পাল্লেকেলেতে ৬ উইকেটের তৃতীয় দিন

পাল্লেকেলেতে ৬ উইকেটের তৃতীয় দিন

পেস বান্ধব উইকেট তৈরি করে বাংলাদেশকে চেপে ধরতে চেয়েছিল শ্রীলঙ্কা। যে কারণে বাংলাদেশও একাদশে পেসারদের আধিক্যতা দিয়েছিল। তবে ক্যান্ডি টেস্টের তৃতীয় দিন শেষেও ব্যাটসম্যানদের আধিপত্য। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৭ উইকেটে ৫৪১ (ডিক্লেয়ার) রানের জবাবে লঙ্কানদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২২৯ রান। এখনো ৩১২ রানে পিছিয়ে থাকা স্বাগতিকদের টেনে নিচ্ছেন অধিনায়ক দিমুথ করুনারত্নে। আগের দুই দিনে চার উইকেট পড়লেও আজ পড়েছে (দুই দল মিলে) ৬ উইকেট।

আগেরদিন আলোকস্বল্পতায় খেলা হয়েছে ২৫ ওভার কম। এই ওভারগুলো পুষিয়ে নিতে পরের তিনদিন ১৫ মিনিট আগে খেলা শুরু হওয়ার কথা, ৯০ ওভারের পরিবর্তে প্রতিদিন খেলা হবে ৯৮ ওভার করে। তবে আজ তৃতীয় দিন ১৫ মিনিট আগে খেলা শুরু হলেও আলোক স্বল্পতায় ৯১ ওভারের বেশি মাঠে গড়ায়নি।

৪ উইকেটে ৪৭৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করা বাংলাদেশ আজ ব্যাটিং করেছে ১৮ ওভার। লাঞ্চের আগে লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমের ফিফটিতে ৭ উইকেটে ৫৪১ রান তুলে তবেই ইনিংস ঘোষণা করে।

লাঞ্চের আগে ৮ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পায় স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা, স্কোরবোর্ডে কোন উইকেট না হারিয়ে ১১ রান। টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেনরা বেশ ভালোভাবেই চেপে ধরেছিল লঙ্কান দুই ওপেনার লাহিরু থিরিমান্নে ও দিমুথ করুণারত্নকে। টানা তিন মেডেন নেওয়া তাসকিনের চতুর্থ ওভারে (লাঞ্চের আগে শেষ ওভার) ব্যক্তিগত ১ রানে থিরিমান্নের বিপক্ষে জোরালো এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। পরে অবশ্য রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান থিরিমান্নে।

লাঞ্চের পর থিরিমান্নে-করুনারত্নের ব্যাটে হতাশার এক সেশন পার করতে যাচ্ছিলো বাংলাদেশ। লাঞ্চের আগে যে আগ্রাসন দেখিয়েছেন তাসকিন-এবাদতরা, সেটাই লাঞ্চের পর হাওয়ায় মিলিয়েছে সময়ের সাথে সাথে। দুজনের ১১৪ রানের উদ্বোধনী জুটি থেমেছে চা বিরতির ঠিক আগে। এক সেশনেই স্কোরবোর্ডে উঠে ১০৩ রান। ফিফটি তুলে ফিরেছেন লাহিরু থিরিমান্নে।

লাঞ্চের আগে যতটা অস্বস্তিতে দেখা গিয়েছিল লঙ্কান দুই ওপেনারকে লাঞ্চের পর সেটা দূর করতে বেশি সময় নেননি। তাসকিন, এবাদত, আবু জায়দের রাহিরা দিয়েছেন মেরে খেলার মত বেশ কিছু আলগা বল। অন্যদিকে দুই স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজও উইকেট থেকে সাহায্য না পেয়ে ছড়ি ঘুরাতে পারছিলেন না সেভাবে।

থিরিমান্নে-করুনারত্নে জুটি ৩১ তম ওভারেই দলীয় সংগ্রহ ১০০ পার করে। দুজনের শতরানের জুটি চা বিরতির আগে অবিচ্ছেদ্য থাকার পথেই ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ৩৯ তম ওভারের শেষ বলে থিরিমান্নেকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন মিরাজ। এ দফায় অবশ্য রিভিউ নিয়েও বাচতে পারেননি লঙ্কান এই বাঁহাতি ওপেনার।

