আলোক স্বল্পতায় আগেভাগে শেষ ২য় দিনের খেলা

c97 4 21
Vinkmag ad

ক্যান্ডি টেস্টের দ্বিতীয় দিনটাও আক্ষরিক অর্থে বাংলাদেশের। তবে এদিন কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে স্বাগতিক লঙ্কানদের। দুই সেঞ্চুরিয়ান নাজমুল হসেন শান্ত ও মুমিনুল হকের উইকেট তুলে নেওয়ার পর জমে যাওয়া লিটন দাস-মুমিনুল হক জুটি অবশ্য ভোগাচ্ছিল। কিন্তু আলোক স্বল্পতায় দিনের শেষ ২৫ ওভার বল করতে হয়নি বলেও কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে লঙ্কা শিবির। যদিও দুইদিন মিলে ১৫৫ ওভার ফিল্ডিং করে ফেলেছে স্বাগতিকরা।

আলোক স্বল্পতায় খেলা বন্ধ হওয়ার আগে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ৪ উইকেটে ৪৭৪ রান। মুশফিক ৪৩ ও লিটন ২৫ রানে অপরাজিত।

২ উইকেটে ৩০২ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। ১২৬ রানে নাজমুল হোসেন শান্ত ও ৬৪ রানে অপরাজিত ছিলেন অধিনায়ক মুমিনুল হক।

আজ দিনের প্রথম সেশনে কোন উইকেট না হারিয়ে দুজনে যোগ করেন ৭৬ রান। ততক্ষণে শান্ত ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে রূপ দেন দেড়শো পেরোনো ইনিংসে। মুমিনুল পেয়ে যান ক্যারিয়ারের ১১ তম ও দেশের বাইরে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা। দুজনে আগেরদিনের ১৫০ রানের জুটিকে আজকে লাঞ্চের আগেই ২২৬ রানে টেনে নেন। লাঞ্চে যাওয়ার সময় মুমিনুলের নামের পাশে ১০৭ ও শান্তের ১৫৫।

লাঞ্চের পর অবশ্য জুটিতে যোগ হয়নি ১৬ রানের বেশি, যদিও তাতেই তৃতীয় উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রানের জুটির রেকর্ড হয়ে গেছে। এর আগে ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেই মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের ২৩৬ রান ছিল সর্বোচ্চ। শান্ত-মুমিনুলের এই ম্যাচের ২৪২ যেকোনো উইকেটেই বাংলাদেশের পঞ্চম সর্বোচ্চ রানের জুটি।

লাঞ্চের পর সপ্তম ওভারে পেসার লাহিরু কুমারাকে ফিরতি ক্যাচ দেন শান্ত। তাতেই ইতি ঘটে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের ৩৭৮ বলে ১৭ চার ১ ছক্কায় সাজানো দারুণ এক টেস্ট ইনিংসের। ২৩৫ বলে সেঞ্চুরি ও ৩৪৩ বলে ১৫০ ছোঁয়া তরুণ এই ব্যাটসম্যানকে থামতে হয় ১৬৩ রানে। বাংলাদেশের সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে শান্ত টেস্টে এক ইনিংসে ৩০০ এর বেশি বল মোকাবেলা করেন।

ক্রিজে আসা নতুন ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমকে প্রথম দুই বলেই পরাস্ত করেন লাহিরু। প্রথম বলেতো বেশ জোরালো এলবিডব্লিউর আবেদনও করেন। ব্যক্তিগত ৯ রানে তার বিপক্ষে লেগ স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার গুগলিতে এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়াও দিয়ে দেয় আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা। পরে অবশ্য মুশফিক রিভিউ নিলে দেখা যায় বল ব্যাট ছুঁয়েছে আগে।

তবে শুরুর জড়তা কাটিয়ে মুমিনুলের সাথে জুটি বড় করতে পারেননি। এ যাত্রায় অবশ্য ফিরেছেন মুমিনুলই। স্পিনার ধনঞ্জয়া ডি সিলভার বলে ক্যাচ স্লিপে লাহিরু থিরিমান্নেকে ক্যাচ দেন টাইগার অধিনায়ক। তার আগে বিদেশের মাটিতে পাওয়া প্রথম সেঞ্চুরিকে টেনে নেন ১২৭ রান পর্যন্ত। ৩০৪ বলে ১১ চারে সাজানো ইনিংসে ছিল ধৈর্য্যের ছাপ, বল ছাড়াতে পুরো ইনিংসেই দেখিয়েছেন দক্ষতা। এই প্রথম টেস্টে এক ইনিংসে ৩০০ এর বেশি বল খেলেছেন মুমিনুল।

মুমিনুলের সাথে মুশফিকের জুটি ৩০ রানে থামলেও ততক্ষণে দলীয় সংগ্রহ পার হয়েছে ৪০০। চা বিরতির আগে লিটন দাস ও মুশফিকের ব্যাটে আর কোন বিপত্তি ঘটেনি টাইগার শিবিরে। ৪ উইকেটে ৪৪০ রান তুলে চা বিরতিতে যাওয়ার সময় মুশফিক অপরাজিত ২২ ও লিটন ১২ রানে।

চা বিরতির পর ১৩ বল মাঠে গড়াতেই নামে বৃষ্টি, যদিও ৭ মিনিটের ব্যবধানেই খেলা শুরু করার মত বৃষ্টিই ঝরেছিল ক্যান্ডির আকাশ থেকে। তবে ফের খেলা শুরু হলেও ৩৮ মিনিটের ব্যবধানে আলোক স্বল্পতায় বন্ধ হয় খেলা। বৃষ্টি না হলেও পাহাড়ে ঘেরা ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ খেলা পরিচালনার মত আলো সরবরাহ করতে ব্যর্থ। ফলে স্থানীয় সময় ৫ টা বেজে ১ মিনিটে আম্পায়ার দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করে।

তার আগে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ৪ উইকেটে ৪৭৪ রান। ৩৯ বলে ২ চার ১ ছক্কায় লিটন ২৫ ও ১০৭ বলে ৪ চারের সাহায্যে মুশফিক অপরাজিত ৪৩ রানে। আজ ২৫ ওভার কম খেলা হওয়াতে আগামীকাল খেলা শুরু হবে নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে। ৯০ ওভারের পরিবর্তে ৯৮ ওভার মাঠে গড়াবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (২য় দিন শেষে):

বাংলাদেশ ৪৭৪/৪ (১৫৫), তামিম ৯০, সাইফ ০, শান্ত ১৬৩, মুমিনুল ১২৭, মুশফিক ৪৩*, লিটন ২৫*; বিশ্ব ২৮-৮-৭৫-২, কুমারা ২৮-৪-৮৮-১, ধনঞ্জয়া ২৭-১-১১২-১।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ফিরে গেছেন শান্ত-মুমিনুল, ৫০০ এর পথে বাংলাদেশ

Read Next

সকালে দ্রুত রান তুলবে বাংলাদেশ, জানালেন ডোমিঙ্গো

Total
14
Share