যেভাবে ক্রিকেটারদের আস্থার অন্যতম জায়গা খালেদ মাহমুদ সুজন

প্লেয়ারদের ঐ সুইচ অফ হয়ে গেছেঃ সুজন

দেশের ক্রিকেটারদের অন্যতম ভরসা, আশ্রয়ের জায়গায় সাবেক অধিনায়ক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালক ও স্বনামধন্য কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন। বর্তমান জাতীয় দলের বেশিরভাগ ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ঘরোয়া ক্রিকেটের পরিচিত মুখদেরও আস্থার জায়গা সুজন। বিশেষ করে ক্লাব ক্রিকেটে কোচিংয়ের বদলৌতে তরুণ ও উঠতি ক্রিকেটারদের পেছন থেকে সমর্থন জোগানোর কাজটা দারুণভাবে করেন সাবেক এই পেসার।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজে, তাসকিন আহমেদ, নাজমুল হোসেন শান্ত থেকে ডোপ টেস্টে পজিটিভ হয়ে নিষিদ্ধ কাজী অনিক, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের তীর ওঠা জুবায়ের হোসেন লিখন সহ বহু ক্রিকেটারই দুঃসময়ে সমর্থন পেয়েছেন খালেদ মাহমুদ সুজনের। দেশের ক্রিকেট নিয়ে তার ভাবনার গভীরতাও প্রশংসার দাবিদার। বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান হয়ে দেশকে এনে দিয়েছেন যুব বিশ্বকাপ। তার কাজের প্রশংসা করেছেন সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজার মত তারকারাও।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে মিশে আছেন ক্রিকেটের সাথেই। টেকনিক, স্কিলের বাইরে ক্রিকেটারদের ভুল পথ থেকে ফেরানো সহ অভিভাবকের দায়িত্বটা পালন করেন সুনিপুনভাবে।

ক্রিকেট৯৭’ এর সাথে আলাপে সুজন জানালেন ক্রিকেটারদের পাশে থাকার কাজটা দায়িত্ব মনে করেই করেন। নিজের খেলোয়াড়ি জীবনে পাওয়া শিক্ষাই প্রয়োগ করেন বলছেন সাবেক এই অধিনায়ক।

তিনি বলেন, ‘অন্য কিছুনা। ওরা খেলছে, ওদের খেলা দেখেছি, আমার দলেও খেলেছে অনেকে। আমি জানিতো ছেলেদের সামর্থ্য আছে। দেখেন এই বয়সে ছেলেদের ভুল ত্রুটি স্বাভাবিকভাবেই হয়, ভুল পথে যায়, ভুলভাবে চিন্তা করে। তো সে ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার নতুন করে শুরু করতে হলে ভালো পথে রাখার চেষ্টা, কিছু ভালো কথা বলারতো বিকল্প নেই।’

‘আমি সেভাবেই অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করি। এরপর কে কতটুকু নিচ্ছে, কতটুকু প্রয়োগ করছে সেটাতো আমি ঠিক করে দিতে পারবোনা। সেটা তাদের নিজেদের মধ্যে আয়ত্ব করতে হবে।’

ভুল পথে হাঁটা ক্রিকেটারদের দৃষ্টি সীমার বাইরে না ফেলে সঠিক উপায়ে পথে আনার চেষ্টা সবারই করা উচিৎ বলে মত তার, ‘(অন্যরা) দেয়না যে তা না। সবাই দেয়, আমি আসলে সেটা নিয়ে ভাবিনা কে কি বলে। যখন ছেলেরা বিপদে পড়ে, পারফর্ম করতে পারছেনা তখন আমরা চেষ্টা করি। আমি ব্যক্তিগতভাবে আসলে চেষ্টা করি। অন্যরা করে কিনা সেটাতো আসলে আমি বলতে পারবোনা। সবারই অবশ্য উচিৎ সমর্থন দেয়া, সবাইতো খেলোয়াড়।’

বাজে সময় পার করে নতুন রূপে ফিরে আসা তাসকিনের উদাহরণ টেনে সুজন বলেন, ‘যেমন তাসকিন তরুণ ছিল, ভুল করতো, ভুল করেছে। এটা স্বাভাবিক, আমরাও ভুল করেছি, বড় ভাইরা আমাদের শুধরে দেয়ার চেষ্টা করতো। এই যে আমরা তাদের দেখে শিখেছি, আমাদের দেখেইতো অন্যরা শিখবে। সে জায়গা থেকেই চেষ্টা করি, নিবে কি নিবে না সেটা ওদের ব্যাপার।’

‘আমার বলার দরকার বলি, বড় ভাই হিসেবে একটা দায়িত্ব থাকে সেটা পালন করি। তাসকিনের সাথে ছোটবেলা থেকে সম্পর্ক, সে অধিকারের জায়গা থেকে বলি। এরপর সেটা তাসকিনের ব্যাপার কোনটা নিবে কোনটা নিবেনা।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

নড়াইলবাসীর জন্য মাশরাফির ঈদ উপহার

Read Next

ইংলিশ ক্রিকেটারদের আইপিএল খেলতে ঐক্যবদ্ধ হতে বললেন পিটারসেন

Total
12
Share