শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয়

শ্রীলঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের সিরিজ জয় 1

জিতলেই সিরিজ নিশ্চিত, তবে জয় পরাজয় ছাপিয়ে ম্যাচের আগে আবহাওয়া পূর্বাভাস বাড়িয়েছে শঙ্কা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ জয়ের অপেক্ষাটা অবশ্য দীর্ঘ হয়নি। ম্যাচের আগের বৃষ্টির চোখ রাঙানি, ম্যাচে কয়েক দফা বৃষ্টির পর টাইগার বোলারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পন লঙ্কানদের। মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য সেঞ্চুরির পর বোলারদের দারুণ নৈপুণ্যে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ বাংলাদেশের।

মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ (২৫ মে) দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশ জিতেছে ১০৩ রানে। আর এতেই ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যায় বাংলাদেশ। ৮ ম্যাচে ৫ জয়ে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ৫০। ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্ট সমান ৪০।

দলের বিপর্যয়ে আরেকবার বুক চিতিয়ে ব্যাট হাতে লড়াই করলেন মুশফিক। তার ১২৫ রানের ইনিংসে বাংলাদেশ পায় ২৪৬ রানের পুঁজি। জবাবে মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসানের স্পিন ঘূর্ণির সাথে মুস্তাফিজুর রহমান ও অভিষিক্ত শরিফুল ইসলামের তোপে বৃষ্টি আইনে ১০৩ রানে জয় পায় বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কা ৩৮ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১২৬ রান তোলার পর বৃষ্টি নামে। তখনো জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭২ বলে ১২১। বৃষ্টি শেষে ফের খেলা শুরু হতে আরও ৪০ মিনিট। তাতে লঙ্কানদের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ২ ওভারে ১১৯ (৪০ ওভারে ২৪৫)!

অভিষিক্ত বাঁহাতি পেসার শরিফুল দলকে দেন প্রথম ব্রেক থ্রু। ইনিংসের ৬ষ্ঠ ও নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসেই ফেরান লঙ্কান অধিনায়ক কুশল পেরেরাকে। ১৫ বলে ১৪ রান করা পেরেরা ফুল লেংথে পড়া বলকে উড়িয়ে মারতে গেলেও মিড অনে তামিম ইকবালের ক্যাচে পরিণত হন। পেরেরার বিদায়ে ভাঙে ২৪ রানের ওপেনিং জুটি।

আরেক ওপেনার ধানুশকা গুনাথিলাকাও সেট হয়ে ইনিংস বড় করতে পারেননি। মুস্তাফিজুর রহমানের করা ব্যাক অফ লেংথ বলে স্কয়ার কাট খেলার চেষ্টা করেন। তবে বল খুঁজে নেয় ডিপ পয়েন্ট অঞ্চলে দাঁড়ানো সাকিবের হাত। ৪৬ বলে ২৪ রানে ইতি ঘটে গুনাথিলাকার ইনিংসের।

এরপর পাথুম নিশাঙ্কাকে ( ২০) তামিমের ক্যাচে পরিণত করে ম্যাচে নিজের প্রথম উইকেট তুলে নেন সাকিব। ৬ রানের ব্যবধানে সাজঘরের পথ ধরতে হয় কুশল মেন্ডিসকেও (১৫)। আগের ম্যাচে ৪ উইকেট তুলে নেয়া মিরাজের অফ স্পিনে পরাস্ত হয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন মেন্ডিস। রিভিউ নিয়েও অবশ্য বাঁচতে পারেননি। এরপর সাকিবের বলে একই পরিণতি ধনঞ্জয়া ডি সিলভারও (১০), লঙ্কানরা পরিণত হয় ৫ উইকেটে ৮৯ রানে।

আর তাতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় কুশল পেরেরার দল। মিরাজ, মুস্তাফিজদের তোপে নূন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করতে পারেনি সফরকারীরা। আগের ম্যাচে ঝড়ো ৭৪ রানের ইনিংস খেলা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা করতে পেরেছেন মাত্র ৬ রান। আসেন বান্দারা ও দাসুন শানাকার ব্যাট থেকে আসে যথাক্রমে ১৫ ও ১১ রান।

১২২ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে লঙ্কানদের পরাজয় যখন সময়ের ব্যাপার তখনই বৃষ্টির হানা। বৃষ্টি শেষে আনুষ্ঠানিকতা রক্ষার ২ ওভার খেলতে নেমে ১৫ রানের বেশি করতে পারেনি লঙ্কান শেষ দুই ব্যাটসম্যান। ইসুরু উদানা ১৮ রানে ও ৪ রানে অপরাজিত ছিল লাকশান সান্দাকান।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট মিরাজ ও মুস্তাফিজের। আজ দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে মাশরাফি বিন মর্তুজার সাথে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় উঠে আসেন সাকিব (২৬৯)।

