পাডিকালের সেঞ্চুরি ও কোহলির মধুর সমস্যা

পাডিকালের সেঞ্চুরি ও কোহলির মধুর সমস্যা

দেবদূত পাডিকালের মা আম্বিলি পাডিকাল এক সাক্ষাৎকারে বলেন তারা যখন দ্বিতীয় সন্তান নেয়ার চিন্তা করেন তখনই ছেলে হলে নির্ঘাত ক্রিকেটার বানাবেন এমন সিদ্ধান্ত নেন। জন্মের আগেই এমন পরিকল্পনা করে ক্রিকেটার বানানোর গল্পটা নিশ্চিতভাবেই রোমাঞ্চকর। আম্বিলির ২০ বছরের ছেলেটা এখন বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় তারকা ভিরাট কোহলিকে নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে রেখে সেঞ্চুরি হাঁকায়।

কেরেলায় জন্ম নেয়া বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের পরিবার এখন ব্যাঙ্গালোরে থাকে। আইপিএলে গতবছরই অভিষেক হয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হয়ে। অভিষেক আসরেই করেছেন বাজিমাত। ভিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্সের মত সতীর্থদের পেয়ে খেলেছেন প্রাণ খুলে। ব্যাঙ্গালোরের হয়ে আসরে ১৫ ম্যাচে ব্যাট করে হয়েছেন ৮ম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৫ ফিফটিতে ৩১.৫৩ গড়ে প্রায় ১২৫ স্ট্রাইক রেটে রান ৪৭৩।

এবারের আসর শুরুর আগেই করোনা পজিটিভ হন। সুস্থ হয়ে দলের সাথে যোগ দিতে না পারায় মিস করেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ। তবে দ্বিতীয় ম্যাচ থেকেই একাদশে সুযোগ মেলে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের। নিজের প্রথম ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ১১ ও পরের ম্যাচে কোলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ২৫ রানের বেশি করতে পারেননি।

তবে নিজের চেনা ছন্দে ফিরতে বেশি সময় নেননি। গতকাল (২২ এপ্রিল) রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে রেকর্ড গড়ে জয় পাওয়া ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকালেন পাডিকাল। তার অপরাজিত সেঞ্চুরির সাথে ভিরাট কোহলির অপরাজিত ৭২ রানে ভর করে রাজস্থানের দেয়া ১৭৮ রানের লক্ষ্য ব্যাঙ্গালোর টপকেছে ২১ বল ও ১০ উইকেট হাতে রেখে।

২৭ বলে ফিফটি, ৫১ বলে সেঞ্চুরি, শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৫২ বলে ১১ চার ৬ ছক্কায় ১০২ রানে। দেবদূত পাডিকাল পল ভালথাতি, মনীশ পান্ডের পর তৃতীয় ভারতীয় অনভিষিক্ত ব্যাটসম্যান হিসেবে আইপিএলে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। ভিরাট কোহলিকে নিয়ে ১৮১ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে গড়েছেন বেশ কিছু রেকর্ড। আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের এটিই বর্তমানে সর্বোচ্চ রানের উদ্বোধনী জুটি। বিনা উইকেটে আইপিএলে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ডও এটি।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

ম্যাচ সেরার পুরষ্কার জেতা ২০ বছর বয়সী পাডিকাল নিজের এমন দুর্দান্ত ইনিংস প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে জানান, ‘এটা বিশেষ কিছু। আমি শুধু আমার সময়ের অপেক্ষা করতে পারতাম। আমি যখন টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কোভিড পজিটিভ হই আমরা ভাবনাজুড়ে ছিল শুধু এখানে এসে প্রথম ম্যাচ খেলা। আমি সেটা করতে পারিনি তবে দলের জয়ে অবদান রাখতে মুখিয়ে ছিলাম।’

‘উইকেট সত্যি দারুণ ছিল আর আমরাও বেশ ভালো শুরু পেয়েছিলাম। আপনি যখন এমন একটা জুটি গড়ে ফেলবেন (পাডিকাল-কোহলি) তখন দুই দিক থেকেই রান আসতে সাহায্য করবে।’

