অভিষিক্ত জয়াবিক্রমার স্পিনে নাজেহাল বাংলাদেশ

অভিষিক্ত জয়াবিক্রমার স্পিনে নাজেহাল বাংলাদেশ
Vinkmag ad

পাল্লেকেলের ব্যাটিং স্বর্গ তৃতীয় দিনে এসে রূপ নিয়েছে স্পিন উইকেটে। আর এতেই কপাল পুড়লো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। অভিষিক্ত লঙ্কান স্পিনার প্রবীন জয়াবিক্রমার ঘূর্ণি জাদুতে নাকাল বাংলাদেশ শিবির। ২৫১ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ ফলো অনে পড়লেও সেটি করায়নি শ্রীলঙ্কা। ২৪২ রানে এগিয়ে থেকে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে লঙ্কানরা দিন শেষ করেছে ২ উইকেটে ১৭ রানে।

বাংলাদেশকে ২৫১ রানে গুটিয়ে দেয়ার পথে ৬ উইকেট শিকার বাঁহাতি স্পিনার জয়াবিক্রমার। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৯২ রানের ইনিংস খেলেন তামিম ইকবাল।

দ্বিতীয় দিন উইকেট থেকে খানিক টার্ন আদায় করে নিয়েছিল তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে পাল্লেকেলে উইকেট বলেই কিনা বিশ্বাস করতে চান নি তাইজুল ইসলাম। সংবাদ সম্মেলনে জানালেন উইকেট থেকে খুব একটা সুবিধা আশা করছেন না পরবর্তী দিনগুলোতেও।

অথচ মিরাজ-তাইজুলদের টুকটাক টার্নকেই চোখে ধরে স্বাগতিকদের। দ্বিতীয় দিন শেষ বিকেলেই বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে নিজেদের স্পিনারদের দিয়ে ঘায়েল করতে চেয়েছে। আলোক স্বল্পতায় বেশ আগেই খেলা শেষ হওয়াতে ৬ উইকেটে ৪৬৯ রান নিয়ে দিন শেষ করেছিল শ্রীলঙ্কা। পায়নি বাংলাদেশকে ব্যাট করানোর সুযোগ।

তবে আজ খুব একটা দেরি করেনি, মাত্র ২১ বল খেলেই দিনের প্রথম সেশনে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশকে। আগেরদিন ৬৪ রানে অপরাজিত থাকা নিরোশান ডিকওয়েলা ৭৭ রানে অপরাজিত থাকলেও ২২ রান নিয়ে দিন শুরু করা রমেশ মেন্ডিস ৩৩ রানেই ফিরেছেন তাসকিনের বলে। তাসকিনের ক্যারিয়ার সেরা (১২৭ রানে ৪ উইকেট) বোলিংয়ের পর ৭ উইকেটে ৪৯৩ রানে ইনিংস ঘোষণা স্বাগতিকদের।

লাঞ্চের আগে ২৭ ওভার ব্যাট করে বাংলাদেশ দারুণ শুরু পেয়েও সেশনের শেষ দিকে হারায় ২ উইকেট। সাইফ হাসানকে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ৯৮ রান তামিম ইকবালের। যেখানে তামিম খেলেছেন সিরিজের আগের দুই ইনিংসের মত আক্রমণাত্মক। ৫৭ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে শ্রীলঙ্কান স্পিনারদের টার্ন, বাউন্সের পাল্টা জবাব দিচ্ছিলেন ভালোভাবে। শুরুতে জড়তা থাকা সাইফও খোলস ছেড়ে বের হচ্ছিলেন ধীরে ধীরে।

কিন্তু জয়াবিক্রমার প্রথম শিকার হয়ে ফিরেছেন লাঞ্চের খানিক আগে। ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে ক্যাচ দেয়ার আগে করেছেন ২৫ রান। ভাঙে তামিমের সাথে সাইফের ৯৮ রানের জুটি, যেখানে তামিমের অবদান ৬৯। বাংলাদেশের ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটিও এটিই। এরপর অফ স্পিনার রমেশ মেন্ডিসের করা পরের ওভারেই খালি হাতে ফিরতে হয় নাজমুল হোসেন শান্তকে।