এর আগে মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে ভর করে ২৪৬ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডের মত এদিনও ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। আগে পরে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার ভীড়ে মুশফিক একা হাতেই টেনে নেন টাইগারদের। তার ১২৫ রানের ইনিংসের পর দলের হয়ে দ্বিতীয় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৪১ মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে।

ইনিংসের শুরুতে অবশ্য ঝড়ের আভাস তামিম ইকবালের। ইসুরুর উদানার প্রথম ওভারে টানা তিন চার হাঁকান, স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ১৫ রান। তবে পরের ওভারেই দুশমান্থ চামিরার বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে তামিম। ৬ বলে ১৩ রানেই থামে তার ঝড়। ৩ বলের ব্যবধানে একই পরিণতি সাকিব আল হাসানের। এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাকিব ফিরেছেন খালি হাতে।

১৫ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশ আশা দেখে টানা ব্যর্থতা প্রদর্শন করা লিটন দাস ও মুশফিকের ব্যাটে। লিটন এদিনও ভালো শুরু পেয়ে ফিরেছেন ২৫ রান করে। এ নিয়ে সর্বশেষ ৮ ইনিংসে ৩০ রান পেরোতে পারেননি এই ডানহাতি, আগের ম্যাচে ফিরেছেন খালি হাতে। প্রায় দুই বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অবদান মাত্র ১০ রান। লিটন-মোসাদ্দেক দুজনকেই ফেরান বাঁহাতি চায়নাম্যান লাকশান সান্দাকান।

৭৪ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে ৮৭ রানের জুটিতে পথে রাখেন মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ রিয়দ। ৫৮ বলে ৪১ রান করে রিয়াদ ফিরেছেন সান্দাকানের তৃতীয় শিকার হয়ে। ততক্ষণে ফিফটি তুলে নেন মুশফিক, পরে সাইফউদ্দিনকে নিয়ে ৪৮ রানের জুটি গড়ার পথে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৮ম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। তার সেঞ্চুরির অপেক্ষা বাড়িয়েছিল দুই দফায় প্রায় ১ ঘন্টার বৃষ্টি।

১১ রান করে রান আউটে কাটা পড়া সাইফউদ্দিন হেলমেটের আঘাত পেয়ে হাসপাতালে যান। তার কনকাশন বদলি হিসেবে একাদশে অন্তর্ভূক্ত করা হয় পেসার তাসকিন আহমেদকে।

১১৪ বলে সেঞ্চুরিতে পৌঁছানো মুশফিক শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়েছেন ইনিংসের ১১ বল বাকি থাকতে। ততক্ষণে নামের পাশে ১২৭ বলে ১০ চারে ১২৫ রান। লঙ্কানদের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট সান্দাকান ও চামিরার।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ২৪৬/১০ (৪৮.১), তামিম ১৩, লিটন ২৫, সাকিব ০, মুশফিক ১২৫, মোসাদ্দেক ১০, মাহমুদউল্লাহ ৪১, আফিফ ১০, মিরাজ ০, সাইফউদ্দিন ১১, শরিফুল ০, মুস্তাফিজ ০*; উদানা ৯-০-৪৯-২, চামিরা ৯.১-২-৪৪-৩, হাসারাঙ্গা ১০-১-৩৩-১, সান্দাকান ১০-০-৫৪-৩

শ্রীলঙ্কা ১৪১/৯ (৪০), গুনাথিলাকা ২৪, পেরেরা ১৪, নিসাঙ্কা ২০, মেন্ডিস ১৫, ধনঞ্জয়া ১০, বান্দারা ১৫, শানাকা ১১, হাসারাঙ্গা ৬, উদানা ১৮*, সান্দাকান ৪, চামিরা ৪*; মিরাজ ১০-০-২৮-৩, শরিফুল ৬-০-৩০-১, মুস্তাফিজ ৬-১-১৬-৩, সাকিব ৯-০-৩৮-২

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ১০৩ রানে জয়ী (ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে)

ম্যাচসেরাঃ মুশফিকুর রহিম (বাংলাদেশ)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

আইপিএলের শেষাংশ শুরুর সময় ও ভেন্যু প্রায় চূড়ান্ত

Read Next

১১ বলের আক্ষেপ লুকালেন না মুশফিক

Total
3
Share