আইপিএলে প্রথম হলেও স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে পাডিকালের এটি দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ২০১৯ সালে সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে অন্ধ্র প্রদেশের বিপক্ষে কর্ণাটকের হয়ে হাঁকান সেঞ্চুরি। ঐ সেঞ্চুরিটিও এসেছে ১৮৫ রানের বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে। ৪ নম্বরে নেমে তার ৬০ বলে ১৩ চার ৭ ছক্কা ১২২ রানের ইনিংসে ভর করে ৫ উইকেট ও ৭ বল হাতে রেখেই জয় পায় কর্ণাটক।

এদিকে গতকাল পাডিকালের সেঞ্চুরির আগে বেশ মধুর সমস্যায় পড়তে হয় ভিরাট কোহলিকে। দলের জয়ে প্রয়োজনীয় রান ও পাডিকালের সেঞ্চুরি দুটোই প্রায় সমানে হয়ে যাচ্ছিল। সে ক্ষেত্রে কোহলিকে বাউন্ডারি না হাঁকিয়ে পাডিকালকে স্ট্রাইক দিতে সিঙ্গেল নিতে হচ্ছিল। যদিও ততক্ষণে জয় কেবল সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

ঐ সময় সেঞ্চুরি নিয়ে ভয় পাচ্ছিল কিনা তরুণ এই ব্যাটসম্যানকে করা এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তর, ‘আসলে এমন কিছু নয়। আমি ভিরাটকে (কোহলি) এমনটাই বলেছিলাম। আমার জন্য সেঞ্চুরি এতটা মূল বিষয় না যতটা দলের জয়ে অবদান রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। পুরো ইনিংসেই এমন হয়েছে কখনো সে ভালো করছে তো কখনো আমি। স্ট্রাইক রোটেশনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কালকের দিনটা ক্লিক করেছে।’

এদিকে দলের টানা চতুর্থ জয়ের দিনে আসরে প্রথম ফিফটির দেখা পেলেন ব্যাঙ্গালোর কাপ্তান কোহলি। ৭২ রানের ইনিংস খেলা কোহলি এদিন ছুঁয়েছেন ৬ হাজার আইপিএল রানের মাইলফলকও।

পাডিকালের ইনিংস মূল্যায়নে কোহলি বলেন, ‘এটা অসাধারণ একটা ইনিংস। গতবছর তার প্রথম মৌসুমেও সে দারুণ ব্যাট করেছে। ৩০ পেরোনো ইনিংসগুলো আরও বড় করতে না পারা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। সে সবকিছুকে এক পাশে রাখে। এটা ব্যাট করার জন্য দারুণ পিচ ছিল সতি কথা বলতে। তার উচ্চতাও অনেক ক্ষেত্রে বোলারদের লেংথ নিয়ে সংগ্রাম করাতে বাধ্য করেছে। টি-টোয়েন্টি সবসময় জুটির খেলা। আপনি যাও বলেই কিন্তু সবসময় বড় কিছুতে যেতে পারেন না।’

‘যখন একটা তরুণ ছেলে বেশ ভালো খেলতে থাকে তখন আমাকে নিশ্চিত করতে হয় যে আমি আমার উইকেট দিচ্ছিনা। (সেঞ্চুরির আগে কথা প্রসঙ্গে) সে আমাকে বলেছে শেষ করতে, আমি তাকে বলেছি সে যেন আগে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে। সে বলল এমন আরও (সুযোগ) আসবে সামনে। আমি তাকে বলেছি হ্যা এটা তুমি বলতে পারো আগে ল্যান্ডমার্কটা (১০০) স্পর্শ করার পরে। তিন অঙ্ক ছোঁয়াটা তার জন্য প্রাপ্য ছিল।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

আইপিএল শেষ থাঙ্গারাসু নটরাজনের

Read Next

টাইগারদের ইনিংস ঘোষণা, ব্যাটিংয়ে স্বাগতিকরা

Total
1
Share