দারুণ শুরুর পর হঠাৎ ছন্দপতন

দারুণ শুরুর পর হঠাৎ ছন্দপতন
Vinkmag ad

আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের যে মন্ত্র তামিম সিরিজের শুরু থেকে জপেছেন সেটিই বজায় রেখেছেন। তার আরও একটি দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে পাল্লেকেলের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন হতে যাচ্ছিল বাংলাদেশের। তবে সেশনে শেষদিকে ২ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে সফরকারীরা। শ্রীলঙ্কার ৭ উইকেটে ৪৯৩ রানের জবাবে (ডিক্লেয়ার) সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্ত’র উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৯৯ রান। দ্রুতগতিতে ফিফটি তোলা তামিম অপরাজিত ৭০ রানে।

৬ উইকেটে ৪৬৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা শ্রীলঙ্কা আজ ২১ বল খেলেই ইনিংস ঘোষণা করে। এই ২১ বলে তারা যোগ করে ২৪ রান। মূলত রমেশ মেন্ডিসের উইকেট হারানোর পরই ইনিংস ঘোষণা করে দেয় স্বাগতিকরা। ৭ উইকেটে ৪৯৩ রানকেই নিরাপদ মনে করে। ২২ রানে অপরাজিত থেকে দিন শুরু করা মেন্ডিসকে ৩৩ রানে ফেরান টাইগারদের সেরা বোলার তাসকিন আহমেদ। ৬৪ রান নিয়ে দিন শুরু করা নিরোশান ডিকওয়েলা অপরাজিত ছিলেন ৭৭ রানে। ডিকওয়েলা-রমেশের জুটি থামে ১১১ রানে। ১২৭ রান খরচায় তাসকিনের শিকার ৪ উইকেট, যা তার ক্যারিয়ার সেরা।

আগেরদিনই উইকেটে কিছুটা টার্ন পেয়েছেন বাংলাদেশ স্পিনার তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজরা। যদিও সংবাদ সম্মেলনে এসে তাইজুল জানালেন উইকেটে ফাটল ধরছেনা, নিয়মিত টার্নও পাচ্ছেন না। তবে তাইজুল, মিরাজদের অল্প স্বল্প টার্নকেই চোখে ধরে লঙ্কানদের। দ্বিতীয় দিনই তারা চেয়েছিল শেষ বিকেলে বাংলাদেশকে কয়েক ওভার ব্যাটিংয়ে পাঠাতে। কিন্তু আলোক স্বল্পতায় খেলাই বন্ধ হয়েছিল ২৪.১ ওভার বাকি থাকতে।

উইকেট থেকে স্পিনাররা ফায়দা তুলতে পারবে ভেবেই আজ আর দেরি করেনি বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠাতে। নিজেরা ইনিংস ঘোষণা করে লাঞ্চের আগেই বাংলাদেশকে ২৭ ওভার ব্যাটিং করিয়েছে। তামিম ইকবালের দুর্দান্ত এক ইনিংসের পরও সেশনের শেষ ৮ বলে হারিয়েছে ২ উইকেট।

শুরু থেকেই লঙ্কানোদের স্পিনে টার্ন, তবে সেটি দারুণভাবে সামলে নিচ্ছিলেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সাইফ হাসান। আগের ম্যাচে দুই ইনিংসে ১ রান করলেও টিম ম্যানেজমেন্ট আস্থা রেখেছিল সাইফের প্রতি। তামিমের সাথে ৯৮ রানের জুটিতে সেটির প্রতিদানও দিবেন মনে হচ্ছিল। যদিও ৯৮ রানের জুটিতে তামিমেরই অবদান ৬৯ রান।

ইনিংসের প্রথম বলেই অবশ্য তামিমের বিপক্ষে পেসার সুরাঙ্গা লাকমলের এলবিডবিউর আবেদন। আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় শ্রীলঙ্কা, যা লেগ স্টাম্প মিস করে। ফলে রিভিউ হারায় স্বাগতিকরা। পরের বলেই মিড অনে দারুণ এক শটে চার তামিমের। এই ঝলক চলেছে লাঞ্চের আগ পর্যন্ত। চতুর্থ ওভারে বিশ্ব ফার্নান্দোকে হাঁকালেন দুই চার।

ইনিংসের ১১ তম ওভারে প্রথম স্পিন আক্রমণ আনে লঙ্কান দলপতি। অফ স্পিনার রমেশ মেন্ডিসের প্রথম ওভারেই অবশ্য এক চারে তামিম নিয়েছেন ৮ রান। তামিমের সামনে পরে আরও আসহায় হতে হয় মেন্ডিসকে। তার সাথে আক্রমণে যোগ দেন অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার প্রভীন জয়াবিক্রমা।

রমেশ মেন্ডিসের করা ১৫ তম ওভারেই দুই চার হাঁকান তামিম, শেষ বলে ছক্কা মারেন সাইফ হাসানও। ওভারের পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৩১তম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন তামিম। ৫৭ বলে ৮ চারে ফিফটি ছুঁয়েছেন টাইগার ওপেনার।

সময়ের সাথে সাথে লঙ্কানোদের স্পিন কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলতে শুরু করে। তবে ততক্ষণে সাইফও তামিমের সাথে রান তোলাতে যোগ দেন। কিন্তু জয়াবিক্রমার অভিষেক টেস্ট উইকেট হয়ে সাইফ ফিরেছেন স্লিপে ক্যাচ দিয়ে। লাঞ্চের মাত্র ৯ বল বাকি তখন। ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে ক্যাচ দিয়ে সাইফ থেমেছেন ৬২ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় ২৫ রানে। পরের ওভারে (লাঞ্চের আগে শেষ ওভার) ফিরে যান নাজমুল হোসেন শান্তও। লাঞ্চের আগে ঠিক শেষ বলটায় এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানও ফিরেছেন স্পিন ঘূর্ণিতে।

শান্তকে দিরিয়েছেন অফ স্পিনার রমেশ মেন্ডিশ। স্লিপে তার ক্যাচ নিয়েছেন লাহিরু থিরিমান্নে। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৬৩ রান করা শান্ত টানা দুই ইনিংসে ফিরলেন খালি হাতে। ৯৬ বলে ১১ চারে ৭০ রানে অপরাজিত তামিম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (৩য় দিন, ১ম সেশন শেষে):

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংসে ৪৯৩/৭ (১৫৯.২ ওভারে ইনিংস ঘোষণা), করুনারত্নে ১১৮, থিরিমান্নে ১৪০, ওশাদা ৮১, ম্যাথুস ৫, ধনঞ্জয়া ২, নিসাঙ্কা ৩০, ডিকওয়েলা ৭৭*, রমেশ ৩৩; তাসকিন ৩৪.২-৭-১২৭-৪, শরিফুল ২৯-৬-৯১-১, তাইজুল ৩৮-৭-৮৩-১।

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ৯৯/২ (২৭), তামিম ৭০*, সাইফ ২৫, শান্ত ০; রমেশ ৯-২-৩৯-১, জয়াবিক্রমা ৭-১-২০-১

বাংলাদেশ ৩৯৪ রান পিছিয়ে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ফাওয়াদের বিরল রেকর্ড, পাকিস্তানের বড় লিড

Read Next

হাসিমুখে চা বিরতিতে গেল শ্রীলঙ্কা

Total
11
Share