প্রচুর গলফ খেলা মরিস নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে জানতেন

প্রচুর গলফ খেলা মরিস নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে জানতেন

১৬ কোটি ২৫ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছেন আইপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দামে। রেকর্ড পারিশ্রমিকে রাজস্থান রয়্যালসে যোগ দেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার ক্রিস মরিস টুর্নামেন্টে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই দেখালেন ঝলক। গতকাল (১৫ এপ্রিল) দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে প্রায় নিশ্চিত হার এড়িয়ে ব্যাট হাতে দলকে এনে দিলেন ৩ উইকেটের জয়। ম্যাচ শেষে জানালেন স্লগ ওভারে নিজের সামর্থ্য সম্পর্কে ভালোই জানেন প্রচুর গলফ খেলা মরিস।

আইপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিকের ক্রিকেটার, ফলে এই দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডারের কাছে প্রত্যাশাটাও বেশি। প্রথম ম্যাচে পাঞ্জাব কিংসের দেওয়া ২২৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে সাঞ্জু স্যামসনের সেঞ্চুরির পরও হারে রাজস্থান রয়্যালস। শেষ ওভারে মরিসে আস্থা না রেখে সিঙ্গেল উপেক্ষা করেন অধিনায়ক স্যামসন। ৪ বলে ২ রান করা মরিস তাই সেদিন সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার সুযোগ পাননি। ম্যাচ হারের পর স্যামসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্কও হয়।

তবে গতকাল ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে পথ হারানো রাজস্থানকে প্রথম জয় পেতে দারুণ সাহায্য করেছেন ক্রিস মরিসই। বিশেষ করে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে জানান দিলেন তার পেছনে ব্যয় করা কাড়ি কাড়ি টাকা বিফলে যাবে না।

লক্ষ্য তাড়ায় নামা রাজস্থান ৪২ রানে ৫ ও ১০৪ রানেই হারায় ৭ উইকেট। যেখানে স্রোতের বিপরীতে লড়াই চালিয়ে যান কেবল ডেভিড মিলার। ৪৩ বলে ৭ চার ২ ছক্কায় ৬২ রান করে মিলার যখন ৭ম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফিরছিলেন তখনও জয় থেকে ৪৪ রান দূরে রাজস্থান। হাতে তিন উইকেট ও ২৫ বল। তখনো পর্যন্ত পুরো ম্যাচে ছক্কা হয়েছে মাত্র দুইটি, যার দুইটি হাঁকিয়েছেন আউট হওয়া মিলার।

সেখান থেকে জয়দেব উনাদকাটকে নিয়ে ২ বল হাতে রেখেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন ক্রিস মরিস। ১৮ বলে ৩৬ রানের ইনিংসটিতে হাঁকিয়েছেন ৪ ছক্কা। যার দুইটি এসেছে ২০ তম ওভারের ৪ বলে, আগের ওভারে কাগিসো রাবাদাকেও হাঁকিয়েছে দুইটি ছক্কা। মূলত রাবাদার করা ১৯তম ওভার থেকে ১৫ রান নিয়েই ম্যাচ নিজেদের দিকে নিয়ে যায় রাজস্থান।

ম্যাচ শেষে ক্রিস মরিস আগের ম্যাচ সাঞ্জু স্যামসন তাকে স্ট্রাইক না দেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আমি রান নিতে গিয়েও ফিরে এসেছি, কি ত্যাগ করেছি সেটা ব্যাপারনা। কারণ সাঞ্জু তখন দারুণভাবে মারছিল। সাঞ্জু এমনভাবে মারছিল মনে হচ্ছিল স্বপ্ন, শেষ বলে সে ছক্কা মারলে (জয়ের জন্য ৫ রান প্রয়োজন ছিল) আমি খুব মন খারাপ করতাম না।’

নিজের গতকালকের পারফরম্যান্স নিয়ে মরিসের মূল্যায়ন, ‘এখানে ছেলেরা আছে যারা ব্যাট করার জন্য পারিশ্রমিক পায়, যারা স্লগ করার জন্য পারিশ্রমিক পায়। আমি জানি আমি কি। আমি একজন স্লগার যা আমি যা কিছু পারি তার উর্ধ্বে। আমি প্রচুর গলফ খেলি। আমি মনে করি দিল্লির বোলাররা দারুণ বল করেছে, ডেভিড (মিলার) অসাধারণ ব্যাটীং দেখিয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শেষে গিয়ে যেকোন কিছু হতে পারে, ভাগ্যক্রমে আমরাই এদিন এগিয়ে গেলাম।’

প্রথম ম্যাচে তীরে গিয়েও তরী ডুবেছে, ২২২ রান তারা করতে গিয়ে ২১৭ রানে থামতে হয় রাজস্থান রয়্যালসকে। হারলেও ঐ ম্যাচ থেকে অনেক কিছু ইরিবাচকভাবে নিয়েছে ক্রিস মরিসের সতীর্থরা। যা কাজে দিয়েছে গতকাল দিল্লি ক্যাপিটালসকে হারানো ম্যাচে।

মরিস বলেন, ‘আগের ম্যাচে আমরা খুব কাছে গিয়েছিলাম, দল হিসেবে আমরা ঐ ম্যাচ থেকে অনেক কিছু নিয়েছি। ২২২ (প্রথম ম্যাচে) তারা করা বেশ কঠিন কাজ। এত কাছে যাওয়া সেদিনকার ম্যাচ থেকে আমরা অনেক কিছুই নিয়েছি। ছেলেরা আগের ম্যাচ থেকে অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়েছে, তবে এটা জেনে ভালো লাগলো যে আমরা যেকোন পরিস্থিতি থেকে জিততে পারি। এটাই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

আরও ১০০ বার ঐ ম্যাচ খেললেও সিঙ্গেল নিবেন না স্যামসন

Read Next

ডি ভিলিয়ার্স ইস্যুতে বাউচার: ‘স্টিল ভেরি মাচ ওপেন’

Total
7
Share