অ্যাশেজ ও ভারত-বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ এক হওয়ায় ব্রডের অসন্তোষ

স্টুয়ার্ট ব্রড

আগামী জুনে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। তবে তালিকার চার নম্বরে থাকায় ইংল্যান্ড ফাইনাল খেলতে না পারায় হতাশ ইংলিশ পেসার স্ট্রুয়ার্ট ব্রড। তার মতে পয়েন্ট বন্টনের পদ্ধতিতে আছে কিছুটা অগ্রহণযোগ্যতা। অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের পাঁচ ম্যাচ অ্যাশেজ সিরিজ ও বাংলাদেশ-ভারত দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের পয়েন্ট সমান হওয়াটা কোনোভাবেই যৌক্তিক না।

টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চালু করেছে ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। দুই বছরের চক্রে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে র‍্যাংকিংয়ের সেরা ১০ দল খেলবে নির্দিষ্ট সংখ্যক টেস্ট সিরিজ। সিরিজে ম্যাচ সংখ্যা যতই হোক না কেন পুরো সিরিজের জন্য বরাদ্দ ১২০ পয়েন্ট। ফলে পাঁচ ম্যাচ টেস্ট সিরিজ থেকে পূর্ণ ১২০ পয়েন্ট আদায় করতে জিততে হবে সবকটি ম্যাচ। আবার ২ ম্যাচ টেস্ট সিরিজের দুইটিতেই জিতলেও ১২০ পয়েন্ট।

তবে অ্যাশেজে পাঁচ ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলতে হয় বলে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের জন্য এই সিরিজ থেকে পূর্ণ পয়েন্ট আদায় করা বেশ কঠিনই। যেখানে দুই কিংবা তিন ম্যচের টেস্ট সিরিজে কাজটা অনেকটাই সহজ।

সর্বশেষ হালনাগাদকৃত পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষ দল ভারত এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে বেশ ভালোভাবে। ৬ সিরিজে তাদের ম্যাচ খেলতে হয়েছে মাত্র ১৭ টি, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে থাকা নিউজিল্যান্ডও অনেকটা একই রকম অবস্থায়। ৫ সিরিজে তারা খেলেছে ১১ টি ম্যাচ।

তবে তালিকার তিন নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়া ৪ সিরিজেই ১৪ ম্যাচ ও চার নম্বরে থাকা ইংল্যান্ড ৬ সিরিজে খেলেছে ২১ ম্যাচ।

পয়েন্ট আদায়ের ক্ষেত্রে এমন অসামঞ্জস্য পদ্ধতির খানিক সমালোচনা করে দ্য প্রেস অ্যাসোসিয়েশনে স্টুয়ার্ট ব্রড জানান, ‘টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ একটা দারুণ ধারণা এটা অন্তত এখনো পর্যন্ত আমার মনে হয়না। এটি কেবল প্রথম প্রচেষ্টা। আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারিনা পাঁচ ম্যাচ অ্যাশেজ সিরিজ ও বাংলাদেশ-ভারত দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ কীভাবে সমান মূল্যায়ন হয়।’

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মাঝপথে করোনা হানা দেওয়ায় বেশ কয়েকটি সিরিজ স্থগিত হয়। ফলে দুই ফাইনালিস্ট চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে মাঝপথেই আইসিসিকে ম্যাচ জয়ের সাফল্যের শতাংশ পদ্ধতিতে হাঁটতে হয়েছে। এ পদ্ধতি বেশ কিছু মহলেই সমালোচিত হয়েছে। ব্রড বিশ্বাস করেন টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ টেস্ট ক্রিকেটে বাড়তি মাত্রা যোগ করলেও উন্নতির জায়গা আছে বেশ।

এই ইংলিশ পেসার বলেন, ‘এই ধারণাটিতে (টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ) নিশ্চিতভাবেই কিছু ইতিবাচকতা আছে। আর এটি খেলাটিতে একটা প্রাসঙ্গকিতা তৈরি করেছে। তবে আমি মনে করি সবকিছু দারুণভাবে কাজ করাতে হলে আরও কিছু জায়গায় কাজ করতে হবে।’

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান পদ্ধতিতে ফাইনাল খেলা ইংল্যান্ডের জন্য কঠিন বলে মনে করেন ৫১৭ টেস্ট উইকেটের মালিক, ‘আমাদের সুযোগ ছিল, তবে বর্তমান পদ্ধতিতে আমরা ইংল্যান্ডের হয়ে যত বেশি ক্রিকেট খেলি তাতে আমাদের জন্য ফাইনালে ওঠা খুব কঠিন কাজ।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

আকাশ চোপড়ার চোখে শ্রীলঙ্কায় ভারতের স্কোয়াড

Read Next

তাসকিনের জন্য সামনের ১২ মাসকে বিশাল কিছু বলছেন গিবসন

Total
8
Share