মিরপুরে বৃষ্টির বাগড়া দেবার দিনে মুশফিকের ওয়ান ম্যান শো

মিরপুরে বৃষ্টির বাগড়া দেবার দিনে মুশফিকের ওয়ান ম্যান শো

জিতলেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমবারের মত ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত। এমন সমীকরণে বৃষ্টির শঙ্কা নিয়ে আজ (২৫ মে) দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে। শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরিতে ভর করে অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৪৬।

অল আউট হওয়ায় ১১ বল আগেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস। পেসার দুশমান্থ চামিরার শুরুর তোপের পর লাকশান সান্দাকানের স্পিন ঘূর্ণিতে মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ছাড়া দাঁড়াতে পারেনি টাইগার ব্যাটসম্যানরা। মুশফিকের ১২৫ রানের ইনিংসের সাথে রিয়াদের ব্যাট থেকে আসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪১ রান।

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে টানা তিন চারে ইনিংস শুরু করেন তামিম। ইসুরু উদানার করা প্রথম বলে কাভার-পয়েন্ট অঞ্চল দিয়ে চার হাঁকান এই বাঁহাতি। ওভার স্টেপিংয়ের কারণে নো হওয়ায় পরের ফ্রি হিট বল থেকেও মিড উইকেট দিয়ে চার তামিমের। নিজের করা তৃতীয় বলটি ওয়াইড দেন উদানা। পরের ওভার পিচ বলে দারুণ এক কাভার ড্রাইভে আরও এক চার। যদিও চতুর্থ বলেই পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান তামিম। প্রথম ওভার থেকে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ১৫ রান।

কিন্তু দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই থামতে হয় তামিমকে। দুশমান্থ চামিরার ফুলার লেংথের দ্রুত গতির বল ফ্লিক করতে গিয়ে পরাস্ত হন টাইগার দলপতি। ব্যাট মিস করে বল আঘাত হানে তামিমের সামনের প্যাডে। আম্পায়ার জোরালো আবেদনে সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় শ্রীলঙ্কা, তাতেই ইতি ঘটে তামিমের ৬ বলে ১৩ রানের ইনিংসের।

একই ওভারে চতুর্থ বলে সাকিব আল হাসানকেও খালি হাতে ফেরান চামিরা। আড়াআড়ি রান আপে করা তার গুড লেংথের গতিময় বল বুঝতে গড়মিল টাইগার অলরাউন্ডারের। ৩ বলে কোনো রান না করে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফিরতে হয় সাকিবকে। ওভারে কোনো রান খরচ না করে দুই উইকেট চামিরার।

১৫ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশ মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। তবে তাদের ৩৪ রানের জুটি ভাঙে লিটন আরেক দফা ব্যর্থ হলে। আগের ম্যাচে খালি হাতে ফেরা এই ব্যাটসম্যান বাঁহাতি চায়নাম্যান লাকশান সান্দাকানের বলে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে ক্যাচ দেন ২৫ রান করে।

এই নিয়ে সর্বশেষ ৮ ইনিংসে ছুঁতে পারেননি ৩০ রানও। প্রায় দুই বছর পর ওয়ানডে খেলতে নামা মোসাদ্দেক হোসেনে সৈকতের সাথেও জুটি জমেনি মুশফিকের। ২৫ রানের জুটিতে মোসাদ্দেকের অবদান ১০, ফিরেছেন সান্দাকানের দ্বিতীয় শিকার হয়ে উইকেটের পেছনে কুশল পেরেরাকে ক্যাচ দিয়ে।

৭৪ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে আগের ম্যাচের মত পথে রাখে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সাথে মুশফিকের ৮৭ রানের জুটি। সান্দাকানের করা ৩০তম ওভারের প্রথম বলকে স্লগ সুইপে লং অন ও মিড উইকেটের মাঝামাঝি অঞ্চলে পাঠিয়ে ২ রান নিয়ে ক্যারিয়ারের ৪১তম ওয়ানডে ফিফটিতে পৌঁছান মুশফিক।

