প্রোটিয়াদের হারিয়ে রেকর্ড গড়ল পাকিস্তান

প্রোটিয়াদের হারিয়ে রেকর্ড গড়ল পাকিস্তান

ফখর জামানের সেঞ্চুরি ও অধিনায়ক বাবর আজমের সেঞ্চুরি ছুঁই ছুঁই ইনিংসের উপর ভর করে ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করলো পাকিস্তান। সেঞ্চুরিয়ানে ৩য় ও শেষ ওয়ানডেতে টেম্বা বাভুমার দক্ষিণ আফ্রিকাকে তারা হারায় ২৮ রানে। এর ফলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়লাভ করেছে পাকিস্তান।

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এশিয়ার দলগুলোর পারফরম্যান্স তেমন সন্তোষজনক নয়। পাকিস্তান এই দিয়ে দ্বিতীয়বারের মত (২০১৩ এর পর) দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতল, এশিয়ার প্রথম কোন দল হিসাবে।দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে পাকিস্তানের চেয়ে বেশি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে কেবল অস্ট্রেলিয়া (৩)।

২য় ওয়ানডের পর আইপিএলের উদ্দেশ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ৫ জন মূল খেলোয়াড় ভারতে চলে যাওয়ায় দলের লাইনআপ বেশ নড়বড়ে ছিল। হারের ব্যবধান কম হলেও পুরো ম্যাচে পাকিস্তানের সাথে তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি তারা।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তানের এদিনও রানের ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন ওপেনার ফখর জামান। আগের ম্যাচে ১৯৩ রান করেও দলকে জেতাতে পারেননি। এদিন অবশ্য ভাগ্য তার পক্ষেই ছিল।

উদ্বোধনী জুটিতে ইমাম উল হকের সাথে ১১২ রানের জুটির পর অধিনায়ক বাবরের সাথেও ২য় উইকেটে ৯৪ রানের বড় জুটি গড়েন। আউট হওয়ার আগে ৯ চার ও ৩ ছয়ে ১০১ রান করেন ফখর। ইমাম করেন ৫৭ রান।

মাঝে ব্যাটিং লাইনআপে কিছুটা মড়ক ধরলেও বাবর ও হাসান আলির ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেটে ৩২০ রান করতে সমর্থ হয় পাকিস্তান। বাবর ৯৪ রানে আউট হলেও হাসান আলি মাত্র ১১ বলে ১ চার ও ৪ ছয়ে ৩২ রানে অপরাজিত থাকেন।

প্রোটিয়াদের পক্ষে দুই স্পিনার কেশব মহারাজ ৩টি এবং এইডেন মার্করাম ২টি উইকেট নেন।

৩২১ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে একাদশে সুযোগ পেয়ে ইয়ানেমান মালান আস্থার প্রতিদান দেন। দলের হয়ে সর্বোচ্চ স্কোরও তার ব্যাট থেকে আসে (৭০)। তবে অধিনায়ক বাভুমা কিংবা মার্করামরা বলার মত রান করতে না পারায় যোগ্য সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন তিনি।

পরবর্তীতে কাইল ভেরেইন (৬২) এবং আন্দিলে ফেলুকওয়ায়োর (৫৪) ব্যাটিংয়ে প্রোটিয়ারা জয়ের আশা করলেও টার্গেট থেকে ৭০ রান দূরে থাকতে ২ জনই ফিরে যান। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের তোপে পড়ে ৩ বল বাকি থাকতে ২৯২ রানে অলআউট হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা।

পাকিস্তানের পক্ষে মোহাম্মদ নওয়াজ এবং শাহীন শাহ আফ্রিদি ৩টি করে এবং হারিস রউফ ২টি উইকেট নেন।

ম্যাচ সেরা বাবর আজম এবং সিরিজ সেরা নির্বাচিত হন ফখর জামান।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

পাকিস্তানঃ ৩২০/৭ (৫০), ফখর ১০১, বাবর ৯৪, ইমাম ৫৭, হাসান আলি ৩২*; মহারাজ ১০-১-৪৫-৩, মার্করাম ১০-০-৪৮-২

দক্ষিণ আফ্রিকাঃ ২৯২/১০ (৪৯.৩), ইয়ানেমান ৭০, ভেরেইন ৬২, ফেলুকওয়ায়ো ৫৪; নওয়াজ ৭-০-৩৪-৩, শাহীন ৯.৩-০-৫৮-৩, রউফ ৯-১-৪৫-২

ফলাফলঃ পাকিস্তান ২৮ রানে ম্যাচ জয়ী, ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী

ম্যাচ সেরাঃ বাবর আজম (পাকিস্তান)

সিরিজ সেরাঃ ফখর জামান (পাকিস্তান)।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

ভোগলের মতে মুস্তাফিজের সুযোগ কেবল দিল্লির মাঠে!

Read Next

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের টেস্ট স্কোয়াড ঘোষণা

Total
127
Share