সাকিব-তামিমের বিকল্পদের উপর আস্থা আছে সুজনের

সাকিবের আইপিএল খেলাতে খারাপ কিছু দেখেন না সুজন

টানা হারের বৃত্তে থাকা টাইগার স্কোয়াডকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগও দেয়নি নিউজিল্যান্ড। দুই সিরিজেই বাংলাদেশ হয়েছে হোয়াইটওয়াশ। টি-টোয়েন্টি সিরিজে তো বাংলাদেশ খেলেছে তারুণ্য নির্ভর একাদশ নিয়ে। বাংলাদেশকে সাফল্য এনে দেয়া সাকিব, তামিমরা একসময় যখন বিদায় নেবেন; তখন বাংলাদেশের হাল ধরবে কে? খালেদ মাহমুদ সুজনের মতে, সমৃদ্ধ হচ্ছে আগামীর সাকিব-মুশফিক তৈরির পাইপলাইন। ম্যাচে ভালো করতে হলে সিনিয়র, জুনিয়র না ভেবে সবাইকে সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। তাইতো ব্যক্তিনির্ভর হতে না করেছেন সুজন।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশ দলে সাকিব না থাকা বাড়তি সুবিধা যেকোন প্রতিপক্ষের জন্যেই। একজন নিখাদ বোলার ও ব্যাটসম্যানের সমন্বয় খুব কম ক্রিকেটারের মধ্যেই থাকে যা সাকিবকে করেছে অন্যদের চেয়ে আলাদা। তাই সাকিবের না থাকা যেকোন সিরিজেই বাংলাদেশ দলের জন্য বড় সমস্যা। খালেদ মাহমুদ সুজনের বক্তব্য,

‘সাকিব নেই তাই এটা একটা বড় ইস্যু আমাদের জন্য। কারণ সাকিব থাকলে টিমের ব্যালেন্সে সুবিধা হয়। সাকিব থাকা মানে একটা ব্যাটসম্যান ও বাড়তি বোলার পাওয়া এবং সাথে একটা বাড়তি ব্যাটসম্যান ও বোলারকে আমরা খেলাতে পারি। তো সেখানে একটা প্রবলেম তো হতেই পারে।’

‘পঞ্চপাণ্ডব’ খ্যাত মাশরাফি, তামিম, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, সাকিব বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছেন দীর্ঘ পনের বছর ধরে। তবে তাঁদের আগেও যে দেশের ক্রিকেটকে সাফল্য এনে দিয়ে গেছেন মোহাম্মদ রফিক, আকরাম খান, নাইমুর রহমান দুর্জয়, হাবিবুল বাশার’রা। পর্যায়ক্রমে এরা ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। সাকিব, তামিমরাও অবসরে যাবেন; তবুও চলবে দেশের ক্রিকেট। তাই এসব নিয়ে চিন্তায় কপালে ভাজ না ফেলে বিকল্প ক্রিকেটার যারা আছেন তাঁদের সবসময় দায়িত্ব নিয়ে খেলার পরামর্শ খালেদ মাহমুদ সুজনের,

‘সারাজীবন মাশরাফি, সাকিব, তামিম, রিয়াদ বা মুশফিককে নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলবে না। এক সময় মোহাম্মদ রফিক খেলতো, হাবিবুল বাশার সুমন ছিল, নাইমুর রহমান দুর্জয় খেলেছে, এখন খেলছে না। এক সময় এরাও ছেড়ে যাবে। তাই বলে বাংলাদেশ দল আটকে থাকবে না। চলতে তো হবেই।’

সাকিব ছিল না নিউজিল্যান্ড সফরে। থাকবেন না আসন্ন শ্রীলঙ্কা সফরেও। সাকিব যেহেতু খেলছেন না তাই যারা বিকল্প হিসাবে তাঁর জায়গায় খেলবে তাঁদের প্রতি আস্থা রাখছেন শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য নির্বাচিত বাংলাদেশের টিম লিডার খালেদ মাহমুদ,

‘সাকিব থাকলে অবশ্যই তা আমাদের জন্য বড় পাওয়া যে সাকিব দলে খেলছে। তবে যেহেতু সাকিব খেলছে না তাঁর বিকল্প যাই আছে আমাদের তা ডিসাইড করতে হবে এবং যারাই আছে তাঁরা যে ক্যাপাবেল না তা না। তাঁরাও ম্যাচ উইনার, অনেক ম্যাচ তাঁরা ভালো খেলেছে, জিতিয়েছে। যারা সিনিয়র আছে বা জুনিয়র আছে সবারই দায়িত্ব আছে। এটা সিনিয়র-জুনিয়রের খেলা না। যেহেতু সবাই ন্যাশনাল টিমকে রিপ্রেজেন্ট করছে, আমি মনে করি, সবারই তাই সমান দায়িত্ব আছে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট এখনও যে ব্যক্তিনির্ভর। দলে সিনিয়রদের দায়িত্ব বেশি আর জুনিয়র ক্রিকেটারদের কম; এমন কিছু না ভাবতেই বললেন খালেদ মাহমুদ সুজন। তার মতে, একাদশে সুযোগ পাওয়া সবাইকেই দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নামতে হবে। তামিম, লিটনের উদাহরণ টেনে সুজন বলেছেন,

‘এটা এমন নয় যে, তামিমের রেস্পন্সিবিলিটি ১০০ এবং আরেকটা জুনিয়র ক্রিকেটার লিটনের রেস্পন্সিবিলিটি ১০। আমি মনে করি তামিমের রেস্পন্সিবিলিটি ১০০ এবং লিটনের রেস্পন্সিবিলিটিও ১০০। তাই আপনি কম্পেয়ার করতে পারবেন না যে আপনি নতুন না পুরনো। ইউ আর গুড, এজন্যেই আপনি ন্যাশনাল টিমে খেলছেন। এখন লিটন ৫-৬ যাবত ন্যাশনাল টিমে খেলছে। আমি লিটনের নাম উল্লেখ করে বলছি, কিন্তু এরকম অনেকেই আছে। তাই আপনি বলতে পারবেন না যে সিনিয়ররাই সব দায়িত্ব নেবে, কেন সিনিয়ররা সব দায়িত্ব নেবে? ইফ ইউ আর দ্যা পার্ট অব টিম, ইউ হ্যাভ দ্যা সেইম রেস্পনসিবিলিটি। সুতরাং সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। একটা দল ভালো করতে গেলে একজন প্লেয়ার ম্যাচ জেতাবে এমনটা চিন্তা করা যাবেনা। আমাদের এগারো জনকেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়তে হবে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

দলে কোন সমস্যা থাকলে সেটা ঠিক করার চেষ্টা করবেন সুজন

Read Next

প্লেয়ারদের ঐ সুইচ অফ হয়ে গেছেঃ সুজন

Total
1
Share