নাসুমের দারুণ অভিষেকের দিনে নিউজিল্যান্ডের রান পাহাড়

নাসুমের দারুণ অভিষেকের দিনে নিউজিল্যান্ডের রান পাহাড়

ওয়ানডে সিরিজের তিক্ত অভিজ্ঞতা শেষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও বড় রানের নিচে চাপা পড়লো বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই উইকেটের দেখা পাওয়া বাংলাদেশ চেপে ধরতে পারেনি কিউইদের। ডেভন কনওয়ের ৯২ রানের ঝড়ো ইনিংসের সাথে উইল ইয়াংয়ের অভিষেক ম্যাচের ফিফটিতে ৩ উইকেটে ২১০ রানের বড় সংগ্রহ স্বাগতিকদের। যা সেডন পার্কের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহ, বাংলাদেশকে জিততে হবে রান তাড়ার রেকর্ড করে।

প্রায় ১৫ বছর পর সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমকে ছাড়া খেলতে নামলো বাংলাদেশ। ম্যাচের হিসেবে ৪২৭ ম্যাচ পর এমন কিছু ঘটলো কাঁধের চোটের কারণে মুশফিকের ছিটকে যাওয়াতে। আগেই টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকে ছুটি নিয়েছিলেন তামিম, সন্তান সম্ভাবা স্ত্রীর পাশে থাকতে ছুটি নিয়েছেন সাকিব।

টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া নিউজিল্যান্ড ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায়। অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদের বলে ওভারের শেষ বলে বোল্ড হয়ে খালি হাতে ফিরতে হয় অভিষিক্ত কিউই ওপেনার ফিন অ্যালেনকে। ক্যারিয়ার শুরু হল গোল্ডেন ডাক দিয়ে।

অ্যালেনকে হারালেও ডেভন কনওয়ে ও মার্টিন গাপটিল পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে তুলে ফেলেন ৪৮ রান। ২৭ বলে ৩৫ রান করে গাপটিল নাসুমের দ্বিতীয় শিকার হলে ভাঙে দুজনের ৫২ রানের জুটি। বাংলাদেশের সাফল্যের গল্পটা ওখানে আঁটকে ছিল আরেক অভিষিক্ত উইল ইয়াংয়ের সাথে কনওয়ের ১০৫ রানের জুটিতে। জুটিতে দুজনের খরচ হয়েছে মাত্র ৬০ বল। দুজনেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা।

১৫ তম ওভারের পঞ্চম বলে নাসুমকে ডিপ স্কয়ার লেগে ছক্কা মেরে ৩৮ বলে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন কনওয়ে। যদিও ডিপ স্কয়ার লেগে বাউন্ডারি সীমানায় বল তালুবন্দী করলেও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পারায় শরিফুল ইসলামের পা স্পর্শ বাউন্ডারি লাইনে। ফলে অভিষেকে আরও একটি উইকেট থেকে বঞ্চিত হন নাসুম।

১৭ তম ওভারের প্রথম বলে শেখ মেহেদীকে চার হাঁকিয়ে অভিষেকেই ২৮ বলে ফিফটী তুলে নেন উইল ইয়াংও। ইয়াং অবশ্য ফিরেছেন ঐ ওভারেই, ডিপ মিড উইকেটে তার ক্যাচ নেন আফিফ। ৩০ বলে ২ চার ৪ ছক্কার ইনিংসটি থামে ৫৩ রানে।

ইয়াং ফিরে গেলেও বাংলাদেশি বোলারদের তুলোধুনো করার কাজটা চালিয়ে যান কনয়ে ও গ্লেন ফিলিপস। ১৮ তম ওভারের শরিফুলের বলে আসে ১৮ রান। সাইফউদ্দিনের করা পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে লং অফে ফিলিপসের (৬ বলে ১৩ তখন) ক্যাচ মিস করেন সৌম্য সরকার। যদিও বেশ খানিকটা দূর থেকে দৌড়ে এসে বেশ কঠিন ক্যাচই নিতে হত তাকে। ওয়ানডে সিরিজের মত এই ম্যাচেও বেশ বাজে ফিল্ডিং প্রদর্শন করে টাইগাররা।

কনওয়ে-ফিলিপস ১৯ বলেই জুটির ফিফটি ছুঁয়েছেন। দুজনে অবিচ্ছেদ্য ছিলেন ৫২ রানের জুটিতে। কনওয়ের ব্যাট থেকে আসে ৫২ বলে ১১ চার ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৯২ রান। ১০ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ২৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ফিলিপস। টাইগারদের হয়ে ৩০ রানে ২ উইকেট নেওয়া নাসুম আহমেদই সেরা বোলার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম ইনিংস শেষে):

নিউজিল্যান্ড ২১০/৩ (২০), গাপটিল ৩৫, অ্যালেন ০, কনওয়ে ৯২*, ইয়াং ৫৩, ফিলিপস ২৪*; নাসুম ৪-০-৩০-২, মেহেদী ৪-০-৩৭-১।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

হ্যামিল্টনে আগে বোলিংয়ে বাংলাদেশ, দুই অভিষেক

Read Next

টি-টোয়েন্টিতেও একই হাল বাংলাদেশের

Total
3
Share