টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট খরা ঘুচল বাংলাদেশের

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে পয়েন্ট খরা ঘুচল বাংলাদেশের

নিস্প্রাণ ক্যান্ডি টেস্ট শেষ পর্যন্ত ড্রয়েই সমাধানের পথ খুঁজে নিল। পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম দুই দলের ব্যাটসম্যানদের ব্যাটে রানের ফোয়ারাই দেখেছে কেবল। এর বাইরে লড়াইটা হয়েছে বৃষ্টি আর আলোক স্বল্পতার সাথে। পাঁচ দিনে প্রায় ৯০ ওভার খেলা কম হয়েছে বৃষ্টি ও আলোক স্বল্পতায়। আজ শেষদিনেও চা বিরতির পর মাঠে গড়ায়নি কোন বল।

এই ড্রয়ের ফলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ৬ষ্ঠ ম্যাচে এসে পয়েন্টের দেখা পেল বাংলাদেশ। এর আগে পাঁচ ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছে মুমিনুল হকের দল। দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ বলে চলমান এই সিরিজে প্রতি ম্যাচের জন্য বরাদ্দ ৬০ পয়েন্ট। তবে ড্র হওয়াতে দুই দলই পাচ্ছে ২০ পয়েন্ট করে। শ্রীলঙ্কার মাটিতে টানা ২৮ টেস্ট পর ফলবিহীন কোন ম্যাচে দেখা গেল।

চতুর্থ দিন শেষেই বোঝা গিয়েছিল ক্যান্ডি টেস্টের ভাগ্যে ড্র ছাড়া কোন ফল নেই। তবে কিছুটা বাজি ধরতে চেয়েছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। পঞ্চম দিন লাঞ্চের আগে ১০৭ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে পাঠায়। শুরুতে সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর উইকেট তুলে নিয়ে রোমাঞ্চের আভাসও দিয়েছিল। কিন্তু তামিম ইকবালের চোখ জুড়ানো এক ইনিংসে আবারও ফিকে হয়ে গেল ম্যাচে ফলের সম্ভাবনা। দিনের শেষ সেশন হারায় বৃষ্টির কবলে।

আগেরদিন ২৯ রানে পিছিয়ে (৩ উইকেটে ৫১২) থাকা শ্রীলঙ্কা আজ প্রথম সেশনেই তোলে ১৩৬ রান, অবশ্য উইকেটও হারায় ৫ টি। ৮ উইকেটে ৬৪৮ রান তুলে ১০৭ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চে যাওয়া স্বাগতিকরা লাঞ্চের পর আর ব্যাট করেনি। চা বিরতির আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০০ রান। তামিম ইকবাল ৭৪ ও মুমিনুল হক অপরাজিত ছিলেন ২৩ রানে।

পাল্লেকেলের ব্যাটিং স্বর্গে আক্ষেপে পুড়বেন সাইফ হাসান। প্রথম ইনিংসে খালি হাতে ফেরা এই টাইগার ওপেনার দ্বিতীয় ইনিংসেও ১ রানের বেশি করতে পারেননি। সুরাঙ্গা লাকমালের করা পঞ্চম ওভারে অফ স্টাম্পের কিছুটা বাইরে গুড লেংথে পড়া ডেলিভারি খোঁচা মেরে ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে নিরোশান ডিকওয়েলাকে। তামিমের সাথে উদ্বোধনী জুটি থামে ২১ রানে।

লাকমালের পরের ওভারেই খালি হাতে ফিরলেন প্রথম ইনিংসে ১৬৩ রানের ইনিংস খেলা নাজমুল হসেন শান্ত। দুই ইনিংসে বিপরীত দুই ইনিংস, অফ স্টাম্পের বাইরের ব্যাক অফ লেংথ ডেলিভারি পেছনে সরে সামনে খেলতে গিয়ে ইনসাইড এইজে বল টেনে আনলেন স্টাম্পে।

২৭ রানে ২ উইকেট হারালেও তামিমের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে আসেনি পরিবর্তন। নিজের জোনে পাওয়া বলকে অনায়াসেই পাঠিয়েছেন বাউন্ডারির বাইরে। একটা সময় পর্যন্ত দলের ৯০ শতাংশ রান এসেছে তার ব্যাট থেকেই। পরে রান তোলার কাজে সঙ্গ দেন মুমিনুলও।

ইনিংসের প্রথম ওভারে সুরাঙ্গা লাকমলের করা চতুর্থ বলে স্কয়ার লেগে ফ্লিক করে হাঁকানো বাউন্ডারি আভাস দেয় তামিমের ছন্দে থাকার। চতুর্থ ওভারেই ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে ডাউন দ্য ট্র্যাকে এসে ছক্কা মারলেন, আরও এক চারে ঐ ওভার থেকেই নিলেন ১০ রান। চা বিরতির আগে ব্যাট করা পুরো সময়টাই ছিলেন সাবলীল।