তবে ফিফটি ছোঁয়ার আগেই ফিরেছেন মাহমুদউল্লাহ। সান্দাকানের তৃতীয় শিকার হয়েছেন ল্যাপ-স্কুপ খেলতে গিয়ে উইকেট রক্ষক নিরোশান ডিকওয়েলাকে ক্যাচ দিয়ে। ৫৮ বলে ১ চার ২ ছক্কায় তার রান ৪১। নতুন ব্যাটসম্যান আফিফও টিকেননি বেশিক্ষণ। বাঁহাতি পেসার উদানাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিড অনে পাথুম নিশাঙ্কাকে ক্যাচ দেন ১০ রানে। ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার গুগলি বুঝতে না পেরে বোল্ড হয়ে খালি হাতে ফিরেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

ঘূর্ণিঝড় ইয়াশের প্রভাবে ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা ছিল আগেই। তবে আকাশে মেঘ থাকলেও ৪১.১ ওভার পর্যন্ত নির্বিঘ্নেই চলে খেলা। স্থানীয় সময় ৪ টা ৯ মিনিটে নামা গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ থাকে ২৫ মিনিট। কিন্তু ১৪ বল পর ৪৪তম ওভারের মাঝপথে আবারও শুরু হয় বৃষ্টি। এ দফায় খেলা বন্ধ থাকে প্রায় ৩৫ মিনিট।

মুশফিক ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে টেনে নেওয়ার পথে ক্যারিয়ারের ৮ম ওয়ানডে সেঞ্চুরির দেখা পান মুশফিক। ৭০ বলে ফিফটি তোলা মিস্টার ডিপেন্ডেবল তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন ১১৪ বলে। বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে ৯৬ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিক।

খেলা শুরু হওয়ার পর ইনিংসের ৪৫ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে চামিরাকে ফাইন লেগ দিয়ে চার মেরে সেঞ্চুরিতে পৌঁছান। প্রায় দুই বছর ও ১৫ ইনিংস পর ওয়ানডে সেঞ্চুরি হাঁকালেন মুশফিক। ২০১৯ বিশ্বকাপে সর্বশেষ ট্রেন্ট ব্রিজে সেঞ্চুরি হাঁকান এই উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান।

মুশফিককে যোগ্য সঙ্গ দেয়া সাইফউদ্দিন রান আউটে কাটা পড়েন ১১ রানে। ততক্ষে দুজনের জুটিতে যোগ হয় ৪৮ রান। সাইফউদ্দিনের বিদায়ের পরও অবশ্য থামেনি মুশফিকের ব্যাটে রান তোলা। তবে সাইফউদ্দিনের পর শরিফুলের খালি হাতে ফেরা ও মুশফিক নিজে আউট হওয়ায় ২৪৬ রানেই থামতে হয় বাংলাদেশকে। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ১২৭ বলে ১০ চারে ১২৫ রান। লঙ্কানদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ টি করে উইকেট চামিরা ও সান্দাকানের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম ইনিংস শেষে):

বাংলাদেশ ২৪৬/১০ (৪৮.১), তামিম ১৩, লিটন ২৫, সাকিব ০, মুশফিক ১২৫, মোসাদ্দেক ১০, মাহমুদউল্লাহ ৪১, আফিফ ১০, মিরাজ ০, সাইফউদ্দিন ১১, শরিফুল ০, মুস্তাফিজ ০*; উদানা ৯-০-৪৯-২, চামিরা ৯.১-২-৪৪-৩, হাসারাঙ্গা ১০-১-৩৩-১, সান্দাকান ১০-০-৫৪-৩

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

একাদশে মুস্তাফিজ-শরিফুল, সামনে এলো ৩১ বছরের পুরনো ম্যাচ

Read Next

হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে সাইফউদ্দিনকে, খেলছেন তাসকিন

Total
13
Share