ক্যারিয়ারের ১০ম ফিফটি তুলে থিরিমান্নে ফিরলেন ১২৫ বলে ৮ চারে ৫৮ রান করে। ৩৪ তম ওভারেই অবশ্য ফিরে যেতে পারতো এই লঙ্কান ওপেনার। তাইজুল ইসলামের ফুলার লেংথে পড়া ডেলিভারিতে পরাস্ত হয়ে ব্যাট মিস করে থিরিমান্নের। বেশ জোরালো আবেদন করলেও সাড়া দেননি আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। তবে বাংলাদেশ রিভিউ না নিলেও রিপ্লেতে দেখা যায় বল লাইনে হিট করে মিডল স্টাম্প ভাঙতো।

থিরিমান্নের বিদায়ের পর ওশাধা ফার্নান্দোকে নিয়ে অধিনায়ক করুনারত্নের ৪৩ রানের জুটি। তাসকিনের বলে ২০ রান করে উইকেট রক্ষক লিটন দাসের দারুণ এক ক্যাচে পরিণত হন ফার্নান্দো। মাঝে অ্যাঞ্জেল ম্যাথুস দারূন শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তাইজুলের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন ২৫ রান করে। ততক্ষণে করুনারত্নে পেয়ে যান ক্যারিয়ারের ২৬ তম টেস্ট ফিফটির দেখা।

৩৯ রানের জুটিতে দিনের বাকি সময় ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে নিয়ে অনায়াসেই পার করেন লঙ্কান অধিনায়ক। তবে দিনের শেষ ভাগে তাইজুল ইসলামের করা ৭১ তম ওভারের চতুর্থ বলে করুনারত্নের বিপক্ষে জোরালো আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার রুচিরা পল্লিয়াগুরুগে। তবে এই দফায়ও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান ৮২ রানে ব্যাট করা করুনারত্নে, বল মিস করে লেগ স্টাম্প। তবে একই ওভারের শেষ বলে আম্পায়ারের অবহেলায় উইকেট বঞ্চিত হন তাইজুল।

এবার তাইজুলের বলকে ডিফেন্স করতে গিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে করুনারত্নে। ব্যাটের আগে বুটে স্পর্শ করে। কিন্তু আম্পায়ার সাড়া না দেয়ায় রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। টিভি আম্পায়ার আল্ট্রা এজ না দেখেই সিদ্ধান্ত দিয়ে দেন নট আউটের। পরে রিপ্লেতে যা স্পষ্ট দেখা যায় বল আগে বুট স্পর্শ করেছিল। তবে রিভিউ রিভিউ খেলার আড়ালে শেষ পর্যন্ত ২১১ বলে ৮ চারে ৮৫ রানের অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেই অপরাজিত আছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। তাকে সঙ্গ দেওয়া ধনঞ্জয়া অপরাজিত ২৬ রানে।

দিনের শুরুতে দ্রুত রান তুলে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। স্কোরবোর্ডে ৫২০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করতে পারে বলে আগেরদিন আভাস দিয়েছিলেন কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। তবে বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণা করে ৭ উইকেটে ৫৪১ রান তুলে। মুশফিকুর রহিম কিছুটা ধীর গতিতে খেললেও লিটন ছিলেন দ্রুত রান তোলায় মনযোগী। ৬৬ বলে ক্যারিয়ারের ৮ম ফিফটি তুলে নেয়ার পরের বলেই লিটন ফিরেছেন পেসার বিশ্ব ফার্নান্দোর শিকার হয়ে। মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ১৫৬ বলে ৬৮ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (৩য় দিন শেষে):

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ৫৪১/৭ (১৭৩ ওভারে ইনিংস ঘোষণা), তামিম ৯০, সাইফ ০, শান্ত ১৬৩, মুমিনুল ১২৭, মুশফিক ৬৮*, লিটন ৫০, মিরাজ ৩, তাইজুল ২, তাসকিন ৬*; লাকমল ৩৬-১৪-৮১-১, বিশ্ব ৩৫-৯-৯৬-৪, কুমারা ২৮-৪-৮৮-১, ধনঞ্জয়া ৩০-১-১৩০-১

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংসে ২২৯/৩ (৭৩), করুনারত্নে ৮৫*, থিরিমান্নে ৫৮, ওশাদা ২০, ম্যাথুস ২৫, ধনঞ্জয়া ২৬*; তাসকিন ১২-৩-৩৫-১, মিরাজ ২৪-৬-৬০-১, তাইজুল ২০-৫-৫৬-১

শ্রীলঙ্কা ৩১২ রান পিছিয়ে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরালেন মিরাজ

Read Next

পাকিস্তানকে প্রথমবারের মত টি-টোয়েন্টিতে হারাল জিম্বাবুয়ে

Total
8
Share