শহিদুলের পরিপূর্ণ পেস বোলিং অলরাউন্ডার হবার চেষ্টা চলছে

শহিদুলের পরিপূর্ণ পেস বোলিং অলরাউন্ডার হবার চেষ্টা চলছে

শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য ২১ সদস্যের প্রাথমিক স্কোয়াডে ডাক পেলেন তরুণ পেসার শহিদুল ইসলাম। শহিদুল ঘরোয়া লিগে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে এসেছেন এই পর্যায়ে। এবারের জাতীয় লিগে বোলিং ভূমিকার পাশাপাশি দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতেও ঝলক দেখিয়েছেন। নিজেকে পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন। তবে চূড়ান্ত স্কোয়াডে সুযোগ হবে কিনা সেটা সময় বলে দিবে। শহিদুল আপাতত নিজের অনুশীলনে ফোকাস দিয়ে এগোতে চাইছেন।

ক্রিকেট৯৭ এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে যা বললেন শহিদুল-

ক্রিকেট৯৭ঃ শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে কী ভাবনা? আসন্ন এই সফরে আপনার ব্যক্তিগত লক্ষ্য কী হতে পারে?

শহিদুলঃ আলহামদুলিল্লাহ্‌, খুব ভালো লাগছে (স্কোয়াডে সুযোগ পেয়ে)। কোভিড টেস্ট দিয়েছি, ফলাফল যদি ভালো আসে কাল থেকে হয়তো প্র‍্যাকটিস শুরু হতে পারে। এরপর ফোকাস দিয়ে সামনে আগাবো। তবে টার্গেট থাকবে মেইন স্কোয়াডে থাকার জন্যেই।

ক্রিকেট৯৭ঃ দলে এখন বেশ কয়েকজন নতুন পেসার। তারাও ভালো করছেন। আপনার জন্য এটা আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং কি?

শহিদুলঃ হ্যা, সবাই মোটামুটি ভালো অবস্থানেই আছে। আসলে ভালো করার জায়গায় চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে এটা স্বাভাবিক। এক হলো, এখানে যারা আছে সবাই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। দুই, সবারই সময় ভালো যাচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ্‌। চ্যালেঞ্জ নিতে হবে সব ক্ষেত্রেই। প্রথমবারের মতো যেহেতু সুযোগ পেয়েছি, দেখা যাক। আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। বাকিটা আল্লাহ্‌-তালার হাতে।

ক্রিকেট৯৭ঃ প্রাথমিক দল থেকে বাছাইয়ের পর শ্রীলঙ্কা সফরেই সেরা একাদশে জায়গা পেলে অভিষেক কিভাবে রাঙাতে চাইবেন?

শহিদুলঃ একাদশে সুযোগ নিয়ে এখনও তেমন এক্সাইটেড না, কিছু চিন্তা করি নাই। আগে ধাপে-ধাপে আগাই। সেরা একাদশের জন্য প্রস্তত হই। তারপর বাকিটা নিয়ে চিন্তা করবো। তবে আশা রাখি ভালো কিছু করে স্মরণীয় করে রাখতে পারবো। সময় আসলে অনেক কিছুই হবে ইন শা আল্লাহ।”

ক্রিকেট৯৭ঃ কী পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন?

শহিদুলঃ আমি ঘরোয়া লিগ খেলছি লাস্ট ৫-৬ বছর ধরে। এই জায়গায় খেলতে খেলতেই বিপিএল, বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে আসা। যে জায়গাতেই খেলেছি, পারফর্ম করার চেষ্টা করেছি। আলহামদুলিল্লাহ্‌ হয়েছেও। এভাবেই আরকি সামনে এগিয়ে এই পর্যন্ত আসা।

ক্রিকেট৯৭ঃ পেসার হওয়ার প্রথম দিকে কোন কোন ক্রিকেট-ব্যক্তিত্বকে ভালো লেগেছে কিংবা কাকে আদর্শ মেনে এই পথচলা?

শহিদুলঃ আমি একেবারেই যখন ছোট ছিলাম ক্রিকেট শুরু করেছিলাম, তখন মাশরাফি ভাইকে দেখেই পেস বল করার চিন্তা মাথায় আসে। আমি পেস বল করব মাশরাফি ভাইয়ের মতো। মূলত মাশরাফি ভাইয়ের বোলিং দেখেই আমার পেস বোলিংয়ে আসা।

ক্রিকেট৯৭ঃ এমন কি হয়েছে কোনো ব্যাটসম্যানকে বল করার আগে ভীতি কাজ করেছে?

