ইমরুল জানতেন তিনি পাশেই আছেন

ইমরুল জানতেন তিনি পাশেই আছেন
Vinkmag ad

পারফর্ম করেও ইমরুল কায়েসের দল থেকে বাদ পড়া নতুন কিছু নয়। ২০১৮ সালের পর ওয়ানডে ও ২০১৯ সালের পর জাতীয় দল থেকেই ছিটকে গিয়ে নানা সময়ে নিজের হতাশার কথা জানিয়েছেন গণমাধ্যমে। তবে এবার আরেক দফা সুযোগ পেয়ে ইমরুল জানালেন বাদ পড়ে কখনোই ভাবেননা হারিয়ে গেছেন। পাশেই আছেন বিশ্বাস করে পারফর্ম করলেই ফিরবেন মাথায় গেঁথে নিয়েছেন।

ওয়ানডে কিংবা টেস্ট এখনো পর্যন্ত তামিম ইকবালের যোগ্য ওপেনিং সঙ্গীর তালিকা করতে গেলে ইমরুল কায়েসই থাকবেন সবার উপরে। পরিসংখ্যান অন্তত বাকিদের চাইতে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে রাখছে বেশ এগিয়ে। তবে ক্যারিয়ার জুড়েই ইমরুলের সঙ্গী দুর্ভাগ্য।

বাজে পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি বাদ পড়েছেন টিম কম্বিনেশন আর কন্ডিশনের দোহাইতে। মাঝেমাঝে হুট করে ডেকে নিয়ে খেলানো হয়েছে কারও চোটে পড়ার ফলে, পারফর্ম করতে না পারলেই বাদ পড়েছেন পরের সিরিজেই।

এক যুগের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে টানা খেলার সুযোগ পেয়েছেন কমই। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ২ সেঞ্চুরি আর এক ফিফটিতে রান করেন ৩৪৯। পরের সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২ ম্যাচে ব্যর্থ (৪ রান) হওয়ার পরেই আবার বাদ পড়ে গেলেন ৩৪ বছর বয়সী এই বাঁহাতি।

এরপর জায়গা মেলেনি ওয়ানডে দলে , ২০১৯ সালে ভারত সফরের টেস্ট সিরিজের দলের বাকিদের সাথে ইমরুলও ব্যর্থ হন। এ দফায়ও কপাল পুড়েছে কেবল ইমরুলেরই, পরের সিরিজ থেকেই বাদ ।

বাদ পড়ে ঘরোয়া লিগে পারফর্ম করলেও ইমরুলের সুযোগ আর আসছিল না। যে কারণে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমেই উগরে দেন নিজের ক্ষোভ। তবে যতদিন খেলবেন আশায় থাকবেন এমনটা জানিয়েছিলেন। যখনই মনে হবে আর আশা নেই তখনই খেলা থেকে বিদায় নিবেন বলেও জানান এই ব্যাটসম্যান। অবশেষে সুযোগ এসেছে, আশা কিছুটা হলেও পূরণ হয়েছে ইমরুলের।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঘরের মাঠের ওয়ানডে সিরিজ সামনে রেখে ঘোষিত ২৩ সদস্যের প্রাথমিক দলে আছেন ইমরুল। আজ (২ মে) দেশে থাকা (শ্রীলঙ্কায় টেস্ট দলে থাকা ক্রিকেটার ছাড়া) প্রাথমিক স্কোয়াডের ক্রিকেটারদের অনুশীলনও শুরু হয়। মিরপুরে প্রথম দিনের অনুশীলন শেষে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান জানালেন নিজের উচ্ছ্বাসের কথা।

বিসিবির পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় ৩৪ বছর বয়সী ইমরুল বলেন, ‘ধন্যবাদ জানাই (নির্বাচকদের) যে আমি আবারও প্রাথমিক দলে ডাক পেয়েছি। এটা আমার জন্য অবশ্যই অনুপ্রেরণার। কারণ জাতীয় দলের বাইরে থাকলে, স্কোয়াডের বাইরে থাকলে আসলে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা যায় না জাতীয় দলের খেলার জন্য। আমি বলবো যে এটা আমার জন্য অনেক বড় সুযোগ আবার নতুন করে চিন্তা ভাবনা করার।’

‘আর আমি নিজেকে ওভাবে প্রস্তুত করতে পারবো। আমার যে ঘাটতিগুলো ছিল এখন আমি এগুলো নিয়ে কাজ করতে পারবো। আমার মনে হয় যে এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা সুযোগ আবারও জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। জাতীয় দলের বাইরে থাকলে যে জিনিসটা হয় অনেক আপসেট থাকতে হয়। জাতীয় দলের খেলা যখন দেখা হয় তখন ওই জায়গাটাকে অনেক মিস করা হয়।’

তবে ইমরুল মনে করেন মাঝে মাঝে বাদ পড়াটাও শেখার জন্য কাজে আসে ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে। তার মতে বাদ পড়ে কখনোই হারিয়ে গেছেন এমনটা ভাবেননি নিজে।

এ প্রসঙ্গে তার ভাষ্য, ‘তারপরও আমি বলবো যে কিছু কিছু সময় বাদ পড়াটা প্লেয়ারের জন্য ভালো, অনেক কিছু শেখা যায় ওখান থেকে, নিজের ভুলগুলো নিয়ে, কি কি ভুল হয়েছে। আর আমি আসলে কখনোই ওভাবে মনে করিনাই যে আমি জাতীয় দলের বাইরে চলে গেছি। সবসময়ই আমি ড্রেসিং রুমটা উপভোগ করি’

‘এটার জন্য আমি যে অনুশীলনটা দরকার, কঠোর পরিশ্রমটা দরকার সেটা করে যাই সবসময়। আমি কখনো ভাবিনা যে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়লে আমি বের হয়ে গেছি। আমি মনে করি পাশেই আছি, হয়তোবা পারফর্ম করতে পারলে আবার কামব্যাক করবো।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

আলোক স্বল্পতায় পাল্লেকেলে টেস্ট গড়াল ৫ম দিনে

Read Next

খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েও লিটন-মিরাজে স্বপ্ন বুনছেন শান্ত

Total
1
Share