কারেনের লড়াকু ইনিংস, শেষ হাসি ভারতের

লড়াকু ইনিংস শেষ হাসি ভারতের

টি-টোয়েন্টির পর এবার ওয়ানডে সিরিজেও জিতল ভারত। অঘোষিত ফাইনালে ভারতের করা ৩২৯ টপকাতে যেয়ে ৩২২ তুলতে পারে ইংল্যান্ড; ৭ রানের জয় কোহলির দলের। তবে অপরাজিত ৯৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলা স্যাম কারেন একা হাতে লড়াই করেছেন ম্যাচের শেষ বল পর্যন্ত। ম্যাচ সেরার পুরষ্কার হাতে ওঠলেও দিন শেষে কারেনের আক্ষেপ হয়ে থাকবে শুধু জয়টায়। এমন রোমাঞ্চকর ম্যাচে জিতে সিরিজ জয় ভারতের।

পুনেতে সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতেছিল ভারত ৬৬ রানে। দ্বিতীয় ম্যাচে রানের পাহাড় গড়েও জয় পায়নি কোহলির দল। বেয়ারস্টো আর স্টোকসের দাপটে জয় ছিনিয়ে সিরিজে সমতায় ফেরে ইংলিশরা। ১-১ এ সমতায় থাকা সিরিজে এই ম্যাচ উভয় দলের কাছেই কার্যত মরণ-বাঁচনের লড়াই। তবে শেষ হাসি ভারতের। দুর্দান্ত লড়াই করলেও, ইংল্যান্ডকে জেতাতে পারলেন না স্যাম কারেন। তিনি ৮৩ বলে ৯৫ রান করে অপরাজিত থাকেন। এমন ইনিংসের সুবাদে হয়েছেন ম্যান অফ দ্য ম্যাচ।

এর আগে টসে হেরে ভারত এদিন প্ৰথমে ব্যাট করতে নেমেছিল। আর শুরুতেই দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মার ব্যাট থেকে শতরানের পার্টনারশিপ। যে গতিতে রান তোলা শুরু করেন তাতেই ইঙ্গিত আসে রানের সংখ্যা দাঁড়াবে পাহাড়সমতে। তবে আচমকাই ছন্দপতন। মাত্র ২ ওভারের ব্যবধানে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে জোরালো ধাক্কা দেন ইংলিশ স্পিনার আদিল রশিদ।

দলীয় ১৫তম ওভারে ভারতের ১০৩ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙ্গে রোহিতের বিদায়ে। ৩৭ রানে রোহিতকে ফিরিয়ে নিজের করা পরের ওভারেই ধাওয়ানকে ৬৭ রানে থামিয়ে দেন আদিল রশিদ। এরপর দ্রুতই মইন আলি ফেরালেন ভিরাট কোহলিকে। মাত্র ৭ রান করে বোল্ড ভারতের অধিনায়ক। নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারায় ভারতের। ৭ রান করেই লিভিংস্টোনের বলে ক্যাচ তুলে আউট হন লোকেশ রাহুল। ১৫৭ রানে ৪ উইকেট নেই ভারতের।

এরপর উইকেটে দাঁড়িয়ে ইংলিশ বোলারদের পাত্তা না দিয়ে রিশাব পান্ট ও হার্দিক পান্ডিয়া নিজেদের স্বাভাবিক খেলা বজায় রাখলেন। ৯৯ রানের পার্টনারশিপ হল এই দুজনের। তবে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকা রিশাব ৭৮ করে ফিরলেন শেষপর্যন্ত। পাঁচটি বাউন্ডারি এবং চারটি ওভার বাউন্ডারি হাঁকালেন রিশাব তাঁর দুর্দান্ত এই ইনিংসে। ৬৪ করে বেন স্টোকসের বলে বোল্ড হলেন হার্দিক পান্ডিয়া। রিশাবের সমানসংখ্যক বাউন্ডারি, ওভার বাউন্ডারি তাঁর দখলেও।

এরপর ক্রুনাল পান্ডিয়ার ২৫ এবং শার্দুল ঠাকুরের ৩০ রানের ইনিংসে ভারতের ৩০০ পেরোনো নিশ্চিত হয়। ৪৮.২ ওভারে ৩২৯ রানে অলআউট হয়ে গেল ভারত।

