শুরুর ধাক্কা সামলে নিউজিল্যান্ডের রানের পাহাড়

শুরুর ধাক্কা সামলে নিউজিল্যান্ডের বড় সংগ্রহ

ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভ সমসময়ই কথা বলে বোলারদের হয়ে। যে মাঠে আজকের আগে ৩০০ পেরোনো দলীয় সংগ্রহ ছিল মাত্র একটি। এখানকার ঘাসে মোড়ানো সবুজ উইকেটে আগে ব্যাট করে প্রতিপক্ষের জন্য ২৫০ রানের আশেপাশে লক্ষ্য ছুঁড়ে দেওয়াটাই জয়ের জন্য যথেষ্ট। ১৯৮৯ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের ২৫৩ তাড়া করে জেতাটা এখনো রেকর্ড। ডেভন কনওয়ের -ড্যারিল মিচেলের জোড়া সেঞ্চুরিতে তৃতীয় ওয়ানডেতে আজ (২৬ মার্চ) বাংলাদেশের জন্য লক্ষ্যটা ৩১৯।

সবুজ উইকেট হলেও টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্তই নেন কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম। উইকেটের সুবিধা নিয়ে বাংলাদেশ পেসাররা অবশ্য শুরুতে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরে দলকে ভালো অবস্থানে রাখে। কিন্তু ক্রিজে টিকে থেকে ধীরে ধীরে সাবলীল ব্যাটিংয়ে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন চলমান সিরিজেই অভিষেক হওয়া কনওয়ে ও মিচেল। কনওয়ের ১২৬ রানের সাথে মিচেলের শেষ বলে পাওয়া রোমাঞ্চকর সেঞ্চুরি (১০০*) এসেছে ৯২ বলে।

৬ উইকেটে পাওয়া নিউজিল্যান্ডের ৩১৮ রান এই মাঠে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এর আগের রেকর্ডটিও নিউজিল্যান্ডেরই ছিল। ২০১৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে করেছিল ৭ উইকেটে ৩১৫।

নতুন বলে টাইগার পেসাররা দেখিয়েছেন ভেল্কি। বিশেষ করে তাসকিন আহমেদ ছিলেন দুর্দান্ত। তাসকিনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কিউদের ভোগানোর কাজটা করেন মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে তাসকিনের ভেতরে ঢোকানো পঞ্চম বলটিই জানান দেয় এখানে পেসার কতটা সাহায্য পেতে পারেন।

তবে টাইগার পেসারদের অস্বস্তি কাটিয়ে দ্রুতই ছন্দে ফেরার চেষ্টা কিউই দুই ওপেনারের। কিন্তু ৮ম ওভারেই দুর্দান্ত সব আউট সুইং নিয়ে হাজির তাসকিন। তাসকিন আর মুশফিকুর রহিম যেন ক্যাচ মিসের ক্ষেত্রে একই সুতোয় গাঁথা। আগের ম্যাচে জিমি নিশামের পর এদিনও তাসকিনের বলে হেনরি নিকোলসের দেওয়া সহজ ক্যাচ মিস করেন মুশফিক।

তবে পরের বলেই ফুল লেংথ থেকে করানো আউট সুইংয়ে গড়মিল করে গালিতে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি। ভাঙে ৪৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। ২১ বলে ১৮ রানেই থামতে হয় নিকোলসকে। পরের ওভারেই আঘাত রুবেলের। সিরিজে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা এই পেসারের অফ স্টাম্পের বাইরে দেওয়া শর্ট বলে পুল খেলতে গিয়ে এজ হয়ে মিড অনে লিটনের হাতে ধরা মার্টিন গাপটিল। ২৮ বলে ২৬ রান করে সাজঘরের পথ ধরতে হয় তাকে।

একদিক থেকে তাসকিনের গতির সাথে সুইংয়ের মিশেলে করা বলে অস্বস্তিতে কিউই ব্যাটসম্যানরা। অন্যদিকে যার পুরো ফায়দা লুটেছেন রুবেল। নিজের করা তৃতীয় ওভারেই চোট কাটিয়ে সিরিজে প্রথম খেলতে নামা অভিজ্ঞ রস টেইলরকে ফেরালেন। যদিও আউট হওয়ার দুই বল আগে মিড অনে টেইলরের সহজ ক্যাচ ফেলেন মুস্তাফিজ। ১ বল পরেই মুশফিকের ক্যাচে পরিণত করে তাকে ৭ রানেই আঁটকান রুবেল। নিউজিল্যান্ড পরিণত হয় বিনা উইকেটে ৪৪ থেকে ৫৭ রানে তিন উইকেটে। তাসকিনের করা ৭ ওভারের প্রথম স্পেল ৭-১-২৯-১।

