রিজওয়ানের ব্যাটে পাকিস্তানের শততম টি-টোয়েন্টি জয়

রিজওয়ানের ব্যাটে পাকিস্তানের শততম টি-টোয়েন্টি জয়

মোহাম্মদ রিজওয়ানের অনবদ্য ইনিংসে পাকিস্তানের রেকর্ড গড়া ৪ উইকেটের জয়। প্রথম দল হিসেবে শততম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি জিতল (সুপার ওভার ছাড়া) পাকিস্তান। এমন ঐতিহাসিক ম্যাচেই ক্যারিয়ারের শততম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেছিলেন মোহাম্মদ হাফিজ। তাঁর অনন্য মাইলফলক ছোঁয়ার এ দিনটি স্মরণীয় করে রাখলেন রিজওয়ান ৭৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে খেলে।

ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর টি-টোয়েন্টিতেও সফরকারী পাকিস্তানের জয়ে শুরু। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে পাকিস্তানকে ১৮৯ রানের লক্ষ্য দেয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ানের ব্যাটে চড়ে পাহাড়সম টার্গেট ছুঁয়ে ফেলে সফরকারীরা এক বল হাতে রেখে। টি-টোয়েন্টিতে এটিই এখন পাকিস্তানের সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ইতোমধ্যে ২-১ ব্যবধানে হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। চলমান চার ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ১-০’তে এগিয়ে গেল বাবর আজমের দল।

জোহানেসবার্গের দ্য ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাট করতে নামে দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরুর ৫ ওভারের মধ্যেই দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে ছিল স্বাগতিকরা। এরপর উল্টো ভারতকে চাপে ফেলে দেন পাকিস্তানকে। এইডেন মার্করাম ও অধিনায়ক হেনরিখ ক্লাসেনের ব্যাটে আসে ৬২ রানের জুটি।

তবে মার্করাম আউট হনে ৫১ রানে। পঞ্চাশ রানের ইনিংসে থামেন ক্লাসেনও। এরপর পিট ভ্যান ভিলজনের ব্যাট থেকে আসে ২৪ বলে ৩৪ রান। আর তাতেই প্রোটিয়াদের স্কোরবোর্ডে জমা হয় ১৮৮ রান।

দুই ওপেনারের ব্যাটে ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়েছিল পাকিস্তানের। তবে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজমের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে দেন বেউরান হেনড্রিকস। দলীয় ৪৪ রানে অধিনায়ক বাবর আজম প্যাভিলিয়নে ফেরেন (১৪)। এরপর রিজওয়ানের জুটি হয় ফখর জামানের সঙ্গেও। তবে দারুণ খেলতে থাকা ফখর জামান ১৯ বলে ২৭ রান করে ক্যাচ তুলে বিদায় নেন।

শততম ম্যাচ ব্যাট হাতে স্মরণীয় করে রাখতে পারলেন মোহাম্মদ হাফিজ। এদিন ১৩ রানের বেশি করতে পারেননি পাকিস্তানের অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান। তাব্রাইজ শামসির বলে স্টাম্পড হয়ে হাফিজ যখন ফিরছেন তখন পাকিস্তানের রান ৩ উইকেটে ১১০। অপরপ্রান্তে ব্যাট হাতে একাই লড়ে যাচ্ছেন ওপেনার মোহাম্মদ রিজওয়ান।

১৬তম ওভারে বল নিয়ে এসেই পরপর দুই বলে হায়দার আলি (১৪) ও মোহাম্মদ নওয়াজকে (০) ফিরিয়ে দেন বেউরান হেনড্রিকস। বিপাকে পড়া পাকিস্তানকে টেনে তুলে রিজওয়ান ও ফাহিম আশরাফের ব্যাট; মাত্র ২৪ বলে ৪৮ রানের জুটি।  জয়ের জন্য শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১১ রান। ওভারের দ্বিতীয় বলে ফাহিম আশরাফে আউট করে দেন লিজাদ উইলিয়ামস। ১৪ বলে ৪ চার ও ১ ছয়ের সাহায্যে ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংসে দলের জয়ে অবদান রাখেন ফাহিম। হাসান আলি ৩ বল মোকাবিলায় ৯ রান করে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান দলকে।

শেষপর্যন্ত ১ বল বাকি থাকতেই ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের। টি-টোয়েন্টিতে জয়ের সেঞ্চুরি পূরণ করল পাকিস্তান। মোহাম্মদ রিজওয়ান অপরাজিত থাকেন ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৫০ বলে ৭৪ রানে। এমন ইনিংসের সুবাদে জিতে নিয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরষ্কারও।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

দক্ষিণ আফ্রিকাঃ ১৮৮/৬ (২০ ওভার) মালান ২৪, মার্করাম ৫১, ক্লাসেন ৫০, ভিলজন ৩৪; নওয়াজ ২/২১, হাসান ২/২৮, হারিস ১/৩৭, আফ্রিদি ১/৪৫

পাকিস্তানঃ ১৮৯/৬ (১৯.৫ ওভার) রিজওয়ান ৭৪*, বাবর ১৪, ফখর ২৭, হাফিজ ১৩, হায়দার ১৪, ফাহিম ৩০, হেনড্রিকস ৩/৩২, শামসি ২/২৯, উইলিয়ামস ১/২৯

ফলাফলঃ পাকিস্তান ৪ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরাঃ মোহাম্মদ রিজওয়ান (পাকিস্তান)

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

দিল্লিকে বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দিল চেন্নাই

Read Next

চেন্নাইকে হেসেখেলে হারাল দিল্লি

Total
21
Share