ডি ককের ‘ফেইক ফিল্ডিং’, এমসিসি যা বলছে

ফখর জামানের রেকর্ড গড়া ইনিংস, তবুও হারল পাকিস্তান

গতকাল (৪ এপ্রিল) জোহানেসবার্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৯৩ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন পাকিস্তান ওপেনার ফখর জামান। ৭ রানের জন্য ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি মিস করে ফিরেছেন। তবে সব ছাপিয়ে আলোচনায় কুইন্টন ডি ককের আচরণে বিভ্রান্ত হয়ে ফখর জামানের রান আউট হওয়া। এ নিয়ে চলছে বেশ আলোচনা সমালোচনা। এমসিসি (মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব) জানিয়েছে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পুরো ক্ষমতা আম্পায়ারের আছে।

ঘটনা ইনিংসের শেষ ওভারে, লুঙ্গি এনগিডির করা প্রথম বলে লং অফে পাঠিয়ে দুই রানের চেষ্টা ফখর জামানের। দলের জয়ের জন্য প্রয়োজন ৬ বলে ৩১, খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তুলে একাই লড়াই করা ফখর ব্যাট করছিলেন ১৯২ রানে। তবে দুই রান নিতে গিয়ে এইডেন মার্করামের করা থ্রো সরাসরি আঘাত হানে উইকেটে।

তার আগেই প্রান্ত বদলের সময় উইকেট রক্ষক কুইন্টন ডি কক এমন ইশারা দিলেন যেন বল ফখরের বিপরীত প্রান্তে ছোঁড়া হচ্ছে। যাতে বিভ্রান্ত হয়ে ফখর নিজের প্রান্তে দৌড়ের গতি কমিয়ে অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যানের দিকে নজর দিয়েছেন। তাতেই নিজের প্রান্তের উইকেট তার পৌঁছানোর আগেই ভেঙে দিয়েছে মার্করামের সরাসরি থ্রো।

১৭ রানে হারা ম্যাচে পাকিস্তানের আক্ষেপ ফখর জামানের এই আউটও। নিয়ম ভঙ্গ করে ব্যাটসম্যানের সাথে প্রতারণা করেছে ডি কক এমনটাই ধারণা অনেকের। এ নিয়ে বিস্তর সমালোচনাও হচ্ছে এই প্রোটিয়া উইকেট রক্ষকের। ম্যাচ শেষে দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা অবশ্য ডি কক প্রতারণা করেছে এমনটা বিশ্বাস করেন না বলে জানান।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

এদিকে এমসিসি আইন ৪১.৫ এর ৪.১.৫.১ অনুসারে, ‘কোন শব্দ বা কার্যকলাপ কিংবা স্ট্রাইকার বলটি পাওয়ার পর ব্যাটসম্যানকে বাধা দেওয়া বা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা অন্যায়।’

অন্যদিকে ৪.১.৫.২ অনুসারে, ‘কোনও বিড়ম্বনা, প্রতারণা বা বাধা ইচ্ছাকৃত কিনা তা আম্পায়ারদের একজন সিদ্ধান্ত নিবে।’

৪.১.৫.৩ বলছে, ‘যদি কোনও আম্পায়ার মনে করেন ফিল্ডার ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে, প্রতারণার চেষ্টা করেছে তবে তৎক্ষণাৎ সে বলটি ডেড বলে ঘোষণা করবে এবং অন্য আম্পায়ারকে বল ডেড ঘোষোণার কারণ জানাবেন।’

এদিকে এমন বিতর্কিত ঘটনার পর এমসিসি নিজেদের টুইটার হ্যান্ডেলে দোষ সাব্যস্ত হলে ফিল্ডিং দলের সাজা সম্পর্কেও অবিহিত করেছে।

এমসিসি বলছে, ‘আইনটি স্পষ্ট, ব্যাটসম্যানকে সত্যিকার অর্থে প্রতারিত হওয়ার চেয়ে ব্যাটসম্যানকে প্রতারিত করার চেষ্টা হিসেবে। এটা আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। যদি এখানে প্রতারণার চেষ্টা থেকে থাকে তাহলে এটা নট আউট, উপরন্তু ৫ রান পেনাল্টি হবে সাথে দৌড়ে নেওয়া দুই রান যুক্ত হবে এবং ব্যাটসম্যানরা সিদ্ধান্ত নিবে পরের বলটি কে মোকাবেলা করবে।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

ফখর জামানের রেকর্ড গড়া ইনিংস, তবুও হারল পাকিস্তান

Read Next

আইপিএলে সেঞ্চুরি ও পাঁচ উইকেটের রেকর্ড গড়তে চান সাকিব

Total
1
Share