমি যখন টেস্ট খেলা শুরু করেছিলাম, তখন কিন্তু আমি টেস্ট বোলারই ছিলাম। তবে আমার নিজের মধ্যে সবসময় একটা জিনিস কাজ করত যে, আমি শুধু টেস্ট খেলব না, আমি সব ফরম্যাটই খেলব এবং যেন সফলতার সঙ্গে খেলতে পারি। আমি ফোকাস রেখেছিলাম যে, ওয়ানডে ক্রিকেট খেলতে হলে আমার ইকোনমি রেটটা ঠিক রাখতে হবে।’

‘কারণ আমি যদি ইকোনমিটা ঠিক রাখি তাহলে দলে খেলার সম্ভাবনাটা বেশি থাকবে এবং দলের পরিস্থিতি অনুযায়ী যদি ব্রেকথ্রু দিতে পারি এবং গেমপ্ল্যান অনুযায়ী খেলতে পারি তাহলে আমার জন্য ভালো হবে এবং দলের জন্যও ভালো হবে। আমি শুধু ছোট ছোট জিনিসগুলো চিন্তা করেছি এবং ছোট ছোট বিষয় নিয়ে কাজ করেছি। কোন জায়গাটা ইম্প্রুভ করলে দলের হেল্প হবে, আমি দলে খেলতে পারব, ওইসব জায়গা নিয়ে কাজ করেছি, কোচদের হেল্প নিয়েছি।’

‘আমি যেটা সবসময় চেষ্টা করেছি… আমার মনে হয় যে ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের রানের জন্য অনেক তাড়া থাকে। তাই আমি মনে করেছি যে, আমার যদি অই জায়গাটায় ফোকাস থাকে, আমি যদি ভালো করতে পারি তাহলে আমার সুযোগ বেশি থাকবে।’

২০১৯ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মত স্পিনারদের জন্য বিরুদ্ধ কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতাও মিরাজকে সাহায্য করেছে। ৫ ম্যাচে নিয়েছেন ৬ উইকেট, ইকোনোমিও ছিল পাঁচের নিচে।

এ প্রসঙ্গে ২৩ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার যোগ করেন , ‘আর যেটা বলব, বিশ্বকাপ। সেটা অনেক বড় একটা ইভেন্ট ছিল। যা আমার আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়েছে। সেখানে অনেক বিশ্বমানের খেলোয়াড়েরা থাকে আপনারা জানেন। ইংল্যান্ডে তো স্পিন ট্র্যাক না। আমি চেষ্টা করেছি যতটুকু সম্ভব, নিজে ভালো করা যায়। কারণ ওয়ার্ল্ডকাপে অনেক ভালো উইকেট থাকে।’

‘আমি নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করেছিলাম যে, আমি যদি উইকেট নাও পাই, ব্যাটসম্যান যেন আমাকে মারতে না পারে। আমার ওপর ডমিনেট না করতে পারে। আমি যেন টিমের প্রয়োজনে যেকোনো সময় রান চেক দিয়ে ২-১টা উইকেট বের করতে পারি।’

‘ঐটাই চেষ্টা করেছি। কয়েক ম্যাচে হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে হয়েছে, নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ডের সাথেও ২ উইকেট করে পেয়েছি। ছোট ছোট জিনিসই অনেক সময় পার্থক্য গড়ে দেয়। আমি সেগুলো নিয়েই চিন্তা করেছিলাম।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ছিটকে গেলেন ফোকস, ইংলিশ স্কোয়াডে বিলিংস-হাসিব

Read Next

মুস্তাফিজের সাফল্যে খুশি রাজস্থান রয়্যালস সিওও

Total
3
Share