এরপর অধিনায়ক টম ল্যাথাম ও ডেভন কনওয়ের ৬৩ রানের জুটিতে চাপ সামলে দেন আগের ম্যাচের পুনরাবৃত্তির আভাস। টাইগার বোলারদের সামলে সংগ্রহ বড় করার পথে হাঁটা দুজনের জুটি ভাঙে পার্ট টাইমার হিসেবে হাত ঘুরাতে আসা সৌম্য সরকারের প্রথম বলে। জমে যাওয়া জুটি ভাঙতে অধিনায়ক তামিমের কৌশল কাজে লাগে, সৌম্যের অনেকটা নিরীহ প্রকৃতির ডেলিভারিকে ড্রাইভ খেলার চেষ্টা ল্যাথামের। এইজ হয়ে পয়েন্টে দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হয় মেহেদী হাসান মিরাজের।

আগের ম্যাচে অপরাজিত সেঞ্চুরি হাঁকানো ল্যাথামের ব্যাট থেকে এদিন আসে ১৮ রান। ল্যাথাম ফিরে গেলেও আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ এই ম্যাচে পূরণ করার মিশনেই যেন নেমেছিলেন কনওয়ে। ড্যারিল মিচেলকে নিয়ে পঞ্চম উইকেট জুটিতে যোগ করেন ১৫৯ রান।

৫২ বলে ফিফটি ছোঁয়া কনওয়ে সেঞ্চুরিতে পোঁছান ৯৫ বলে। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার ওয়ানডেতে ব্যাটিং করতে নেমেই পেলেন সেঞ্চুরির দেখা। শেষ পর্যন্ত মুস্তাফিজের বলে আফিফ হোসেনকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন ১১০ বলে ১৭ চারে সাজানো ১২৬ রানের ইনিংস খেলে। অবশ্য তাসকিনের করা ৪৫ তম ওভারে শর্ট গাইন লেগে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ক্যাচ না ছাড়লে ফিরতেন ১০৫ রানেই।

কনওয়ের পর রুবেল দ্রুতই ফেরান জিমি নিশামকে (৪)। কিন্তু ততক্ষে তান্ডব শুরু করেন মিচেল। ৬৩ বলে ফিফটির দেখা পাওয়া মিচেল সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন রোমাঞ্চ ছড়িয়ে। মুস্তাফিজের করা শেষ ওভারে যখন স্ট্রাইকে তখন তার রান ৮৬ বলে ৮৩। টানা তিন বলে মুস্তাফিজকে চার মেরে পৌঁছান ৯৫ রানে। তৃতীয় বলটি নো হওয়াতে পরের বল ছিল ফ্রি হিট, লং অফে ঠেলে দিয়ে নিয়েছেন দুইরান। চতুর্থ বলে নিলেন সিঙ্গেল, পৌঁছালেন ৯৮ রানে।

পঞ্চম বলে মিচেল স্যান্টনার দ্রুত গতিতে নিলেন তিন রান। ফলে শেষ বলে স্ট্রাইকে থাকে ড্যরিল মিচেলের সেঞ্চুরির জন্য প্রয়োজন দুই রান। ঝুকিপূর্ণ হলেও দারুণভাবে প্রান্ত বদল করে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ম্যাচেই পেয়ে গেলেন সেঞ্চুরির দেখা। শেষ পর্যন্ত তার নামের পাশে লেখা ৯২ বলে ৯ চার ২ ছক্কায় অপরাজিত ১০০ রান। ৩ রানে অপরাজিত ছিলেন স্যান্টনার।

৭০ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সফল বোলার রুবেল হোসেন। একটি করে শিকার তাসকিন, মুস্তাফিজ ও সৌম্যের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম ইনিংস শেষে):

নিউজিল্যান্ড ৩১৮/৬ (৫০), গাপটিল ২৬, নিকোলস ১৮, কনওয়ে ১২৬, টেইলর ৭, ল্যাথাম ১৮, মিচেল ১০০*, নিশাম ৪, স্যান্টনার ৩*; তাসকিন ১০-১-৫২-১, সৌম্য ৮-০-৩৭-১, রুবেল ১০-১-৭০-৩, মুস্তাফিজ ১০-০-৮৭-১।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

লম্বা বিরতির পর আবার ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ

Read Next

শেষ ম্যাচেও বড় পরাজয়, হোয়াইটওয়াশ হল বাংলাদেশ

Total
7
Share