সাইফউদ্দিন যেভাবে জেদ থেকে সাফল্যের পথ খুঁজে নিলেন

সাইফউদ্দিন যেভাবে জেদ থেকে সাফল্যের পথ খুঁজে নিলেন

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়ের পথে দারুণ ভূমিকা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের। বল হাতে গুরুত্বপুর্ণ সময়ে তুলে নেন দুই উইকেট। বিশেষ করে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গাকে ফিরিয়ে স্বস্তি দেন টাইগার শিবিরে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ড সিরিজে খুব একটা সুযোগ না পাওয়া সাইফউদ্দিন এবার জেদ নিয়েই বাড়ি থেকে ফিরেছেন। লঙ্কানদের বিপক্ষে শুরু থেকেই জ্বলে উঠতে চেয়েছেন।

ঘরের মাঠে জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে এক ম্যাচে সুযোগ পেয়ে সাইফউদ্দিনের উইকেট তিনটি। নিউজিল্যান্ড সিরিজে খেলতে পেরেছেন মাত্র একটি ওয়ানডে, যদিও ৪৩ রানে ছিলেন উইকেট শূন্য।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড সিরিজে নিয়মিত একাদশে না থাকা এই তরুণ অলরাউন্ডার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেই সুযোগ পেলেন। করলেন বাজিমাতও, তৃপ্ত সাইফউদ্দিন বলছেন নিজের সর্বোচ্চটা নিংড়ে দিচ্ছেন।

বাংলাদেশের দেয়া ২৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১০২ রানে ৬ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। সেখান থেকে দাসুন শানাকার সাথে ৪৭ ও ইসুরু উদানার সাথে ৬২ রানের জুটিতে দলকে জয়ের পথে রাখেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। লঙ্কানদের লাগাম টেনে ধরা জুটি দুইটি ভাঙেন সাইফউদ্দিন। প্রথম শানাকা (১৪) ও পরে ৬০ বলে ৭৪ রান করা হাসারাঙ্গাকে ফেরান এই তরুণ। হাসারাঙ্গার বিদায়ের পরই শেষ হয়ে যায় সফরকারীদের জয়ের স্বপ্ন, হারতে হয় ৩৩ রানে।

হাসারাঙ্গার বিপক্ষে সফল হওয়া ও দলে অবদান রাখা প্রসঙ্গে সাইফউদ্দিন আজ এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মন থেকে চাচ্ছিলাম। এফোর্ট দিচ্ছিলাম যতটা পারি নিজের থেকে। এটা বাংলাদেশের জয়ের খুব দরকার ছিল। সেটা ভূমিকা রাখতে পেরেছি। এজন্য নিজে খুব খুশি। হাসারাঙ্গার সঙ্গে যুব দলের বিশ্বকাপ খেলেছি। কিছুটা হলেও ওকে চিনি। অবশ্যই ভালো ব্যাটিং করেছে। উইকেট বুঝে ফিল্ডিং সেট আপ করে ওর উইকেট নিতে পেরে খুশি।’

সাম্প্রতিক সময়ে খুব বেশি সুযোগ না পাওয়াটা জেদ তৈরি করেছে উল্লেখ করে ২৪ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘রোজার মাসে অনেক কাজ করেছি। যদিও নিউজিল্যান্ড সিরিজ ছিল, ওয়েস্ট ইন্ডিজ হোম সিরিজ ছিল। সুযোগ পাচ্ছিলাম না। নিজের ভেতরে জেদ কাজ করেছে। চেষ্টা ছিল এ সিরিজে প্রথম থেকে খেলবো। গোল সেট করে বাড়ি থেকৈ আসা। প্রথম ম্যাচে সুযোগ পেয়ে নিজেকে মেলে ধরতে পেরেছি। আরও দুইটা ম্যাচ বাকি আছে চেষ্টা করবো ধারাবাহিকতা বজা রাখার।’

গরমে মানিয়ে নেয়া প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘এর আগে একটা অনুশীলন ম্যাচ খেলেছি বিকেএসপিতে। ধারণা হয়েছে এই গরমে কিভাবে নিজেকে মেইন্টেইন করতে হবে। ওভারের মাঝে পানি খাওয়া, স্যালাইন ও হাইড্রোয়েড খাওয়া..এগুলোতে নিজেদের মানিয়ে নিয়েছি। বাউন্ডারি লাইনের শেষে পানি স্যালাইন এসব রেখেছি। কিছুটা কষ্ট হয়েছে। তবু চেষ্টা করেছি নিজের শতভাগ দেওয়ার কারণ আন্তর্চাতিক ম্যাচ। ইন শা আল্লাহ দিতে পেরে খুশি।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

আমিরকে যেকারণে পাকিস্তান দলে চান ওয়াসিম

Read Next

৫-৬ নম্বরে ব্যাট করতে চাওয়া সাইফউদ্দিন মানেন বাস্তবতাও

Total
22
Share