পাকিস্তানকে মাটিতে নামাল খর্বশক্তির দক্ষিণ আফ্রিকা

c97 4 8

বাবর আজমের ধীরগতির ফিফটি, ৯ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে পাকিস্তানের সংগ্রহ ১৪০। তবে লক্ষ্য তাড়ায় এই রান সহজেই টপকায় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা। ওপেনার মার্করামের ঝড়ো ফিফটির পর অধিনায়ক ক্লাসেন আর লিন্ডের দায়িত্বশীল ব্যাটিং; ৬ ওভার হাতে রেখে ৬ উইকেটের জয় স্বাগতিকদের। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন জর্জ লিন্ডে। দক্ষিণ আফ্রিকায় উড়তে থাকা পাকিস্তান দলকে মাটিতে নামাল খর্বশক্তির প্রোটিয়ারা।

৪ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুই ম্যাচ শেষে ১-১ সমতা। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। জবাবে ৩৬ বল বাকি থাকতে সহজেই লক্ষ্যে পৌঁছায় স্বাগতিকরা। তুলে নেয় ৬ উইকেটের বড় জয়।

জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু ভালো হয়নি সফরকারী দলের। ইনিংসের প্রথম বলেই জর্জ লিন্ডের শিকার হয়ে ফেরেন মোহাম্মদ রিজওয়ান (০)। স্কোরবোর্ডে ১০ রান তুলতেই দুই ওপেনারকে হারায় পাকিস্তান। বাঁহাতি স্পিনার লিন্ডের দ্বিতীয় শিকার ৮ রান করা শারজিল খান। লিন্ডের বলে দুই ওপেনারের ক্যাচ একাই নেন এইডেন মার্করাম।

এরপর পাকিস্তান ঘুরে দাঁড়ায় বাবর আজম ও মোহাম্মদ হাফিজের ব্যাটে। ৫৮ রানের জুটি ভাঙেন সেই লিন্ডে। হাফিজকে ফিরিয়ে লিন্ডে দখলে নেন তৃতীয় উইকেট। হাফিজের ২৩ বলে ৩২ রানের ইনিংসে ছিল ৬টি চার। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারায় পাকিস্তান। হায়দার আলিকে ১২ রানে থামান তাব্রাইজ শামসি।

ফাহিম আশরাফ (৫),  হাসান আলি (১২) ও মোহাম্মদ নওয়াজকে (২) একাই বিদায় করেন লিজাড উইলিয়ামস। এরমাঝে ফিফটি পূর্ণ করেন অধিনায়ক বাবর আজম। তবে খুব ধীরগতির ব্যাটিংয়ে এদিন ফিফটি ছুঁয়েছেন বাবর। কিন্তু পরের বলেই বোল্ড হয়ে যান সিসান্ডা মাগালার বলে। ৫০ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৫০ রান করে বিদায় নেন বাবর আজম।

ফলে অল্পতেই শেষ হয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। নির্ধারিত ২০ ওভার খেলে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রানের বেশি করতে পারেনি বাবর আজমের দল।

বল হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৩টি করে উইকেট শিকার করেন লিন্ডে ও উইলিয়ামস। এছাড়া শামসি ও মাগালার দখলে একটি করে উইকেট।

লক্ষ্য তাড়ায় দুই ওপেনার ইয়ানেমান মালান ও এইডেন মার্করামের ব্যাটে দারুণ শুরু পায় প্রোটিয়া। উদ্বোধনী জুটিতেই ৪৪ রান। ১৫ রান করা মালানকে ফিরিয়ে দিয়ে জুটি ভাঙেন হাসান আলি। তিনে নাম উইহান লুবে ঝড়ো শুরু করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। মোহাম্মদ হাসনাইনের বলে টানা তিন বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পরের বলে প্যাভিলিয়নে লুবে (১২)।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে অধিনায়ক হেনরিখ ক্লাসেনকে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন ওপেনার মার্করাম। এরমাঝে অর্ধশত রান পূর্ণ করেন মার্করাম। তবে তাঁর ইনিংস থামে ৫৪ রানে। ৩০ বলের ইনিংসটি ৭টি চার ও ৩টি ছয় দিয়ে সাজিয়েছেন মার্করাম। দ্রুত ফিরে গেলেন পিট ভ্যান বিলজনও (২)।

এরপর জর্জ লিন্ডেকে সঙ্গে নিয়ে আর কোন বিপদ ঘটতে দেননি হেনরিখ ক্লাসেন। এই দুইয়ের ব্যাটে আসে ৪৯ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপ। ফলে মাত্র ১৪ ওভারেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ২১ বলে চার ৪ ও ১টি ছক্কায় ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন অধিনায়ক ক্লাসেন। ২ ছয়ের সাহায্যে ১০ বলে ২০ রানের ইনিংস আসে লিন্ডের ব্যাট থেকে। ৬ ওভার হাতে রেখেই প্রোটিয়ারা পায় ৬ উইকেটের বড় জয়।

বল হাতে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ ২টি উইকেট পান উসমান কাদির। এছাড়া একটি করে উইকেট দখলে নেন হাসান আলি ও মোহাম্মদ হাসানাইন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

পাকিস্তানঃ ১৪০/৯ (২০ ওভার) রিজওয়ান ০, শারজিল ৮, বাবর ৫০, হাফিজ ৩২, হায়দার ১২, ফাহিম ৫, হাসান ১২, নওয়াজ ২, আফ্রিদি ৭*; লিন্ডে ৪-০-২৩-৩, শামসি ৪-০-২২-১, উইলিয়ামস ৪-০-৩৫-৩, মাগালা ৪-০-৩২-১

দক্ষিণ আফ্রিকাঃ ১৪১/৪ (১৪ ওভার) মালান ১৫, মার্করাম ৫৪, লুবে ১২, ক্লাসেন ৩৬*, লিন্ডে ২০*; হাসনাইন ২-০-২৫-১, হাসান ২-০-১৬-১, উসমান ৩-০-২৬-২

ফলাফলঃ দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে জয়ী

সিরিজঃ ৪ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুই ম্যাচ শেষে ১-১ সমতা

ম্যাচ সেরাঃ জর্জ লিন্ডে (দক্ষিণ আফ্রিকা)।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

বৃথা গেল স্যামসনের দাপুটে ইনিংস, রানবন্যার ম্যাচে জিতল পাঞ্জাব

Read Next

বাংলাদেশে থেকে গেছেন ‘৫’ প্রোটিয়া নারী ক্রিকেটার

Total
34
Share