ব্যক্তিগত ২৯ রানে তামিমের বিপক্ষে ক্যাচের জোরালো আবেদন অন ফিল্ড আম্পায়ার সফট সিগন্যাল আউট দিয়ে টিভি আম্পায়ারের কাছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য পাঠান। তবে তামিম ছিলেন বেশ আত্মবিশ্বাসী, টিভি রিপ্লেতেও স্পষ্ট দেখা যায় ধনঞ্জয়ার বলকে ড্রাইভ করতে গিয়ে সিলি পয়েন্টে দাঁড়ানো ওশাদা ফার্নান্দোর বুট হয়ে বল চলে যায় উইকেট রক্ষক ডিকওয়েলার হাতে। তবে ওশাধার বুটে লাগার আগেই বল মাটি স্পর্শ করে। ফলে টিকে যান তামিম।

প্রথম ইনিংসের মত দ্রুত গতিতে রান তোলা তামিম ১৭ তম ওভারের শেষ বলে চার হাঁকিয়ে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৩০তম টেস্ট ফিফটি। ঐ ওভারে চার মারেন আরও দুটি। ৫৬ বলে ৭ চার ২ ছক্কায় ফিফটি ছুঁয়েছেন টাইগার ওপেনার। চা বিরতিতে যাওয়ার আগে অপরাজিত ছিলেন ৯৮ বলে ১০ চার ৩ ছক্কায় ৭৪ রানে। মুমিনুল অপরাজিত থাকেন ৮৬ বলে ২৩ রানে। দুজনের অবিচ্ছেদ্য জুটি ৭৩ রানের।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

উল্লেখ্য, টস জিতে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের জোড়া সেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ৫৪১ রান তুলে তৃতীয় দিন লাঞ্চের আগে ইনিংস ঘোষণা করে। শান্তর ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি থেমেছিল ১৬৩ রানে, মুমিনুলের ১১ তম ও বিদেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরির ইনিংস থামে ১২৭ রানে। এ ছাড়া তামিম ইকবাল ৯০, মুশফিকুর রহিম ৬৪* ও লিটন দাস খেলেন ৫০ রানের ইনিংস।

জবাবে আজ পঞ্চম দিন লাঞ্চ পর্যন্ত ব্যাট করা লঙ্কানরা ৮ উইকেটে ৬৪৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। ১০৭ রানের লিড পাওয়ার পথে অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে পান ক্যারিয়ারেরর প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির দেখা, ইনিংস থামে ২৪৪ রানে। সেঞ্চুরি তুলে নেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভাও, ক্যারিয়ারের ৭ম টেস্ট সেঞ্চুরিকে টেনে নেন ১৬২ রান পর্যন্ত। ৫৮ রান আসে লাহিরু থিরিমান্নের ব্যাট থেকে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ৫৪১/৭ (১৭৩ ওভারে ইনিংস ঘোষণা), তামিম ৯০, সাইফ ০, শান্ত ১৬৩, মুমিনুল ১২৭, মুশফিক ৬৮*, লিটন ৫০, মিরাজ ৩, তাইজুল ২, তাসকিন ৬*; লাকমল ৩৬-১৪-৮১-১, বিশ্ব ৩৫-৯-৯৬-৪, কুমারা ২৮-৪-৮৮-১, ধনঞ্জয়া ৩০-১-১৩০-১

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংসে ৬৪৮/৮ (১৭৯ ওভারে ইনিংস ঘোষণা), করুনারত্নে ২৪৪, থিরিমান্নে ৫৮, ওশাদা ২০, ম্যাথুস ২৫, ধনঞ্জয়া ১৬৬, নিসাঙ্কা ১২, ডিকওয়েলা ৩১, হাসারাঙ্গা ৪৩, লাকমল ২৩*, বিশ্ব ০*; তাসকিন ৩০-৬-১১২-৩, এবাদত ২১-১-৯৯-১, মিরাজ ৫৮-৬-১৬১-১, তাইজুল ৪৫-৯-১৬৪-২

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ১০০/২ (৩৩), তামিম ৭৪*, সাইফ ১, শান্ত ০, মুমিনুল ২৩*; লাকমল ৮-২-২১-২

ম্যাচ ড্র

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ভুতুড়ে শুরুর পর তামিমের কাউন্টার অ্যাটাক

Read Next

রেকর্ড সংগ্রহের দিন নেপালের শিরোপা জয়

Total
28
Share