কমনওয়েলথ গেমসে ক্রিকেট, নেই বাংলাদেশ

কমনওয়েলথ গেমসে ক্রিকেট, নেই বাংলাদেশ
Vinkmag ad

২০২২ সালে বার্মিংহামে কমনওয়েলথ গেমসে ক্রিকেটই প্রথম ডিসিপ্লিন হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। এ প্রতিযোগিতার জন্য চূড়ান্ত দেশগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী বছর ২৮ জুলাই-৮ আগস্ট অনু্ষ্ঠিতব্য এ মেগা ইভেন্টে আবারও রাজকীয়ভাবে ক্রিকেটের প্রবেশ ঘটতে যাচ্ছে।

কমনওয়েলথ গেমসের ২২ তম সংস্করণে প্রথমবারের মত নারী ক্রিকেটের অন্তর্ভূক্তির কথা সোমবার ঘোষণা দেয় আইসিসি এবং কমনওয়েলথ গেমস ফেডারেশন (সিজিএফ)। অবশ্য এর আগে একবার ক্রিকেটকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল ১৯৯৮ সালে, মালয়েশিয়ার কুলালামপুরে। পুরুষদের ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় সেবার জয় পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

৮ দলের মধ্যকার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। স্বাগতিক ইংল্যান্ডের সাথে আছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড,পাকিস্তান,ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে যেকোন একটি দেশ। আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ের ১ এপ্রিল ২০২১ পর্যন্ত অবস্থান অনুযায়ী দলগুলোর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।


ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বাছাইপর্ব থেকে একটি দল নির্ধারিত হবে। যদিও এমন মেগা ইভেন্টে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল থেকে অ্যাথলেটরা নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। সে কারণে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল অংশ নিতে পারবে না।

২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে আরেকটি বাছাই ভিত্তিক টুর্নামেন্ট করে শেষ দলটি নির্বাচিত হবে, যা পরবর্তীতে আইসিসি ঘোষণা করবে।

মোট ১১টি ইভেন্টে ৭২টি দেশ থেকে প্রায় ৪৫০০ অ্যাথলেট অংশ নিবে। ইতিহাসে বার্মিংহামের কমনওয়েলথ গেমসই প্রথম মুখ্য বহুজাতিক স্পোর্টস ইভেন্ট, যেখানে পুরুষদের চেয়ে নারীদের জন্য বেশি মেডেল থাকবে।

ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক এজবাস্টন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে। এ বছরই টিকেট বিক্রি শুরু হবে।

আইসিসির অন্তবর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী জিওফ অ্যালারডাইস বলেন, ‘২০২২ বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে নারীদের ক্রিকেটকে অন্তর্ভূক্ত করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং গর্বিত। নারীদের ক্রিকেটকে বিশ্বের কাছে পরিচিত করার এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। গতবছর মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ৮৬১৭৪ জন দর্শক নারী বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখেছিল। আমরা আমাদের মোমেন্টাম ধরে রাখায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। বার্মিংহামেও নারীদের ক্রিকেটের জন্য আরেকটি বড় মঞ্চ। এজবাস্টনে অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনে আমাদের পাশে থাকার জন্য কমনওয়েলথ গেমস কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।’

কমনওয়েলথ গেমস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট ডেম লুইস মার্টিন বলেন,’ বার্মিংহামের কমনওয়েলথ গেমসে প্রথম ডিসিপ্লিন হিসেবে ক্রিকেটের দেশগুলোর নাম ঘোষণা করতে আমরা ভীষণ রোমাঞ্চিত। এটি আমাদের জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে। সারা বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট অনেক বেশি সমাদৃত। ১৯৯৮ সালে কুয়ালালামপুরের পর ক্রিকেটকে আবার যুক্ত করতে পারায় আমরা আনন্দিত। এ গেমসে নারীদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে অভিষেক হওয়াটা ঐতিহাসিক হয়ে থাকবে। এতে করে নারীদের ক্রিকেট সারা বিশ্বে আরও প্রসারিত হবে। এমন অভাবনীয় কার্যক্রমে এজবাস্টনের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে অভিনন্দন জানাই।’

ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিথার নাইট বলেন, ‘কমনওয়েলথ গেমসে অংশগ্রহণ আমাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ। স্বাগতিক দেশ হিসেবে আমরা ভীষণ রোমাঞ্চিত। ১২ মাস পরে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টের বিজয়ী মেডেল পেতে আমরা বেশ আগ্রহী। আশা করি দারুণ প্রতিযোগিতা হবে এবং নারীদের ক্রিকেট প্রচুর দর্শকের চাহিদায় পরিণত হবে।’

ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রীত কর বলেন, ‘কমনওয়েলথ গেমসে একটি দল হিসেবে অংশগ্রহণে আমাদের জন্য ভালো হয়েছে। গত বছরের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের পর এমন বড় ইভেন্টে আরো ভালো পারফর্মের ব্যাপারে আমরা আত্নবিশ্বাসী। নারীদের খেলাধুলা ও ক্রিকেটের জন্য এত বড় ইভেন্টে অংশগ্রহণ সত্যিই চমৎকার সুযোগ। আশা করি ভালো কিছু আমরা অর্জন করতে পারবো।’

দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক সুনি লুইস বলেন, ‘কমনওয়েলথ গেমসে নারী দলগুলোর অংশগ্রহণ দারুণ অভিজ্ঞতা হবে এবং ক্রিকেটের জন্য নতুন দর্শক তৈরি হবে। দল হিসেবে আমরা ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করে চলেছি। প্রথম আসরে পুরুষরা যেভাবে গোল্ড পেয়েছে, সেভাবে নারীদের প্রথম আসরে গোল্ড পাওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

শ্রীলঙ্কার টেস্ট স্কোয়াডে দুই পরিবর্তন

Read Next

তামিমের যে ইনিংসে বদলে গিয়েছিল ড্রেসিং রুমের পরিবেশ

Total
5
Share