২০২৭ বিশ্বকাপ থেকে খেলবে ১৪ দল; পক্ষের জোরালো সমর্থন

c97 4

বাকি সব খেলাই যখন বিশ্বকাপে তাদের দল বাড়াচ্ছে, তখন ক্রিকেটে কেন সেটি কমে যাচ্ছে! এটা খুবই হতাশাজনক ব্যাপার পুরো ক্রিকেট বিশ্বের জন্যেই। ক্রিকেটকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ রাখতে আইসিসি চায় কম দল; তবে ক্রিকেটের বিশ্বায়ন ঘটাতে হলে বিশ্বকাপে দল বাড়ানোর বিকল্প নেই। সহযোগী দেশগুলোকেও সঙ্গে রাখতে হবে বিশ্বকাপের মতো বড় আসর গুলোতে। ক্রিকেটকে বৈশ্বিক করতে হলে যত বেশি সম্ভব মানুষকে এখানে যুক্ত করতে হবে। ২০২৭ সাল থেকে ১৪টি দেশ নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বকাপ সম্প্রসারণের জন্য সমর্থন বাড়ছে।

এই মাসের শেষে প্রধান নির্বাহী কমিটির বৈঠকে  দল বাড়ানোর পক্ষের সংখ্যা নিয়ে আলোচনা করা হবে। ওয়ানডে বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা বাড়ানোর পক্ষে সমর্থনের উত্থান এই বিশ্বাসের দ্বারা পরিচালিত হয় যে উদীয়মান এই খেলায় মান বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক অনুষ্ঠান বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তুলবে।

একটি স্পোর্টসের সবচেয়ে সম্মানজনক স্থান হচ্ছে, সেই স্পোর্টসের সবচেয়ে বড় মঞ্চটি। কোন একটি দেশ যখন, সেই জায়গাটিতে নিজেদের নামফলক এঁকে দিতে পারে, তখন সেটি সেই দল বা সেই দেশের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি হয়ে দাঁড়ায়। সদস্য দেশের মধ্যে এ রকম প্রচুর দেশ আছে, যাদের বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ ঘটে না। তাদের কথা ভেবেই এবার কথা বলেছে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের প্রধান নির্বাহী ওয়ারেন ডিউট্রোম। উদীয়মান দেশগুলিতে খেলাধুলা বাড়ানোর জন্য বিশ্বকাপের সম্প্রসারণ জরুরি ছিল, তা নিশ্চিত করে যে আয়ারল্যান্ড পরবর্তী চক্রের পরিবর্তনের জন্য চেষ্টা করছে।

তিনি বলেছেন,

‘ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড এখনও বিশ্বাস করে যে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে ১০টি দল খুবই কম। আমরা মনে করি এটি সেই উপাদানগুলির মধ্যে একটি যা গেমের আসল সমস্যা। সফলভাবে যুক্তি দিতে পারেন যে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে পারফরম্যান্সের ফলস্বরূপ শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে, বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তান পুরোপুরি সদস্য দেশ হয়ে উঠেছে।’

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান আর্ল এডিংস সম্প্রতি বলেছিলেন, ‘আমাদের ১০-২০টি শক্তিশালী টেস্ট খেলুড়ে দেশ দরকার।’

এবং ডিউট্রোম বিশ্বাস করেন যে অন্যান্য ফরম্যাটে বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতা বাড়াতে ৫০ ওভারের বেশি বিশ্বকাপের প্রয়োজন।

‘আমরা বিশ্বাস করি যে ৫০ ওভারের উন্নত দলগুলিও টেস্টের পরিবেশে উন্নতি করবে, এবং আমরা কেবল এটিই ক্রিকেট যুক্তি বলে মনে করি।’

সুতরাং ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ইভেন্ট গুলো সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আরও দেশকে বৈশ্বিক ইভেন্ট গুলোতে প্রতিযোগিতার সুযোগ করে দিতে হবে আইসিসিকে। আর তাহলেই ক্রিকেট নিয়ে আবেগটা আরও বাড়বে। অনেক ছোট ছোট দল নিজেদের সেরাটা দিতে ঝাঁপাবে।

২০০৭ বিশ্বকাপে ছিল ১৬ দল। সেটি ছিল বিশ্বকাপের নবম আসর, ১৬ দল, ৫১ ম্যাচ নিয়ে রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে আসর বসে ওয়েস্ট ইন্ডিজে। এরপর ২০১১ ও ২০১৫ বিশ্বকাপে দলের সংখ্যা কমে নেমে আসে ১৪ তে।

সবশেষ ২০১৯ ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে আরও কমে দলের সংখ্যা ছিল ১০টি। আর মন ভেঙেছে সহযোগী দেশগুলোর তারকাদের। এটিই হচ্ছে প্রথম বিশ্বকাপ যেখানে টেস্ট মর্যাদার অধিকারী হয়েও দুটো দেশ খেলতে পারেনি, আয়ারল্যান্ড এবং জিম্বাবুয়ে। ১৯৮৩ সালের পর প্রথম জিম্বাবুয়ে কোন বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অনুপস্থিত ছিল।

২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর ২০২৭ সালে পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজিত হবে। ভারতে অনুষ্ঠেয় ২০২৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে অংশ নেবে ১০টি দল। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপের জন্য মোট ৩২টি দলের মধ্যে বাছাই হবে। আর এই বাছাই পর্ব হবে ছয়টি বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে।

আয়ারল্যান্ড দলটি ২০০৭ ও ২০১৫ বিশ্বকাপে দারুণ ভাবে খেলেছে। ২০০৭ বিশ্বকাপ, সেবারই প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলা আয়ারল্যান্ড তাক লাগিয়ে দিয়েছিল গোটা ক্রিকেট বিশ্বকে। বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে পাকিস্তানকে হারিয়ে অঘটনের জন্ম দেয় আয়ারল্যান্ড। স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গী হয়ে সুপার এইট পর্বে উন্নীত হয় আইরিশরা। ২০১১ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে হারানোর গৌরব অর্জন করেছিল দেশটি। ২০১৫ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও পরাজিত করেছিলো তারা। তবে ২০১৯ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে হেরে ছিটক পড়ে আয়ারল্যান্ড।

ছোট দলগুলোকে উপরের দিকে উঠে আসতে উৎসাহ দিতে হবে। বিশ্বকাপ হচ্ছে সবচেয়ে বড় আয়োজন। এখানে সবাইকে খেলতে দেওয়া উচিত। আর প্রায় সব বিশ্বকাপেই তো ছোট দলগুলো বড়দেরকে চমকে দিয়েছে। এটা তারা নিয়মিতই করতে পারবে যদি তাদের প্রতিভা প্রকাশের প্লাটফর্ম দেওয়া হয়।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

রিঙ্কু সিংয়ের সর্বনাশে গুরকিরাতের পৌষ মাস

Read Next

ডি কক, বাবর আজমদের পথে হাঁটা বিজয়ের কেন অবনমন?

Total
48
Share