শহিদুলঃ না আসলে ওই রকম কম সময়ই আসে, ভয়-ভীতি এখন আসেই না সাধারণত। বল হাতে নিলে লক্ষ্য একটাই থাকে বোলিং করব, এখানে আমি শুধু আমার কাজটাকেই ফোকাস দিয়ে যাই। কার বিপক্ষে বল করছি, কাকে করছি এমন চিন্তা আমি মাথায় নেই না।

ক্রিকেট৯৭ঃ কমপ্লিট পেস বোলিং অলরাউন্ডার হয়ে ওঠতে বিশেষ কিছু করছেন কি?

শহিদুলঃ পরিপূর্ণ পেস বোলিং অলরাউন্ডার হওয়ার জন্যে আমি এখনও চেষ্টা করছি। একটা হচ্ছে কোনভাবে হয়ে যাওয়া, আরেকটি হচ্ছে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। বলতে গেলে প্রতিষ্ঠিত এখনও হইনি আমি, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ভাগ্যে থাকলে ইন শা আল্লাহ্‌ হবে। আমি এখন শুধু আমার চেষ্টাটাই চালিয়ে যাচ্ছি। সুযোগ কিংবা সময় হলে নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা করব পেস অলরাউন্ডার হিসেবেই।

ক্রিকেট৯৭ঃ ক্রিকেটের বাইরের প্ল্যাটফর্মে এমন কেউ আছে, যে আপনাকে খুব উৎসাহিত করে? অনুপ্রেরণা যোগায়?

শহিদুলঃ আমার পরিবার আমাকে খুব সাপোর্ট করে। বাবা সবসময় পাশে থাকতো। আর বন্ধুবান্ধবের মধ্যে শিহাব আছে, ছোট ভাই আছে, ওরা মানসিকভাবে সাপোর্ট করে যায়। মোটামুটি আমার আশেপাশের সবাই খুব হেল্পফুল।

ক্রিকেট৯৭ঃ কীভাবে ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে আসা, কিংবা আপনার শুরুটা কিভাবে? বিশেষ কারও সাহায্য পেয়েছেন সেই সময়ে?

শহিদুলঃ আমার কোচ হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের ওমর ফারুক সোহাগ ভাই। ওনার কাছেই শুরুতে প্র‍্যাকটিস করি। প্রথমে ঢাকায় ছিলাম, তবে শেষ ৮-৯ বছর যাবৎ নারায়ণগঞ্জেই প্র‍্যাকটিস চালিয়ে যাই। আমার ঢাকায় এই অবস্থানে আসার পেছনে বাবুল স্যারের (মিজানুর রহমান বাবুল) অনেক অবদান আছে। বাবুল স্যারের মাধ্যমেই আমার ঢাকায় পরিচয়। রনি ভাই, আসিফ আহমেদ রাতুল ভাই আমাকে অনেকভাবে সাহায্য করেছে।”

ক্রিকেট৯৭ঃ ক্রিকেটের পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যেতে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন নিশ্চয়ই?

শহিদুলঃ হ্যা, খেলার সঙ্গে পড়াশোনা একটু তো সমস্যা হয়’ই। যেহেতু আমি পাবলিকে পড়ি (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) বুঝি ঝামেলা কিরকম। কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে অনেক ঝামেলায় আছি নিয়মিত ক্লাস করতে না পারায়। প্র্যাকটিকালি সবকিছু, এখানে থিউরিটিক্যাল তেমন কিছু নেই। সবকিছু মিলিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। পরীক্ষার সময় ম্যাচ থাকে। তবে আর অল্প একটু বাকি আছে, ইন শা আল্লাহ্‌ শেষ করে ফেলব। ভিসি স্যারকে অনেক ধন্যবাদ আমাকে অনেকভাবে সাহায্য করেছেন। আমার ডিপার্টমেন্টও আমার পাশে আছে সবসময়।

ক্রিকেট৯৭ঃ আমাদের পাঠকদের উদ্দেশ্যে যদি কিছু বলেন?

শহিদুলঃ সবার কাছে আমি দোয়াপ্রাথী। আমার বাবার জন্যও সবাই দোয়া করবেন (সম্প্রতি পরলোকগমন করেন শহিদুলের পিতা)। সুযোগ পেলে আমি আমার সেরাটা দিতে চেষ্টা করব। আর করোনার এই সময়ে সবার কাছে একটাই অনুরোধ আপনারা সাবধানে থাকবেন।

রাকিবুল হাসান

Read Previous

পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে প্রোটিয়াদের অধিনায়ক ক্লাসেন

Read Next

মুম্বাইকে খুব বেশিদূর যেতে দিল না ব্যাঙ্গালোর

Total
22
Share