টি-টোয়েন্টিতেও একই হাল বাংলাদেশের

টি-টোয়েন্টিতেও একই হাল বাংলাদেশের

ওয়ানডে সিরিজের পর টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেও বাংলাদেশের সঙ্গী পরাজয়। হ্যামিল্টনের সেডন পার্কে ডেভন কনওয়ের অপরাজিত ৯২ রানের ইনিংসের সাথে অভিষিক্ত উইল ইয়াংয়ের ফিফটিতে ৩ উইকেটে ২১০ রানের বড় সংগ্রহ নিউজিল্যান্ডের। বল হাতে ইশ সোধি, লকি ফার্গুসনের তোপে ৬৬ রানের হার টাইগারদের। সেডন পার্কের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের দিনে আফিফ হোসেন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনরা কেবল পরাজয়ের ব্যবধানটা কমাতে পেরেছে।

প্রায় ১৫ বছর  পর সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমকে ছাড়া খেলতে নামলো বাংলাদেশ। ম্যাচের হিসেবে ৪২৭ ম্যাচ পর এমন কিছু ঘটলো কাঁধের চোটের কারণে মুশফিকের ছিটকে যাওয়াতে। আগেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে ছুটি নিয়েছিলেন তামিম, সন্তান সম্ভাবা স্ত্রীর পাশে থাকতে ছুটি নিয়েছেন সাকিব। এদিন ১০০ তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে নামেন কিউই ওপেনার মার্টিন গাপটিল।

২১১ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৪ উইকেট, ৮ ওভারে ৫৯ রান তুলতেই নেই বাংলাদেশের ৬ উইকেট। যেখানে ৪ জনই ছুঁতে পারেনি দুই অঙ্ক। টিম সাউদির প্রথম ওভারেই দারুণ শুরু বাঁহাতি ওপেনার নাইম শেখের। ইনসুইং লেংথের প্রথম বলেই এজ হয়ে থার্ড ম্যান ও পয়েন্টের মাঝ দিয়ে পেয়েছেন চারের দেখা। তৃতীয় বলে ফুলটসকে অবশ্য দারুণভাবে কাট করে পয়েন্টে বানিয়েছেন চার। তবে সিরিজের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠা লিটন দাস মাত্র ৪ রান করে তৃতীয় ওভারের প্রথম বলে ফিরে গেলে ভাঙে ২০ রানের উদ্বোধনী জুটি। সাউদির বলে ক্যাচ দিয়েছেন ইশ সোধিকে।

লিটনের বিদায়কে এক পাশে রেখে সৌম্য সরকারকে নিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা নাইমের। কিন্তু পঞ্চম ওভারে আক্রমণে আসা লকি ফার্গুসনের প্রথম বলেই ফিরতে হয়েছে এই বাঁহাতিকে। ১৮ বলে ৫ চারে খেলেছেন ২৭ রানের ইনিংস। ইশ সোধির দারুণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা প্রথম ওভারে ফিরেছেন সৌম্য ও মোহাম্মদ মিঠুন। সিমে পড়া সোধির চতুর্থ বলে সোজা ব্যাটে খেলতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন সৌম্য (৫)। এক বলের ব্যবধানে বোল্ড হন মিঠুনও (৪)।

সোধির পরের ওভারেই পরপর দুই বলে ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১১) ও শেখ মেহেদী হাসান (০)। চতুর্থ বলে অফ স্টাম্পের বাইরের বল স্টাম্পে টেনে এনে বোল্ড রিয়াদ, গুগলি বুঝতে না পেরে অনেকটা নিরীহ প্রকৃতির পরের বল ডিফেন্স করেও বোল্ড হন শেখ মেহেদী। ফার্গুসনের ৯ম ওভারের প্রথম বলে গাপটিল আফিফের ক্যাচ মিস না করলে ৫৯ রানেই ৭ উইকেট হারাতো বাংলাদেশ।

