টি-টোয়েন্টির শীর্ষ ব্যাটসম্যান মালানের মুখে টেস্টের জয়গান

টি-টোয়েন্টির শীর্ষ ব্যাটসম্যান মালানের মুখে টেস্টের জয়গান

টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষ ব্যাটসম্যান ইংলিশ বাঁহাতি ডেভিড মালান। তবে কখনোই টি-টোয়েন্টি নিয়ে বাড়তি ভাবনা ছিল না মালানের, টেস্ট ক্রিকেটকে গুরুত্ব দিয়েই সামনে এগিয়েছেন। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট মিস হবে বলে আইপিএলের নিলামে নাম দিতেন না, ছিল না দল পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চয়তাও। পাঞ্জাব কিংসের হয়ে এবারের আইপিএল দিয়ে টি-টোয়েন্টির অন্যতম সেরা এই টুর্নামেন্টে যাত্রা শুরু হচ্ছে এই ইংলিশ ব্যাটসম্যানের। তবে তার কাছে এখনো টেস্ট ক্রিকেটই মৌলিক খেলা।

১৯১ টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে সাড়ে ১১ হাজারের বেশি রান মালানের। যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় সাদা পোশাক আর লাল বলে কতটা আগ্রহ এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের। তবে টেস্ট ক্রিকেটে সেটার প্রতিফলন হয়নি সেভাবে। ১৫ টেস্টের ক্যারিয়ারে ২৭.৮৪ গড়ে ৭২৪ রান, সর্বশেষ খেলেছেন ২০১৮ সালে। এখনো পর্যন্ত ওয়ানডেতেও জায়গা পাকা হয়নি (৩ ম্যাচ), অথচ টি-টোয়েন্টি ব্যাট হাতে ছুটিয়েছেন রানের ফোয়ারা।

ভালোবাসেন টেস্ট ক্রিকেট, মজে আছেন সাদা পোশাক আর লাল বলে। আন্তর্জাতিক আঙিনায় সাফল্য এলো কিনা ক্রিকেটের সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে। ২৪ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে রান করেছেন ৫০ এর বেশি গড়ে ১ হাজারের বেশি। যা দ্রুততম এক হাজার রানের রেকর্ডও। বর্তমানে তার চাইতে বেশি গড় কেবল ভারত অধিনায়ক ভিরাট কোহলির। নিজের ১৬তম ম্যাচেই টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে এক নম্বরে উঠে আসা মালান এখনো আছেন শীর্ষেই।

প্রথমবার আইপিএল খেলতে এসে এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান জানালেন কেন এত দেরিতে আইপিএল অন্তর্ভূক্তি। ‘টাইমস অব ইন্ডিয়াকে’ দেওয়া সাক্ষাৎকারে মালান তুলে ধরলেন টেস্ট ক্রিকেটের গুরুত্ব। বিশেষ করে ক্রিকেটের মৌলিক জায়গা হিসেবে তার কাছে টেস্টই সবার উপরে। তরুণরাও ব্যর্থ হলে যেন টেস্টের মত মৌলিক জায়গায় ফিরে যায় সেটাই চাওয়া ৩৩ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের।

তিনি বলেন, ‘এই (আইপিএল) টুর্নামেন্টে দল পেতে হলে যথেষ্ট ভালো হতে হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত না খেললে এখানে সুযোগ পাওয়া কঠিন। আমার স্বপ্ন সবসময়ই ছিল টেস্ট ক্রিকেটকে ঘিরে। আইপিএলে নাম দিলে তাই প্রতিবারই মৌসুমের প্রথম চার-পাঁচটি চারদিনের ম্যাচ (কাউন্টি ক্রিকেটে) মিস হতো। পাঁচ-ছয় বছর আগে নিলামে নাম তোলার মতো যথেষ্ট ভালো সম্ভবত আমি ছিলাম না।’

‘সময় বদলাচ্ছে বটে। পাশাপাশি এটাও বলতে হবে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেরা যারা, ভিরাট কোহলি, এবি ডি ভিলিয়ার্স, ক্রিস গেইলরা সবাই লাল বলের ক্রিকেট খেলেছে এবং সবার মৌলিক ভীত মজবুত। তরুণদের উচিত সবকিছু ঠিকমতো না এগোলে তাদের ভীত ও মৌলিকত্বে মনোযোগ দেওয়া। টেস্ট ক্রিকেট এখনও খেলাটির মূল কাঠামো। মৌলিক জায়গা ঠিক না থাকলে ভরসা করার কিছু থাকে না।’

এখনো পর্যন্ত পাঞ্জাবের নেই বলার মত কোন সাফল্য। ২০১৪ সালে রানার আপ হওয়াটাই বড় অর্জন। এক নম্বর ব্যাটসম্যান বলে মালানের কাছে প্রত্যাশা বেশি থাকারই কথা দলটির। মালান সেই বাস্তবতা মেনে তুলে ধরেছেন ক্রিকেটে ভালো দিন খারাপ দিন আসার বাস্তবতা।

এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান বলেন, ‘প্রত্যাশা খেলারই অবিচ্ছেদ্য অংশ। যখন আপনার সাথে কোন ট্যাগ থাকবেনা লোকে ভাববে আপনি রান করবেন কিন্তু কারও সাথে তুলনা করবেনা। আমরা সবাই মানুষ, আমাদের ভালো দিন খারাপ দিন আসতেই পারে। কখনো আপনি পরিস্থিতি সামলাতে পারবেন, কখনো পারবেন না। লোকে মতামত দিবে এবং সমালোচনা করবে কিন্তু অনুধাবন করবে না যে টি-টোয়েন্টি মানেই প্রতি বলে মারা নয়।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

সাকিবকে তিন নম্বরে চান হার্শা ভোগলে, ইয়ান বিশপ চান বেস্ট ইলেভেনে

Read Next

রাবাদা-মিলারদের জায়গায় সাকিব-মুস্তাফিজদের কল্পনা করতে পারছেন না মাশরাফি

Total
6
Share