যে কারণে শ্রীলঙ্কা সফরের স্কোয়াড ছোট রাখতে চান নির্বাচকরা

যে কারণে শ্রীলঙ্কা সফরের স্কোয়াড ছোট রাখতে চান নির্বাচকরা

হতাশায় মোড়ানো নিউজিল্যান্ড সফর শেষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কার বিমানে চড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হকদের ১২ এপ্রিল দেশ ছাড়ার কথা থাকলেও দেশের বর্তমান করোনা পরিস্থিতি, লকডাউন ও শ্রীলঙ্কার কোয়ারেন্টাইন ইস্যু নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যদিও নির্বাচক হাবিবুল বাশার জানালেন সিরিজ হচ্ছে ধরেই চলছে দল গুছানোর কাজ। কয়েকজন ক্রিকেটারের ফিটনেস রিপোর্ট হাতে আসবে আগামীকালকের মধ্যে। রিপোর্ট হাতে পেয়েই চূড়ান্ত করবেন দল।

তবে নিউজিল্যান্ডের মত বড় স্কোয়াড যে শ্রীলঙ্কায় যাচ্ছে না সেটার আভাসই দিয়েছেন হাবিবুল বাশার। মূলত নিউজিল্যান্ডের মত ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে না বলেই যতটা সম্ভব ছোট বহর নিয়ে শ্রীলঙ্কায় যেতে চায় বাংলাদেশ। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কায় জরুরি প্রয়োজনে খেলোয়াড় উড়িয়ে নিতেও খুব বেশি সময় না লাগার সুবিধাও পাবে টাইগাররা।

কাঁধের চোটের কারণে মুশফিকুর রহিম নিউজিল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মাঠে নামতে পারেননি। পেসার হাসান মাহমুদকে দেশে ফিরতে হয়েছে ওয়ানডে সিরিজ খেলেই। এই দুজন ছাড়াও টুকটাক ছোটখাটো চোট, ফিটনেস ইস্যু আছে আরও কয়েকজনের। সবার রিপোর্টই নির্বাচকদের হাতে আসবে আগামীকালকের মধ্যে। আর এরপরই দল চূড়ান্ত করে ফেলার কথা জানালেন হাবিবুল বাশার।

আজ (৫ এপ্রিল) নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপে জাতীয় দলের এই নির্বাওচক বলেন, ‘ফিটনেস নিয়ে একটা চিন্তার বিষয় আছে। আমি যতটুক জানি মুশফিক ফিট হয়ে যাবে। আমরা ওকে পাব। আরও কয়েকটা জায়গায় চিন্তার বিষয় আছে। হাসান মাহমুদের ফিটনেস ইস্যু আছে, আমরা তার ফাইনাল রিপোর্ট আজকে বা কালকে পেয়ে যাবো। ফিটনেস ইস্যুর কারণেই আমরা দলটা এখনো দিতে পারিনি। আজ-কালকের মধ্যে সবার রিপোর্ট পেয়ে যাবো। এরপরই দল চূড়ান্ত করে ফেলবো।’

‘শ্রীলঙ্কায় তিনদিনের কোয়ারেন্টাইন। নিউজিল্যান্ডের মত না যে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন করতে হবে। এমনও না যে দুইদিন লাগবে পৌঁছাতে। শ্রীলঙ্কায় যেতে খুব কম সময় লাগে, কোয়ারেন্টাইন সময়সীমা কম আছে। এ ক্ষেত্রে ইমার্জেন্সি হলে ৩-৪ দিন আগে প্লেয়ার নেওয়া যাবে। যেহেতু দুইটা টেস্ট ম্যাচ, বহরটা নিউজিল্যান্ডের মত বড় হোক সেটা আমরা চাইনা। চাই বহরটা ছোট হোক। সেসব আলোচনা করেই স্কোয়াড টা দেওয়া হবে।’

স্কোয়াড ছোট হলেও যাদের বিবেচনায় রাখা হচ্ছে আগামী এক বছর মাথায় রেখে তাদের সংখ্যাটা অবশ্য বেশিই। করোনা পরিস্থিতির কারণে বর্তমান সময়ে বিকল্প খেলোয়াড় প্রতিনিয়ত প্রস্তুত রাখার পরিকল্পনাই করা হচ্ছে।

হাবিবুল বাশার এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি একটা বড় গ্রুপ নিয়ে চিন্তা করতে। এখন যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি তাতে এক বছরের জন্য যে স্কোয়াড আমরা চিন্তা করি সেটা কিন্তু বড় করতে হবে। ১৫-২০ জন নয়, আপনাকে ২৫-৩০ জন নিয়ে ভাবতে হতে পারে। কারণ আপনি এখন দেখছেন কোয়ারেন্টাইন জটিলতা থাকে। সেক্ষেত্রে স্কোয়াডটা বড় করতে হয়। কেউ ইনজুরড হলে তার ফিরে আসতে সময় লাগছে।’

এদিকে শ্রীলঙ্কা সফরের দুইটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে ক্যান্ডিতে। তবে বোলিং আক্রমণে পেস কিংবা স্পিন কোন নির্দিষ্ট বিভাগকে আলাদা প্রাধান্য দিচ্ছে না নির্বাচকরা। পরিস্থিতি সামাল দিতেই দুই বিভাগেই পর্যাপ্ত বিকল্প নিয়ে লঙ্কান দ্বীপে উড়াল দিবে টাইগাররা।

নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বাশার জানান, ‘আমি ক্যান্ডির উইকেটে খেলেছি। সাধারণত ক্যান্ডির উইকেটের সাথে কলম্বোর উইকেটে কিছুটা পার্থক্য থাকে। স্পোর্টিং উইকেট কিন্তু ক্যান্ডিতে হয়। কিন্তু আমরা স্পিন-পেস দুইটা বিভাগই নিয়ে যাবো। গেলেইতো বুঝতে পারবো কন্ডিশন কেমন হবে। হাতে বিকল্প থাকবে ম্যাচের আগে পরিস্থিতি দেখে একাদশ সাজানো হবে। তবে স্পিন পেস দুটোই নিয়ে যাবো।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সাকিব-মাশরাফি ইস্যু নিয়ে ভাবতে পারেননি বাশাররা

Read Next

প্রস্তুতি ম্যাচে নিষ্প্রভ সাকিব আল হাসান

Total
1
Share