সেখান থেকে ৬৩ রানের জুটিতে দলের পরাজয়ের ব্যবধানটা কমায় আফিফ-মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন জুটি। ৩৩ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৪৫ রান করে ফার্গুসনের দ্বিতীয় শিকার আফিফ। অপরাজিত থাকা সাইফউদ্দিনের ব্যাট থেকে আসে ৩৪ বলে ৩৪। ৮ উইকেত হারানো বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৪৪। ২৮ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের সেরা বোলার সোধি। ফার্গুসনের শিকার দুইটি, একটি করে নেন সাউদি ও হামিশ বেনেট।

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া নিউজিল্যান্ড ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায়। অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদের বলে ওভারের শেষ বলে বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাক দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু অভিষিক্ত ফিন অ্যালেনের। অ্যালেনকে হারালেও ডেভন কনওয়ে ও মার্টিন গাপটিল পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে তুলে ফেলেন ৪৮ রান।

২৭ বলে ৩৫ রান করে গাপটিল নাসুমের দ্বিতীয় শিকার হলে ভাঙে দুজনের ৫২ রানের জুটি। বাংলাদেশের সাফল্যের গল্পটা ওখানে আঁটকে ছিল আরেক অভিষিক্ত উইল ইয়াংয়ের সাথে কনওয়ের ১০৫ রানের জুটিতে। জুটিতে দুজনের খরচ হয়েছে মাত্র ৬০ বল। দুজনেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা।

১৫ তম ওভারের পঞ্চম বলে নাসুমকে ডিপ স্কয়ার লেগে ছক্কা মেরে ৩৮ বলে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন কনওয়ে। যদিও ডিপ স্কয়ার লেগে বাউন্ডারি সীমানায় বল তালুবন্দী করলেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারায় শরিফুল ইসলামের পা স্পর্শ বাউন্ডারি লাইনে। ফলে অভিষেকে আরও একটি উইকেট থেকে বঞ্চিত হন নাসুম।

১৭ তম ওভারের প্রথম বলে শেখ মেহেদীকে চার হাঁকিয়ে অভিষেকেই ২৮ বলে ফিফটি তুলে নেন ইয়াংও। ইয়াং অবশ্য ফিরেছেন ঐ ওভারেই, ডিপ মিড উইকেটে তার ক্যাচ নেন আফিফ। ৩০ বলে ২ চার ৪ ছক্কার ইনিংসটি থামে ৫৩ রানে।

তার বিদায়ের পর বাংলাদেশি বোলারদের তুলোধুনো করার কাজটা চালিয়ে যান কনওয়ে ও গ্লেন ফিলিপস। ওয়ানডে সিরিজের মত এই ম্যাচেও বেশ বাজে ফিল্ডিং প্রদর্শন করে টাইগাররা। কনওয়ে-ফিলিপস ১৯ বলেই জুটির ফিফটি ছুঁয়েছেন। দুজনে অবিচ্ছেদ্য ছিলেন ৫২ রানের জুটিতে। কনওয়ের ব্যাট থেকে আসে ৫২ বলে ১১ চার ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৯২ রান। ১০ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ফিলিপস। টাইগারদের হয়ে ৩০ রানে ২ উইকেট নেওয়া নাসুম আহমেদই সেরা বোলার।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

নিউজিল্যান্ড ২১০/৩ (২০), গাপটিল ৩৫, অ্যালেন ০, কনওয়ে ৯২*, ইয়াং ৫৩, ফিলিপস ২৪*; নাসুম ৪-০-৩০-২, মেহেদী ৪-০-৩৭-১

বাংলাদেশ ১৪৪/৮ (২০), নাইম ২৭, লিটন ৪, সৌম্য ৫, মিঠুন ৪, মাহমুদউল্লাহ ১১, আফিফ ৪৫, মেহেদী ০, সাইফউদ্দিন ৩৪*, শরিফুল ৫, নাসুম ০*; সাউদি ৪-০-৩৪-১, বেনেট ৪-০-২০-১, ফার্গুসন ৪-০-২৫-২, সোধি ৪-০-২৮-৪

ফলাফলঃ নিউজিল্যান্ড ৬৬ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ ডেভন কনওয়ে (নিউজিল্যান্ড)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

নাসুমের দারুণ অভিষেকের দিনে নিউজিল্যান্ডের রান পাহাড়

Read Next

পাকিস্তান বলছে ‘হবে’, ভারত বলছে ‘ভিত্তিহীন’

Total
4
Share