ডি কক, বাবর আজমদের পথে হাঁটা বিজয়ের কেন অবনমন?

ডি কক, বাবর আজমদের পথে হাঁটা বিজয়ের কেন অবনমন?

জো রুট, কুইন্টন ডি কক, বাবর আজম, এনামুল হক বিজয়রা বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে একই সময়ে খেলেছেন। তবে সময়ের পালা বদলে বিজয় ছাড়া বাকি তিনজন বর্তমানে বিশ্ব ক্রিকেটেরই অন্যতম তারকা। অথচ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টাইগার বিজয়ও প্রায় একইভাবে শুরু করেছিলেন। এতদিন পর এসে নিজেকে বাবর, রুট, ডি ককদের কাতারে দেখতে না পারা বিজয় উত্তর খোঁজার চেষ্টায়। যদিও পর্যাপ্ত সুযোগ ও স্বাধীনভাবে খেলতে না পারার আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন আরও একবার।

ক্যারিয়ার প্রথম ২০ ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকান কুইন্টন ডি ককের সেঞ্চুরি পাঁচটি, পাকিস্তানের বাবর আজমের তিনটি, ইংল্যান্ডের জো রুটের ছিলনা একটিও। অন্যদিকে এনামুল হক বিজয়ের সমান ম্যাচ পর সেঞ্চুরি ছিল তিনটি।

২০১৩ সালে অভিষেক হওয়া ডি কক ১২২ ম্যাচে বর্তমানে ১৫ ওয়ানডে সেঞ্চুরির মালিক। ২০১৫ সালে ওয়ানডে অভিষেক হওয়া বাবর আজমের নামের পাশে ৭৮ ম্যাচে ১৩ সেঞ্চুরি। ২০১৩ সালে ওয়ানডে অভিষেকের পর বর্তমানে জো রুটের সেঞ্চুরি ১৪৯ ম্যাচে ১৬ টি। অথচ ২০১২ সালে অভিষেক হওয়া এনামুল হক বিজয় ৩৮ ম্যাচে ৩ সেঞ্চুরিতে আঁটকে আছেন।

অন্যদের সাথে ম্যাচের ব্যবধানটা স্পষ্ট করে একটা সময় দলে অনিয়মিত ও এক বাতিলের খাতায় পড়ে গেছেন বিজয়। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে চোট পেয়ে দেশে ফেরার পরই এলোমেলো তার ক্যারিয়ার। পরবর্তী ৬ বছরে ম্যাচ খেলেছেন ৮ টি। যার বেশিরভাগেই সুযোগ মিলেছে অধারাবাহিকভাবে। এই ৮ ম্যাচে ৩০ পেরোনো ইনিংস কেবল একটি। ৩৫ এর বেশি গড় নেমে এসেছে ৩০ এ।

ঘরোয়া লিগে রানের বন্যা বইয়ে দেওয়া ২৮ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান নিজেই অবশ্য উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছেন কেন রুট, বাবরদের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছেন।

গতকাল (৩ এপ্রিল) সংবাদ মাধ্যমের সাথে আলাপে বিজয় বলেন, ‘দেখুন অনেকদিন পর আসলাম (২০১৫ বিশ্বকাপের চোট কাটিয়ে)। দেশ-জাতি নির্বিশেষে ভালোবাসার মানুষ, পছন্দের মানুষ শুভাকাঙ্ক্ষী সবাই কিন্তু বলছে, বিজয় নামছে, বিজয় বিজয়ীর বেশে ফিরবে এইটা-ঐটা। আমি ৭ ম্যাচে দুইটা (মূলত একটা) ৩০ রান করছি আর দুই-তিনটা ম্যাচের খারাপ খেলে দল থেকে বাদ পরছি। এখন আমি যদি জাতীয় দলে যাই, তাহলে আমি কি চিন্তা করবো?’

‘আমি কোনরকমে ৪০ রান করি, যাতে আমি দলে থাকি। কিন্তু আমি যদি মন খুলে খেলতে পারি। দুই-তিন ম্যাচ খারাপ খেলছি, আমি নামবো প্রতিদিন দেশের জন্য। প্রতিদিন মন খুলে খেলবো। ভালো খেলি-খারাপ খেলি সেটা পরের বিষয়। দল আমাকে সাপোর্ট করবে। ব্যাপারটা এরকম যদি হয়, জানিনা কি হবে। আমি কারও দোষারোপ করছি না।’

চোট পরবর্তী ক্যারিয়ারে নিজের মন খুলে খেলতে না পারার আক্ষেপ থাকা বিজয় যোগ করেন, ‘তবে ব্যাপারটা যদি এরকম হয় তাহলে আমার খেলার ধরণ অন্য রকম হবে। মুশফিক ভাই জানেন যে, সে ড্রপ হবে না, সে কন্টিনিউয়াসলি খেলবে, ওনার খেলার স্ট্রোকই অন্যরকম আসবে যেকোন ওভারে হুট করে ফ্লিক খেলে দিবে, কোন ব্যাপার হবে না। আমি অলরেডি দুই ম্যাচ রান করিনি, আমি পরের ম্যাচ খারাপ করলে দলে থাকবো কি থাকবো না- আমার তো হাফ ভলি বলেও টাইমিং করতে কষ্ট লাগতে পারে, টেনশন মাথায় কাজ করতেই পারে।’

বাংলাদেশের জার্সিতে ২০১৯ সালে সর্বশেষ খেলা এই ব্যাটসম্যান বাবর আজম, জো রুট, ডি ককদের উদাহরণ হিসেবে টেনে বলেন, ‘বাবর আজমকে দেখেন আমার সাথেরকার খেলোয়াড় এখন বিশ্ব ক্রিকেট লিড করছে, ডি কক আমার সাথের খেলোয়াড় লিড করছে। রুট আমার সাথের খেলোয়াড় লিড করছে। আমারও তো কষ্ট লাগে, আমি ওদের মতো হতে পারছি না কেন? আমি তো ওরকম লেভেলেই যাচ্ছিলাম, কেন আজ আমি নিচে আসলাম?’

‘আমার ২১ ম্যাচে তিনটা একশ হয়ে গিয়েছিল, তাহলে আমি তো ওদের কাছাকাছি যেতে পারতাম, আমি যদি কন্টিনিউ করতাম তাহলে ১৫ টা সেঞ্চুরি থাকতেই পারতো। আমি তো আশা করতেই পারি, আমি বলছিনা শিওর থাকতো। ২০১৫ সাল থেকে শুরু করে আমি যদি কন্টিনিউ খেলতাম, যদি প্রতি বছর ১৫ টা করেও ওয়ানডে খেলতাম তাহলেও এখন আমার ওয়ানডে খেলা হতো ১০০ টি। ২১ ম্যাচে যদি তিনটা হয়, তাহলে আপনি ১০০ ম্যাচে ১০ টা ১৫ টা ধরতেই পারেন।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

২০২৭ বিশ্বকাপ থেকে খেলবে ১৪ দল; পক্ষের জোরালো সমর্থন

Read Next

করোনা টেস্টে পজিটিভ দেবদূত পাডিকাল

Total
3
Share