টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরালেন মিরাজ

টাইগার শিবিরে স্বস্তি ফেরালেন মিরাজ

লাহিরু থিরিমান্নে ও অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নের ব্যাটে হতাশার এক সেশন পার করতে যাচ্ছিলো বাংলাদেশ। লাঞ্চের আগে যে আগ্রাসণ দেখিয়েছে তাসকিন, এবাদতরা সেটাই লাঞ্চের পর হাওয়ায় মিলিয়েছে সময়ের সাথে সাথে। দুজনের ১১৪ রানের উদ্বোধনী জুটি থেমেছে চা বিরতির ঠিক আগে। এক সেশনেই স্কোরবোর্ডে উঠলো ১০৩ রান। ফিফটি তুলে ফিরেছেন লাহিরু থিরিমান্নে।

লাঞ্চের আগে ৮ ওভার ব্যাট করে লঙ্কানদের স্কোরবোর্ডে ১১। টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেনরা বেশ ভালোভাবেই চেপে ধরেছিল লঙ্কান দুই ওপেনারকে টানা তিন মেডেন নেওয়া তাসকিনের চতুর্থ ওভারে (লাঞ্চের আগে শেষ ওভার) ব্যক্তিগত ১ রানে থিরিমান্নের বিপক্ষে জোরালো এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। পরে অবশ্য রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান থিরিমান্নে।

লাঞ্চের আগে যতটা অস্বস্তিতে দেখা গিয়েছিল লঙ্কান দুই ওপেনারকে লাঞ্চের পর সেটা দূর করতে বেশি সময় নেননি। তাসকিন, এবাদত, আবু জায়দের রাহিরা দিয়েছেন মেরে খেলার মত বেশ কিছু আলগা বল। অন্যদিকে দুই স্পিনার তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজও উইকেট থেকে সাহায্য না পেয়ে ছড়ি ঘুরাতে পারছিলেন না সেভাবে।

থিরিমান্নে-করুণারত্নে জুটি ৩১ তম ওভারেই দলীয় সংগ্রহ ১০০ পার করে। দুজনের শতরানের জুটি চা বিরতির আগে অবিচ্ছেদ্য থাকার পথেই ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ৩৯ তম ওভারের শেষ বলে থিরিমান্নেকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে জুটি ভাঙেন মিরাজ। এ দফায় অবশ্য রিভিউ নিয়েও বাচতে পারেননি লঙ্কান এই বাঁহাতি ওপেনার।

৯৫ বলে ৭ চারে ক্যারিয়ারের ১০ম ফিফটি তুলে নেয়া থিরিমান্নে ফিরলেন ১২৫ বলে ৮ চারে ৫৮ রান করে। সর্বশেষ পাঁচ ইনিংসে এটি তার চতুর্থ ফিফটি। ৩৪ তম ওভারেই অবশ্য ফিরে যেতে পারতো এই লঙ্কান ওপেনার। তাইজুল ইসলামের ফুলার লেংথে পড়া ডেলিভারি টার্ন করে ভেতরে ঢোকে। পরাস্ত হয়ে ব্যাট মিস করে থিরিমান্নের। বেশ জোরালো আবেদন করলেও সাড়া দেননি আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। তবে বাংলাদেশ রিভিউ না নিলেও রিপ্লেতে দেখা যায় বল লাইনে হিট করে মিডল স্টাম্প ভাঙতো। আর তেমনটি হলে ব্যক্তিগত ৫৮ রানে ফিরে যেতেন এই লঙ্কান ওপেনার।

আগেরদিন ৪ উইকেটে ৪৭৪ রানে দিন শেষ করা বাংলাদেশ আজ দ্রুত কিছু রান তুলতে চেয়েছিল। প্রধান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর লক্ষ্য ছিল ৫২০। তবে বাংলাদেশ আজ ইনিংস ঘোষণা করে ৭ উইকেটে ৫৪১ রান তুলে। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের সেঞ্চুরির সাথে তামিম ইকবালের মত ফিফটির দেখা পান লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিমও।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (৩য় দিন, ১ম সেশন শেষে):

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ৫৪১/৭ (১৭৩ ওভারে ইনিংস ঘোষণা), তামিম ৯০, সাইফ ০, শান্ত ১৬৩, মুমিনুল ১২৭, মুশফিক ৬৮*, লিটন ৫০, মিরাজ ৩, তাইজুল ২, তাসকিন ৬*; লাকমল ৩৬-১৪-৮১-১, বিশ্ব ৩৫-৯-৯৬-৪, কুমারা ২৮-৪-৮৮-১, ধনঞ্জয়া ৩০-১-১৩০-১

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংসে ১১৪/১ (৩৯), করুনারত্নে ৪৩*, থিরিমান্নে ৫৮; মিরাজ ১২-৩-২৬-১

শ্রীলঙ্কা ৪২৭ রান পিছিয়ে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চলমান সিরিজ শেষ আরভিনের

Read Next

পাল্লেকেলেতে ৬ উইকেটের তৃতীয় দিন

Total
16
Share