২ উইকেটে ৯৯ রান নিয়ে লাঞ্চে যাওয়া বাংলাদেশ তামিম ও অধিনায়ক মুমিনুলের জুটিতে আবারও পথ খুঁজে পাচ্ছিল। জুটিতে ৫২ রান যোগ করে এ দফায় ফিরেছেন তামিম নিজেই। তার আগেই অবশ্য মুমিনুল-তামিমকে বেশ ভুগিয়েছে লঙ্কান স্পিনাররা। মেন্ডিস-জয়াবিক্রমা ক্রমাগত পরাস্ত করেছেন, দুইবার জীবন পেয়েছেন মুমিনুল হক। সহজ না হলেও আউট হওয়ার সুযোগ তৈরি করেন তামিমও। শেষ পর্যন্ত ১৫০ বলে ১২ চারে ৯২ রান করে ক্যারিয়ারের তৃতীয়বার টেস্টে আউট হলেন নার্ভাস নাইনটিজে।

সেশনের শেষদিকে এসে আবারও উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তামিমের বিদায়ের পর ৬৩ রানের জুটিতে ভালো কিছু আভাস মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হকের। কিন্তু তৃতীয় শিকার হয়ে ৪০ রান করে মুশফিক ফিরেছেন এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে। তার বিদায়ে চা বিরতিতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের স্কোরবোর্ড ৪ উইকেটে ২১৪। ৪৭ রানে অপরাজিত ছিল মুমিনুল।

তবে শেষ সেশনে এসে জয়াবিক্রমার সাথে মেন্ডিস ও পেসার সুরাঙ্গা লাকমল যোগ দিলে ৩৭ রানেই শেষ ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। চা বিরতির পর ১৯ বলের মাথায় মেন্ডিসের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে মুমিনুল, যোগ করতে পারেননি দুই রানের বেশি। ১০৪ বলে ৭ চারে খেলেছেন ৪৯ রানের ইনিংস। দুইবার জীবন পেয়েও করতে পারেননি ইনিংস লম্বা। এরপর শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ১৬ রান। এর বাইরে বলার মত স্কোর নেই লিটন (৮), তাইজুল (৯), তাসকিন (০), ও শরিফুলদের (০) ব্যাটে।

বাংলাদেশ থেমেছে ২৫১ রানে। তখনো ফলো অন এড়াতে প্রয়োজন ছিল ৪২ রানের। ৩২ ওভারে ৯২ রান খরচায় অভিষিক্ত জয়াবিক্রমার ৬ উইকেটের সাথে রমেশ মেন্ডিস ও সুরাঙ্গা লাকমল ভাগাভাগি করেন দুইটি করে উইকেট।

বাংলাদেশকে ফলো অন না করিয়ে ২৪২ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে বসে শ্রীলঙ্কা। ৭ ওভার ব্যাট করে তৃতীয় দিন শেষে তাদের সংগ্রহ ২ উইকেতে ১৭ রান। আগের ইনিংসে সেঞ্চুরি হাঁকানো লাহিরু থিরিমান্নেকে ২ রানে স্লিপে শান্তের ক্যাচ পরিণত করেন মিরাজ। ওশাদা ফার্নান্দোকে (১) স্টাম্পিং করান তাইজুল ইসলাম। ২৫৯ রানের লিড নিয়ে অপরাজিত আছেন অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে (১৩) ও অ্যাঞ্জেলা ম্যাথুস (১)।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (৩য় দিন শেষে):

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংসে ৪৯৩/৭ (১৫৯.২ ওভারে ইনিংস ঘোষণা), করুনারত্নে ১১৮, থিরিমান্নে ১৪০, ওশাদা ৮১, ম্যাথুস ৫, ধনঞ্জয়া ২, নিসাঙ্কা ৩০, ডিকওয়েলা ৭৭*, রমেশ ৩৩; তাসকিন ৩৪.২-৭-১২৭-৪, শরিফুল ২৯-৬-৯১-১, তাইজুল ৩৮-৭-৮৩-১।

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ২৫১/১০ (৮৩), তামিম ৯২, সাইফ ২৫, শান্ত ০, মুমিনুল ৪৯, মুশফিক ৪০, লিটন ৮, মিরাজ ১৬, তাইজুল ৯, তাসকিন ০, শরিফুল ০, রাহি ০*;লাকমল ১০-০-৩০-২, রমেশ ৩১-৭-৮৬-২, জয়াবিক্রমা ৩২-৭-৯২-৬

শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংসে ১৭/২ (৭), থিরিমান্নে ২, করুনারত্নে ১৩*, ওশাদা ১, ম্যাথুস ১*; মিরাজ ৪-২-৭-১, তাইজুল ২-১-২-১

শ্রীলঙ্কা ২৫৯ রানে এগিয়ে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে স্কোয়াডে ইমরুল

Read Next

অজুহাত নেই আবার অজুহাত আছে টাইগার কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর

Total
17
Share