বল হাতে ইংল্যান্ডের হয়ে মার্ক উড এবং আদিল রশিদ দুজনে যথাক্রমে ৩ ও ২টি করে উইকেট নেন। একটি করে উইকেট নেন স্যাম কারেন, রিস টপলি, বেন স্টোকস, মইন আলি ও লিয়াম লিভিংস্টোন।

ইংল্যান্ডের তৃতীয় ম্যাচে জয়ের জন্য বেন স্টোকসদের ৩৩০ রান প্রয়োজন। শুরুতেই ইংল্যান্ডের জোড়া উইকেট তুলে নিল ভারতীয় দল। দুই ওপেনার জেসন রয় (১৪) ও জনি বেয়ারস্টোকে (১) ফিরিয়ে দিলেন ভুবনেশ্বর কুমার। বেন স্টোকসকে ফেরালেন থাঙ্গারাসু নটরাজন। ৩৫ রান করেন স্টোকস। ৬৮ রানে ৩ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।

এরপর জস বাটলারকে ফেরালেন শার্দুল ঠাকুর। ১৫ রান করেন বাটলার। এরপর লিভিংস্টোন ৩৬ ও মইন আলি আলি ২৯ রানের ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন।

কিন্তু ভিরাট কোহলির অবিশ্বাস্য ক্যাচে ইংল্যান্ডের অষ্টম উইকেটের জুটি ভেঙে যায়। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে দুর্দান্ত ক্যাচ নিলেন কোহলি। ৫৭ রান যোগ করেছিলেন রশিদ-কারেন। রশিদ যখন ১৯ রানে আউট হন, তখন ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল ৮ উইকেটে ২৫৭ রান। মার্ক উডকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন স্যাম কারেন।

শেষ ৬ বলে ১৪ রান প্রয়োজন ছিল ইংল্যান্ডের। ভারতের দরকার দুটি উইকেট। প্রথম বলেই দুই নিতে গিয়ে রান আউট’ হলেন মার্ক উড। কারেনকে পরাস্থ করে থাঙ্গারাসু নটরাজন চাপের মুখে দুর্দান্ত বল করলেন। ৯ উইকেট হারিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩২২ এর বেশি করতে পারেনি ইংলিশরা। শেষ পর্যন্ত ভারত জিতল ৭ রানে। স্যাম কারেন অপরাজিত রয়ে গেলেন ৯৬ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

ভারতঃ ৩২৯/১০ (৪৮.২ ওভার) রোহিত ৩৭, ধাওয়ান ৬৭, কোহলি ৭, রাহুল ৭, পান্ট ৭৮, হার্দিক ৬৪, ক্রুনাল ২৫, শারদুল ৩০; উড ৩/৩৪, রশিদ ২/৮১, কারেন ১/৪৩, টপলি ১/৬৬, স্টোকস ১/৪৪, মইন ১/৩৯, লিয়াম লিভিংস্টোন ১/২০

ইংল্যান্ডঃ ৩২২/৯ (৫০ ওভার) রয় ১৪, বেয়ারস্টো ১, স্টোকস ৩৫, মালান ৫০, বাটলার ১৫, লিভিংস্টোন ৩৬, মইন ২৯, কারেন ৯৬*, রশিদ ১৯, উড ১৪; শারদুল ৪/৬৭, ভুবনেশ্বর ৩/৪২, নটরাজন ১/৭৩

ফলাফলঃ ভারত ৭ রানে জয়ী

সিরিজঃ ভারত ২-১ ব্যবধানে জয়ী

ম্যাচ সেরাঃ স্যাম কারেন (ইংল্যান্ড)

সিরিজ সেরাঃ জনি বেয়ারস্টো (ইংল্যান্ড)

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

আগে না দেখা বাংলাদেশিরা নেপিয়ার, ইডেন পার্কে চ্যালেঞ্জ হতে পারে

Read Next

ম্যাচ সেরা ও সিরিজ সেরার পুরষ্কারে কোহলির অসন্তোষ

Total
8
Share